রথের রশিতে টান পড়তে আর বাকি মাত্র একটা দিন! (Jagannath Dev) আগামী ১৬ জুলাই মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রাজকীয় সফরে রওনা দেবেন বলভদ্র, সুভদ্রা ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নাথ—মহাপ্রভু জগন্নাথ। পুরী থেকে শুরু করে বাংলার ঘরে ঘরে এখন শুধু উৎসবের প্রস্তুতি।
আর জগন্নাথদেবের (Jagannath Dev) পুজো মানেই তো জিভে জল আনা মহাপ্রসাদ ‘ছপ্পন ভোগ’ বা ৫৬ রকমের রাজকীয় নৈবেদ্য। তবে জানেন কি, এই বিপুল আয়োজনের মধ্যেও মহাপ্রভুর এক্কেবারে খাস পছন্দের একটি পদ রয়েছে? যার নাম ‘কণিকা ভোগ’। ভক্তদের বিশ্বাস, রথের দিনে এই বিশেষ পদটি নিবেদন না করলে প্রভুর আরাধনাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়! অনেকে একে ওড়িয়া স্টাইলের মিষ্টি পোলাও বললেও, এর স্বাদ এবং রান্নার সাবেকি পদ্ধতি একে সাধারণ পোলাওয়ের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে। এটি পুরীর মন্দিরের আনন্দ বাজারের অন্যতম জনপ্রিয় মহাপ্রসাদ। খাঁটি ঘি, গুড় আর গোটা গরম মশলার যুগলবন্দিতে তৈরি এই মহাপ্রসাদ মুখে দিলেই এক অপার্থিব তৃপ্তি মেলে। রথযাত্রার পুণ্য লগ্নে আপনিও যদি ঘরে বসেই জগন্নাথদেবকে তাঁর প্রিয় এই পদটি উৎসর্গ করতে চান, তবে চলুন জেনে নিন এর সহজ ও চটজলদি রেসিপি।
আরও পড়ুন – Mobile Plan : Jio নাকি Airtel? কোন প্ল্যানে মিলছে বেশি সুবিধা!
খুব সাধারণ কিছু ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই তৈরি করে ফেলা যায় জগন্নাথ দেবের প্রিয় এই পদ:
- সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চাল (২ কাপ)
- খাঁটি গাওয়া ঘি (৪-৫ টেবিল চামচ)
- কুচানো গুড় বা গুড়ের রস (আধ কাপ)
- ৯-১০টি গোলমরিচ
- ১ টুকরো দারচিনি
- ৪-৫টি লবঙ্গ
- ৪টি ছোট এলাচ
- ১টি বড় এলাচ
- আধ চা চামচ জিরে
- এক মুঠো কাজুবাদাম ও কিশমিশ
- এক চিমটি নুন ও সামান্য দারচিনি গুঁড়ো
আরও পড়ুন – Ilish Paturi : বর্ষার দুপুরে ইলিশ পাতুরি! লাঞ্চ একেবারে জমজমাট!
রন্ধন প্রণালী:
প্রথমে চাল ভালো করে ধুয়ে ৩০ মিনিট মতো ভিজিয়ে রাখুন। তারপর জল ঝরিয়ে নিয়ে চালে সামান্য ঘি মাখিয়ে একপাশে রেখে দিন। এবার রান্নার পাত্রে ঘি গরম করে তাতে কাজু ও কিশমিশ হালকা ভেজে তুলে রাখুন। এরপর ওই পাত্রেই গরম ঘি -এ দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জিরে এবং গোলমরিচ দিয়ে মশলার মিষ্টি সুগন্ধ বেরোনো পর্যন্ত ভেজে নিন। ওই সুগন্ধি ঘিয়েই ভিজিয়ে ঘি মাখিয়ে রাখা চাল-টা দিয়ে মিনিট দুয়েক আলতো হাতে নেড়ে নিন। চালের রঙ একটু বদলাতেই ঢেলে দিন পরিমাণমতো গরম গরম জল ও এক চিমটি নুন।

তারপর পাত্রটি ঢাকা দিন এবং মাঝারি আঁচে রান্না করুন। চাল যখন প্রায় আশি শতাংশ সেদ্ধ হয়ে আসবে, তখন ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন গুড়ের কুচি বা রস। সঙ্গে দিন সামান্য দারচিনি গুঁড়ো এবং আগে থেকে ভেজে রাখা কাজু-কিশমিশ। সবটা ভালো করে মিশিয়ে আঁচ একদম কমিয়ে আরও কিছুক্ষণ ঢাকা দিয়ে রাখুন। জল শুকিয়ে চাল ঝরঝরে হয়ে এলে আঁচ বন্ধ করে মিনিট দশেক ঢাকা দিয়ে রাখলেই তৈরি ধোঁয়া ওঠা, ঝরঝরে অথচ নরম সুগন্ধি কণিকা ভোগ!
আরও পড়ুন – Hair Treatment : ঝলমলে চুলের নেশা, হেয়ার ট্রিটমেন্ট কি সত্যিই নিরাপদ?
রথের দিন দুপুরে তুলসী পাতা দিয়ে ঠাকুর থালায় সাজিয়ে দিন এই চমৎকার মহাপ্রসাদ। রাজকীয় স্বাদ আর মন মাতানো সুবাসে আপনার ঘরের পুজো হয়ে উঠবে ষোলোআনা সম্পূর্ণ।




