শহরকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখার বার্তা আগেই দিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এবার সেই বার্তাকে আরও জোরালো করতে নিজেই ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নামলেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহরবাসীর কাছে পরিচ্ছন্ন বাংলা গড়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। ‘নির্মল বন্ধু’ ও ‘নির্মল সাথী’-দের সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পন্নামবলাম এস, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক।
এদিন মন্ত্রী নিজে ঝাঁটা হাতে রাস্তা পরিষ্কার করেন এবং দোকানদার ও সাধারণ মানুষকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আবেদন জানান।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি কড়া বার্তাও দেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড বা জনবহুল এলাকায় কেউ পানের পিক, প্লাস্টিক, বোতল বা অন্য কোনও আবর্জনা ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ছবি তুলে প্রমাণ সংগ্রহ করবেন এবং সেই ভিত্তিতে জরিমানার নোটিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে পাঠানো হবে। মন্ত্রী বলেন, “পান-পরাগ বা মশলা খেয়ে রাস্তায় কিংবা গাড়ি থেকে পিক ফেলে দেওয়া খুবই খারাপ অভ্যাস। এই নোংরা পরিষ্কার করতে নির্মল সাথী ও নির্মল বন্ধুদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছিল। সেই সময় বাড়ি বাড়ি বালতি বিতরণ নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান সরকার শহর ও গ্রামকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “পরিচ্ছন্ন বাংলা গড়তে শুধু প্রশাসন নয়, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং কেউ নিয়ম ভাঙলে রেয়াত করা হবে না।”
মন্ত্রীকে ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নেমে সচেতনতার বার্তা দিতে দেখে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।



