Homeরাজ্যHowrah Station: কালজয়ী 'বড় ঘড়ি'! ১০০ বছরের অবিচল যাত্রার এক আবেগঘন গল্প

Howrah Station: কালজয়ী ‘বড় ঘড়ি’! ১০০ বছরের অবিচল যাত্রার এক আবেগঘন গল্প

- Advertisement -spot_img

হাওড়া স্টেশন ! (Howrah Station) এ যেন এক আস্ত শহর, যার কখনো ঘুম নেই। ট্রেনের তীক্ষ্ণ হুইসেল, কুলিদের হাঁকডাক, যাত্রীদের তাড়াহুড়ো আর অ্যানাউন্সমেন্টের ব্যস্ত কোলাহল—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সিম্ফনি। কিন্তু এই চরম ব্যস্ততার মাঝেও একটা জিনিস একেবারে শান্ত, অবিচল। একরাশ আভিজাত্য নিয়ে সে দাঁড়িয়ে আছে ঠিক প্ল্যাটফর্মের ওপর। সে আর কেউ নয়, হাওড়া স্টেশনের (Howrah Station) প্রাণের স্পন্দন—সেই আইকনিক ‘বড় ঘড়ি’। ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া এই জোড়া মুখের ঘড়িটি ২০২৬ সালে এসে পূর্ণ করল তার গৌরবের ১০০ বছর। এক শতাব্দীর এই অবিরাম যাত্রা শুধুই কি সময় মাপার? একেবারেই নয়। এ হলো কোটি কোটি মানুষের আবেগ, অপেক্ষা, বিরহ আর মিলনের এক জাদুকরী উপাখ্যান।

ইতিহাসের এক রাজকীয় সাক্ষী

সময়টা ১৯২৬ সাল। বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের কালো ধোঁয়ায় তখন আচ্ছন্ন রেলওয়ে। লন্ডনের বিখ্যাত ঘড়ি নির্মাতা ‘জেন্টস’ (Gent’s of London) কোম্পানির নিপুণ কারিগরিতে তৈরি হয় এই সুবিশাল ঘড়ি। তারপর তৎকালীন কলকাতার স্বনামধন্য ঘড়ি ব্যবসায়ী মেসার্স রায় ব্রাদার্সের দেবপ্রসাদ রায়ের হাত ধরে হাওড়া স্টেশনের (Howrah Station) বুকে স্থাপিত হয় এই ঘড়িটি। ভারী কাঠের ফ্রেমে আটকানো ঘড়ির ৪৫ ইঞ্চির বিশাল ডায়াল, ১৮ ইঞ্চির ঘণ্টার কাঁটা আর ২৪ ইঞ্চির মিনিটের কাঁটা—সব মিলিয়ে এক রাজকীয় ব্যাপার! জোড়া মুখের এই ঘড়ির একদিকে চোখ রাখে প্ল্যাটফর্ম ১ থেকে ৮-এর যাত্রীরা, আর অন্যদিকে মুখ করে থাকে ৯ থেকে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, দেশভাগ—ইতিহাসের কত বড় বড় যুগান্তকারী অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী এই ‘বড় ঘড়ি’।

আরও পড়ুন: কালো নন, সাদা রূপে পূজিত হন মা কালী! হুগলির এই মন্দিরের রহস্য জানেন?

এক চিরন্তন নির্ভরতার ঠিকানা

“বড় ঘড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকিস, আমি ঠিক পৌঁছে যাব।”—গত ১০০ বছর ধরে কত লাখো বাঙালির মুখে মুখে এই একটা লাইন ফিরেছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। স্মার্টফোন আর লাইভ লোকেশন শেয়ারিংয়ের এই যুগে দাঁড়িয়েও ‘বড় ঘড়ি’র জাদুকরী আবেদন এতটুকু কমেনি। এটি আর শুধু একটি যান্ত্রিক কাঠামো নেই, হয়ে উঠেছে গ্রাম থেকে শহরে আসা ভয় পাওয়া মানুষটির সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। হয়ে উঠেছে অগণিত মানুষের সবচেয়ে পরিচিত ‘মিটিং পয়েন্ট’।

হাওড়া স্টেশনের (Howrah Station) এই ঘড়ির নিচে দাঁড়িয়েই হয়তো কোনো প্রেমিক প্রথমবারের মতো তার ভালোবাসার মানুষের হাত ধরেছে। আবার এই ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়েই বুক ফাটা কান্নায় আপনজনকে বিদায় জানিয়েছে কেউ। প্রতিদিন প্রায় দশ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াত এই স্টেশনে, আর তাদের প্রত্যেকেরই অন্তত একবার চোখ যায় এই ঘড়ির দিকে। এ যেন এক অদ্ভুত মায়া!

শতবর্ষের গর্ব ও এক অবিচল স্পন্দন

যুগের অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। স্টিম ইঞ্জিন কবেই বিদায় নিয়েছে, এসেছে বন্দে ভারতের মতো অত্যাধুনিক গতির ট্রেন। হাওড়া স্টেশনের (Howrah Station) চেহারাও বদলেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে পরতে পরতে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ১৯২৬ সালে শুরু হওয়া সেই কাঁটার স্পন্দন আজও একইরকম নিখুঁত, একইরকম রাজকীয়। বয়সের কোনো ছাপই যেন পড়েনি তার গায়ে!

শতবর্ষ প্রাচীন এই ঘড়িটি শুধু আমাদের অতীত ঐতিহ্যকেই মনে করায় না, বরং মনে করিয়ে দেয় সময়ের এক অবিশ্বাস্য শক্তির কথা। কোটি কোটি পা ফেলা মানুষ আসে, মানুষ যায়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বদলে যায়—কিন্তু কিছু জিনিস রয়ে যায় চিরন্তন।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের জাদুকরী জগৎ! স্বপ্নে কি দেখলে খুলবে ভাগ্যের দুয়ার? জানুন রহস্য

হাওড়া স্টেশনের (Howrah Station) এই ‘বড় ঘড়ি’ আসলে সেই চিরন্তন কলকাতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একশো বছরের এই গৌরবময় জন্মদিনে দাঁড়িয়ে, ঘড়িটি যেন আজও আমাদের কানে কানে বলে যায়—”সময় বদলালেও, চিন্তা নেই, আমি আছি তোমাদের সবার অপেক্ষায়।”

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
f
2,556
Facebook Followers
Follow
Must Read
Related News
spot_img