গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখার আগে একবার ভেবে দেখেছেন কি, আপনার সাধের চারচাকা বা দু-চাকার বৈধ ইনশিওরেন্স (Car Insurance) আছে তো?
ভাবছেন, ইনশিওরেন্স (Car Insurance) না থাকলে আর কী এমন হবে! বড়জোর রাস্তায় পুলিশের কাছে ধরা পড়লে একটা চালান কাটতে হবে। কিন্তু সেই দিন এবার অতীত হতে চলেছে। রাস্তায় যাতায়াতকে আরও সুরক্ষিত এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী পরিস্থিতিকে আরও সহজ করতে এবার ময়দানে নামল খোদ সুপ্রিম কোর্ট। দেশের পরিবহণ মন্ত্রক এবং ‘ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (IRDAI)-কে এমনই কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে শীর্ষ আদালত, যা আগামী দিনে ভারতের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাকে এক ধাক্কায় বেশ কয়েক বছর এগিয়ে দেবে।
পেট্রল পাম্পে গেলে জুটবে না জ্বালানি!
কল্পনা করুন, লম্বা ড্রাইভের মাঝে গাড়ির তেল ফুরিয়ে গেছে। আপনি সোজা গাড়ি ঢোকালেন পেট্রল পাম্পে। কিন্তু পাম্পের কর্মী নম্বর প্লেট স্ক্যান করেই আপনাকে জানিয়ে দিলেন, “স্যার, আপনার গাড়ির ভ্যালিড ইনশিওরেন্স (Car Insurance) নেই, তাই আপনাকে তেল দেওয়া সম্ভব নয়!” শুনতে অবাক লাগলেও, সুপ্রিম কোর্ট ঠিক এমনই একটি পাইলট প্রজেক্ট চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর ফলে পেট্রল বা ডিজেল কেনার আগে ইনশিওরেন্স (Car Insurance) থাকাটা কার্যত বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে। এতে যেমন ফাঁকিবাজির সুযোগ কমবে, তেমনই বাড়বে রাস্তায় গাড়ির নিরাপত্তা।
আরও পড়ুন: কালজয়ী ‘বড় ঘড়ি’! ১০০ বছরের অবিচল যাত্রার এক আবেগঘন গল্প
কেন এই অভাবনীয় প্রস্তাব?
পরিসংখ্যান দেখলে যে কেউ শিউরে উঠবেন। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০.৪ কোটি নথিভুক্ত গাড়ি রয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর মধ্যে ১৬.৫ কোটি (প্রায় ৫৬ শতাংশ) গাড়িরই কোনো বৈধ ইনশিওরেন্স (Car Insurance) নেই! প্রতিদিন দেশে গড়ে ৫০২ জন মানুষ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেও, বিমা না থাকার কারণে অধিকাংশ পরিবার ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়। এই মর্মান্তিক ছবিটা বদলাতেই বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চ এই কড়া অথচ আধুনিক পদক্ষেপের কথা ভেবেছে।

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে নজরদারিও হবে পুরোপুরি ডিজিটাল। সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাব দিয়েছে, দেশের হাইওয়েগুলোতে এমন আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হোক, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বাহন’ (VAHAN) অ্যাপের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সাঁই করে আপনার গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার সময়ই ক্যামেরা পড়ে ফেলবে নম্বর প্লেট। চোখের পলকে ডেটাবেস থেকে যাচাই হয়ে যাবে গাড়ির ইনশিওরেন্স (Car Insurance) আছে কি না। ইনশিওরেন্স (Car Insurance) ফেল হয়ে থাকলে, কোনো পুলিশের তাড়া করার দরকার নেই; সরাসরি আপনার মোবাইলে ঢুকে যাবে মোটা অঙ্কের ই-চালান! পাশাপাশি, ট্র্যাফিক পুলিশদের হাতেও বিশেষ স্ক্যানিং গ্যাজেট তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় যেকোনো গাড়ির নাড়িনক্ষত্র জেনে নেওয়া যায়।
নতুন ক্রেতাদের জন্য রয়েছে দুর্দান্ত সুখবরও!
যাঁরা নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের এই প্রস্তাবে লুকিয়ে আছে একটি দারুণ স্বস্তির খবর। বারবার ইনশিওরেন্স (Car Insurance) রিনিউ করার ঝামেলা কমাতে থার্ড-পার্টি ইনশিওরেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন চারচাকা কিনলে বিমার মেয়াদ ৩ বছরের বদলে একেবারে ৪ বছর এবং দু-চাকার ক্ষেত্রে তা ৫ বছরের বদলে একধাক্কায় ৬ বছর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, একবার গাড়ি কিনে ইনশিওরেন্স (Car Insurance) করালে টানা কয়েক বছর আপনি একেবারে নিশ্চিন্ত!
আরও পড়ুন: ১২ জ্যোতির্লিঙ্গ, দেশজুড়ে মহাদেবের মহিমা
মোটর ভেহিকল অ্যাক্ট (Motor Vehicles Act) অনুযায়ী, ইনশিওরেন্স (Car Insurance) ছাড়া গাড়ি চালানো এমনিতেই দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রথমবার ধরা পড়লে ২০০০ টাকা জরিমানা বা ৩ মাসের জেল হতে পারে। কিন্তু শুধু শাস্তির ভয় দেখিয়ে নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সুপ্রিম কোর্ট চাইছে দেশের প্রতিটি গাড়ি এবং তার আরোহীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ভারতের রাস্তা হয়ে উঠবে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুরক্ষিত এবং নিশ্চিন্ত। তাই আর দেরি না করে, আজই চেক করে নিন আপনার গাড়ির বিমার কাগজপত্র!



