২০১১ সালের জনগণনার (Census) হিসেবে দেশে সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুকের বাস ছিল পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু এ বার সেই হিসেব আর জনগণনা থেকে আলাদা ভাবে জানা যাবে না। কারণ, নতুন জনগণনার প্রশ্নমালা থেকে ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন কার্যকলাপ (নন-ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি)’ বিভাগের মধ্যে থাকা ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে’ শ্রেণিটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মুক্তির আগেই হঠাৎ কপিরাইট বিতর্কে ‘গান্ধারী’!
আধিকারিক সূত্রের দাবি, আগের জনগণনাগুলিতে এই বিভাগে খুব কম এবং নির্ভরযোগ্য নয় এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণেই এ বার আলাদা করে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষের তথ্য সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পিআইবি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনায় (Census) দেশে ৪ লক্ষের কিছু বেশি মানুষকে ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
২০১১ সালের আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জনগণনাতেও ‘নন-ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি’-র আওতায় পড়ুয়া, পেনশনভোগী, গৃহস্থালির কাজে যুক্ত ব্যক্তি এবং অন্যের উপর নির্ভরশীলদের পাশাপাশি ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের আলাদা শ্রেণিতে রাখা হত। নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের ‘অন্যান্য’ বিভাগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এর ফলে এ বার জনগণনার (Census) তথ্য থেকে দেশে মোট কত জন ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বয়স কত, কোন রাজ্যের বাসিন্দা বা তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী—এই তথ্যগুলি আলাদা ভাবে পাওয়া যাবে না।

সূত্রের দাবি, আগের জনগণনাগুলিতে (Census) পাওয়া ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের সংখ্যা বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণ প্রতিফলন ছিল না। সামাজিক কলঙ্কের আশঙ্কায় অনেকেই নিজেদের এই শ্রেণিতে নথিভুক্ত করতে চাইতেন না। ফলে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে গিয়েছিল। ১৯৯১ সালের জনগণনায় (Census) প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ এবং ২০০১ সালে ৬ লক্ষের কিছু বেশি মানুষকে এই বিভাগে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
২০১১ সালের জনগণনার (Census) হিসেব অনুযায়ী, ভিক্ষুকের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। সে সময় রাজ্যে ৮১ হাজার ২৪৪ জনকে ভিক্ষুক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তালিকায় পরের দিকে ছিল উত্তরপ্রদেশ, যেখানে সংখ্যাটি ছিল ৬৫ হাজার ৮৩৫। অন্ধ্রপ্রদেশে ৩০ হাজার ২১৮, বিহারে ২৯ হাজার ৭২৩ এবং মধ্যপ্রদেশে ২৮ হাজার ৬৯৫ জনকে এই শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: দীপিকা ‘আউট’, রণবীরের বিপরীতে নতুন মুখ! ‘ব্রহ্মাস্ত্র ২’ কাস্টিংয়ে বিরাট ধামাকা
তবে নতুন জনগণনায় (Census) ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে’ আলাদা বিভাগ না থাকায় এ বার কোন রাজ্যে এই সংখ্যার হার সবচেয়ে বেশি, সেই তুলনাও সরকারি জনগণনার তথ্য থেকে আর সরাসরি করা সম্ভব হবে না।
