Homeরাজ্যবদলাচ্ছে বিনোদন দুনিয়া? সরকারি হল বণ্টন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত!

বদলাচ্ছে বিনোদন দুনিয়া? সরকারি হল বণ্টন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত!

- Advertisement -spot_img

রাজ্যের রাজনৈতিক ক্যানভাসে বড়সড় ওলটপালট ঘটে গিয়েছে। আর এই পরিবর্তনের হাওয়া এবার এসে লেগেছে টলিপাড়া থেকে শুরু করে নাট্যজগতের অন্দরেও।

টলিউড ও সংস্কৃতি দুনিয়ার ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি গঠন করা হয়েছে একটি হাইপ্রোফাইল উপদেষ্টামণ্ডলী। যেখানে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মতো অরাজনৈতিক তারকারাও। তবে এই মুহূর্তে বিনোদন জগতের সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নাট্যদলগুলির সরকারি প্রেক্ষাগৃহ পাওয়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা। বছরের পর বছর ধরে থিয়েটার কর্মীদের অভিযোগ ছিল, সরকারি হল পেতে গেলে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হতে হয়। এই ‘হল-রাজনীতি’র অবসান ঘটাতে এবার এক অভিনব ডিজিটাল দাওয়াই নিয়ে এসেছেন বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন – আইফোন-ম্যাক কিনতে হলে গুনতে হবে বেশি দাম!

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রস্তাব, এবার থেকে সরকারি হলের বুকিং হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে। আর কোনো নেতা-মন্ত্রীর সুপারিশের প্রয়োজন পড়বে না। একটি কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোন হল কবে ফাঁকা রয়েছে, তা অনায়াসেই দেখতে পাবেন নাট্যকর্মীরা। শুধু তাই নয়, দর্শকদের সুবিধার্থে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির পরিকল্পনাও চলছে, যেখানে নাটক ও সিনেমার টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে সময়সূচির সমস্ত বিবরণ থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়িত করতে মাস তিনেক সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। রূপার এই ডিজিটাল রূপান্তরের স্বপ্নকে স্বাগত জানালেও, বাস্তবতার জমিতে দাঁড়িয়ে নাট্যজগতের বিশিষ্টদের প্রতিক্রিয়া কিন্তু বেশ মিশ্র। ‘নান্দীকার’-এর সোহিনী সেনগুপ্ত এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। অতীতে হল পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “এমন একটি স্বচ্ছ অ্যাপ বা ওয়েবসাইট হলে সত্যিই ভালো হবে। উৎকৃষ্ট শিল্পের বিকাশের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। নতুন পদ্ধতিতে বাংলা থিয়েটারের ভালো হলে আমরা খুশিই হব।”

অন্যদিকে, ‘স্বপ্নসন্ধানী’র কর্ণধার কৌশিক সেন এই প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি থিয়েটার মহলের ভেতরের নোংরা রাজনীতির দিকেও আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, ২০১২ সালে সরকারবিরোধী নাটক করার পর তাঁদের হল পেতে কালঘাম ছুটে গিয়েছিল। আর এর পেছনে শাসকদলের চেয়েও বেশি হাত ছিল নাট্যজগতেরই কিছু অতি-রাজনৈতিক বন্ধুদের। তাই ব্যবস্থার পাশাপাশি মানসিকতার বদলও জরুরি।

আরও পড়ুন – ক্যান্সার ঠেকাতে খাদ্যেই লুকিয়ে শক্তি!

তবে এই নতুন অ্যাপ-সংস্কৃতি নিয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না ‘চেতনা’র সুজন মুখোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ডিজিটাল ব্যবস্থা হলেও দিনের শেষে পর্দার আড়ালে কোনো মানুষই থাকবেন। তাই শুধু অ্যাপ নয়, প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ ‘ডেট কমিটি’ এবং নাট্য অ্যাকাডেমি, যেখানে রাজনীতিকদের বদলে থাকবেন প্রকৃত সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ।অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ অবশ্য আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, মানুষের প্রত্যাশা অনেক, তাই রাতারাতি কিছু না হলেও সবার সুবিধার্থেই যৌথভাবে একটি সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এখন দেখার, এই ডিজিটাল পালাবদল আগামী দিনে থিয়েটারের মঞ্চে কতটা স্বচ্ছতা আর সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
f
2,479
Facebook Followers
Follow
Must Read
Related News
spot_img