সোমনাথ থেকে কেদারনাথ, কাশী থেকে রামেশ্বরম—ভারতের (India)এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে মহাদেবের ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ (Mahadev Jyotirlinga)। বিশ্বাস, এই স্থানগুলিতেই জ্যোতিরূপে স্বয়ং শিব আজও বিরাজমান। তাই যুগ যুগ ধরে ভক্তদের কাছে জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন শুধু তীর্থযাত্রা নয়, আত্মিক শান্তি ও মুক্তির এক বিশেষ সাধনা।

গুজরাটের সোমনাথকে ধরা হয় প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ (Jyotirlinga), যেখানে চন্দ্রদেব শিবের আরাধনা করে অভিশাপমুক্ত হয়েছিলেন। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমে মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গে একসঙ্গে পূজিত হন শিব ও পার্বতী। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর সময় ও মৃত্যুর অধিপতি হিসেবে বিশেষ খ্যাত, আর ওঙ্কারেশ্বর বিখ্যাত তার পবিত্র ‘ওঁ’-আকৃতির দ্বীপের জন্য।
আরও পড়ুন – ঋষিকেশে নতুন রোমাঞ্চ, গঙ্গার উপর কাঁচের সেতু
উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ের কোলে অবস্থিত কেদারনাথ পাণ্ডবদের পাপমোচনের কাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মহারাষ্ট্রের ভীমাশঙ্কর শিবের অসুরবধের স্মৃতি বহন করে, আর নাসিকের ত্রিম্বকেশ্বর বিখ্যাত কারণ এখানে জ্যোতির্লিঙ্গে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীকী উপস্থিতি রয়েছে।
বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথকে শিবের চিরন্তন আবাস বলা হয়। বিশ্বাস, এখানে দর্শন ও প্রার্থনা মানুষকে মোক্ষের পথ দেখায়। ঝাড়খণ্ডের বৈদ্যনাথ ধাম শিবের আরোগ্যদাতা রূপের জন্য পরিচিত, যেখানে তিনি বৈদ্য বা চিকিৎসক হিসেবে পূজিত হন। গুজরাটের নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ আবার শিবের নাগেশ্বর বা সাপের অধিপতি রূপের প্রতীক।
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রামেশ্বরে রামনাথস্বামী রামায়ণের স্মৃতি বহন করে। বিশ্বাস,ব্রাহ্মণ এবং শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত রাবণকে হত্যা করার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে এখানেই শিবের পূজা করেছিলেন। যেহেতু সেখানে শিবের কোনো মন্দির ছিল না, তাই তিনি লিঙ্গটি আনার জন্য হনুমানকে শিবের বাসস্থান কৈলাস পর্বতে পাঠান।
কিন্তু, পূজার জন্য নির্ধারিত শুভ সময়ের আগে হনুমান ফিরতে না পারায়, সীতা বালি দিয়ে একটি লিঙ্গ তৈরি করেন – সেই রামলিঙ্গেরই পূজা করতেন রাম। আর মহারাষ্ট্রের ইলোরার কাছে অবস্থিত ঘৃশ্নেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ ১২টির মধ্যে শেষ হলেও ভক্তদের কাছে সমান শ্রদ্ধার।
আরও পড়ুন – ক্লান্তি, রাগ, বারবার অসুস্থতা—সবকিছুর নেপথ্যে কি ঘুমের অভাব? জেনে নিন শরীরের সতর্কবার্তা
আজকের দিনে ধর্মীয় পর্যটনের নতুন উত্থানের সঙ্গে ১২ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে। কেউ যান ভক্তি নিয়ে, কেউ ইতিহাসের টানে, আবার কেউ খোঁজেন মনের শান্তি। তবে বিশ্বাস একটাই—শিবের এই ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ শুধু মন্দির নয়, আস্থা, শক্তি ও আত্মিক মুক্তির বার্তা বহনকারী ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।



