নেপালের (Nepal ) আকাশে-বাতাসে এখন শুধু বিপর্যয়ের ছবি। বুধবারের ভয়াবহ হড়পা বানের পর একের পর এক এলাকা কার্যত তছনছ।একের পর এক এলাকা জলের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত, বহু মানুষ নিখোঁজ। এমন পরিস্থিতিতে একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে—কে আগে সাহায্যের হাত বাড়াল? উত্তরটা বেশ স্পষ্ট। ভারত। বিপর্যয়ের পর অপেক্ষা না করে দ্রুত ত্রাণ নিয়ে নেপালের দিকে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। আর সেই তৎপরতাই এখন নজর কেড়েছে।
বুধবারের ভয়াবহ হড়পা বানের পর নেপালের (Nepal ) রাস্তা, সেতু, গ্রাম—বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয়ের ছাপ। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ভারত তিন দফায় মোট ৬২ টন জরুরি ত্রাণ কাঠমান্ডুতে পৌঁছে দিয়েছে।

আরও পড়ুন – কম বয়সে সিগারেটে সুখটান? নীরবেই বিকল হচ্ছে আপনার হার্ট!
প্রথম দফায় সি-১৩০জে বিমানে গিয়েছিল ১০ টন ত্রাণ। অস্থায়ী আশ্রয়, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী, সৌরবাতি ও ওষুধ ছিল সেই তালিকায়।
এর পর সি-১৭ বিমানে পৌঁছয় আরও ৩৭.৫ টন সাহায্য। তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী, সৌরবাতি থেকে শুরু করে জল বের করার পাম্প, রান্নার সরঞ্জাম ও জেনারেটর—সবই ছিল সেখানে। সঙ্গে ছিল ৮ টন ওষুধ এবং ১ টন খাদ্যসামগ্রী।
শুক্রবার আরও ১০ টন ত্রান সামগ্রী ও ১১ জনের মেডিকাল এবং টানেল উদ্ধারকারী টিম নিয়ে ভারতের তৃতীয় বিমান নেপালের (Nepal ) উদ্দেশে রওনা দেয়।

শুধু ত্রাণ পাঠিয়েই থেমে থাকেনি ভারত। নেপালের (Nepal ) প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিপর্যয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়ে নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। ভারতীয় দলগুলি উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে নেপালের সঙ্গে সমন্বয়ও করছে।

তবে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে আরও অনেক দেশ। চিন জরুরি সামগ্রী ও নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) দিয়েছে ১ কোটি ডলার। ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতি ৫০ লক্ষ পাউন্ড। অস্ট্রেলিয়া দিয়েছে ৫০ লক্ষ ডলারের মানবিক সহায়তা। দক্ষিণ কোরিয়া এবং শ্রীলঙ্কা দিয়েছে ১০ লক্ষ ডলার করে। আমেরিকা তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লক্ষ ডলারের সাহায্যের কথা জানিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank) প্রায় ১৬৩.৫৫ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা দিতে পারে। রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) জরুরি তহবিল থেকে ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ ডলার দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসও প্রায় ১০ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ সহায়তা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পাঠিয়েছে ওষুধ, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও তাঁবু।
২৬ অগস্ট নেপাল (Nepal ) -চিন সীমান্ত এলাকায় বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জল, কাদা, বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে রাস্তা, সেতু, গ্রাম-সহ বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৃত্যুর সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত নেপালে (Nepal ) অন্তত ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তিব্বতে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে ১,৯০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় এবং ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বলে জানা গিয়েছে। তিব্বতে এখনও ৫৫৪ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব অবশ্য নেপাল সাধারণভাবে গ্রহণ করেনি। কাঠমান্ডুর বক্তব্য, নিজেদের নিরাপত্তা সংস্থাই উদ্ধারকাজ সামলাতে সক্ষম।
আরও পড়ুন – বিকেলের খিদে? রান্নাঘরেই লুকিয়ে সমাধান

সব মিলিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে নেপালের (Nepal ) দিকে এখন গোটা বিশ্বের নজর। আর সেই নজরের মধ্যেই দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে ভারত দেখিয়ে দিল—প্রতিবেশীর বিপদে প্রথম সাড়া দেওয়ার জায়গাটা এখনও তাদেরই।
