HomeদেশOnion Prices: চিনির পর এবার পেঁয়াজে ‘আগুন’! এক মাসে দাম বাড়ল ৭৬%

Onion Prices: চিনির পর এবার পেঁয়াজে ‘আগুন’! এক মাসে দাম বাড়ল ৭৬%

চিনির দামের ঊর্ধ্বগতির পর এ বার পেঁয়াজের দাম (Onion Prices) নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। মহারাষ্ট্রের নাসিকের পাইকারি বাজারে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। দেশের কয়েকটি রাজ্যে পাইকারি দাম দ্বিগুণ হওয়ার খবরও মিলেছে। তবে পেঁয়াজের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং বাজারে জোগানের ঘাটতিই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সাধারণত অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম (Onion Prices) বাড়তে শুরু করে। এই সময়ে রবি মরশুমে উৎপাদিত পেঁয়াজের মজুত কমে যায়। অন্য দিকে, খরিফ মরশুমের নতুন পেঁয়াজ বাজারে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগে। এ বার বর্ষার অনিশ্চয়তার কারণে খরিফ পেঁয়াজের বপন দেরিতে হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে টানা ৪ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ! চিন্তায় গ্রাহকেরা

কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম?

দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে মূলত তিনটি কারণ উঠে আসছে।

  • খরিফ পেঁয়াজের চাষে দেরি: বর্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক জায়গায় খরিফ পেঁয়াজের বপন পিছিয়ে গিয়েছে। ফলে নতুন ফসল বাজারে আসতেও দেরি হচ্ছে।
  • রবি পেঁয়াজের মজুত কমেছে: রবি মরশুমের পেঁয়াজের মজুত ধীরে ধীরে শেষের দিকে। ফলে বাজারে সরবরাহও কমছে।
  • সরকারি সংগ্রহ কম: এ বছর সরকারের পেঁয়াজ সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়েছে। ফলে সরকারি বাফার স্টক থেকে বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহের সুযোগও সীমিত।

জোগানের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে মজুতদারদের একাংশ পেঁয়াজ ধরে রাখছেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় মজুত বাড়ানো হলে দামের উপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

নাসিকের পাইকারি বাজারে এক মাস আগে এক কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম (Onion Prices) ছিল প্রায় ২,০৫০ টাকা। ১৯ অগস্ট সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৭৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল। ২০ অগস্ট দাম ছিল ৩,৫৫১ টাকা এবং ২১ অগস্ট তা ফের ৩,৬০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে নাসিকের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম (Onion Prices) প্রায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।শুধু পাইকারি বাজার নয়, খুচরো বাজারেও পেঁয়াজের দাম (Onion Prices) বাড়ছে। ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ অগস্ট দেশের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের গড় দাম ছিল প্রতি কুইন্টালে ৩,৩৯৭ টাকা। খুচরো বাজারে গড় দাম দাঁড়ায় প্রতি কেজি ৪১.৬৪ টাকা।

এক মাস আগে দেশের গড় খুচরো দাম ছিল ৩৪.৯৫ টাকা প্রতি কেজি। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম (Onion Prices) প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে।

দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি বাফার স্টকে থাকা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে। যে সমস্ত শহরে পেঁয়াজের খুচরো দাম জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, সেখানে অতিরিক্ত পরিমাণে পেঁয়াজ পাঠানোর উপর জোর দেওয়া হতে পারে।

তবে এ বার সরকারি বাফার স্টকও তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে মজুতদারদের উপর চাপ তৈরি করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং একই সঙ্গে সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি দেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া নাসিক থেকে দিল্লি, চেন্নাই, কোচি ও গুয়াহাটির মতো শহরে পেঁয়াজ পাঠাতে বিশেষ ‘কান্দা এক্সপ্রেস’ চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানা গিয়েছে। এই শহরগুলিতে খুচরো পেঁয়াজের দাম (Onion Prices) জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি বলে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উৎপাদনের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে পেঁয়াজের সামগ্রিক উৎপাদনে বড়সড় ঘাটতি নেই। গত বছর দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৬৭ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর উৎপাদন আনুমানিক ৩ কোটি ৭ লাখ ৩৭ হাজার টন হতে পারে।

অর্থাৎ উৎপাদন মোটামুটি একই জায়গায় রয়েছে। মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে বাজারে নতুন ফসল পৌঁছনোর গতিতে। রবি পেঁয়াজের মজুত যখন কমে আসছে, ঠিক সেই সময় খরিফ পেঁয়াজ বাজারে ঢুকতে দেরি হওয়ায় সরবরাহে ফাঁক তৈরি হয়েছে। আর সেই ঘাটতির প্রভাবই পড়ছে দামে।

আরও পড়ুন: “পরিবারই আমার শেষ সত্য!” ‘দৃশ্যম ৩’-এ অজয় দেবগনের অন্তিম চাল, প্রকাশ্যে মুক্তির তারিখ

নাসিকের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের সংগঠনের সহ-সভাপতি বিকাশ সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সাধারণত বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ ছাড়ে। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকেই খুচরো দোকান ও বাজারে বাফার পেঁয়াজ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়েছিল। এ বার মজুত তুলনামূলক কম থাকায় পরিস্থিতি সামলাতে আরও সতর্ক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

Stay Connected
Must Read