নেপালে (Nepal) ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়। সেখানে কতজন ভারতীয় আটকে রয়েছেন বা নিখোঁজ, তাঁদের মধ্যে বাংলার কতজন রয়েছেন—তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিপর্যয়ের প্রভাব উত্তরবঙ্গে কতটা পড়তে পারে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। একইসঙ্গে পুজোর মুখে নেপালের এই বিপর্যয় বাংলার পর্যটন ব্যবসাতেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পুজোর মরসুমকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই নেপালের (Nepal) জন্য পর্যটকদের বুকিং শুরু হয়েছিল। কিন্তু হড়পা বানের ভয়াবহতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেই বুকিং বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন সংগঠনের কর্তা বাচ্চু চৌধুরীর কথায়, ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে নেপালের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল। পুজোর সময়ে নেপালে বাঙালি পর্যটকদের ভিড়ও থাকে যথেষ্ট। কিন্তু সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।
আরও পড়ুন – “একটি বুলেট, তিনটি জীবন”! পুজোর আগেই পর্দায় প্রীতমের নতুন চমক
তাঁর আশঙ্কা, নেপালে (Nepal) যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার পাশাপাশি অনেকে উত্তরবঙ্গ সফরের পরিকল্পনাও পিছিয়ে দিতে পারেন। কারণ নেপালের বিমানভাড়া অনেকটাই বেশি হওয়ায় পর্যটকদের বড় অংশ সড়কপথের উপর নির্ভর করেন। ভারত-নেপাল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ সচল থাকলেও এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের বেড়াতে যাওয়ার আগ্রহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

এদিকে নেপালে (Nepal) আটকে পড়া বা নিখোঁজ ভারতীয়দের নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। নেপাল টুরিজম বোর্ডের ডিজি রামচন্দ্র তেওয়ারি জানিয়েছেন, বহু ভারতীয়র খোঁজ এখনও মেলেনি। তবে কলকাতা বা বাংলার কোনও পর্যটক বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন কি না, এই মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বহু মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পর্যটকদের খোঁজ নিতে হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।
কলকাতায় নেপালের (Nepal) কনসাল জেনারেল ঝক্করপ্রসাদ আচারিয়াও নেপালের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নুয়াকোট ও ধান্দিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা হড়পা বানে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও তীর্থযাত্রার পথগুলিও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গোঁসাইকুণ্ডের ট্রেকিং রুট এবং মানস সরোবর যাত্রাপথের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুন – ‘টক্সিক’-এর প্রথম দিনেই ধামাকা
ফলে একদিকে নেপালে (Nepal) আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে পুজোর মরসুমে পর্যটন ব্যবসা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নেপালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনের পর্যটন পরিস্থিতি।
