প্রতিনিয়ত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ৫০০০০ হাজারের বেশি ক্যান্সার (cancer) কেস দেখা যায়। একেকটির এক এক রকম কারন। তবে এবার ক্যান্সারের বিপদটা মিশে থাকতে পারে বাতাসেই! রোজকার ব্যস্ততায় আমরা হয়তো টেরও পাচ্ছি না, কিন্তু যে বাতাসে দিনের পর দিন শ্বাস নিচ্ছি, তার মধ্যে থাকা অতি ক্ষুদ্র দূষিত কণাই দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় এবার বায়ুদূষণ ও ক্যান্সারের মধ্যে এমনই এক বিস্তৃত সম্পর্কের ছবি সামনে এসেছে।

দীর্ঘ ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক গবেষকদের দাবি, বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র PM2.5 কণার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৮.২ লাখ ক্যান্সার (cancer) কেসের সম্পর্ক থাকতে পারে। ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৯৫২টি এলাকার প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ ক্যানসার কেসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন – ‘স্ক্রিপ্ট না জেনেই পাশে ছিলে…’, ‘শুভ’-কে দেবের খোলা চিঠি
এতদিন বায়ুদূষণ বলতে মূলত ফুসফুসের সমস্যা, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের কথাই বেশি আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এই গবেষণার ফল সেই পরিচিত ছবিকে আরও বড় করে দেখাচ্ছে। গবেষকদের বিশ্লেষণে PM2.5-এর পাশাপাশি ওজোন এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সঙ্গেও ক্যান্সারের (cancer) সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে।
২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট প্রকাশিত গবেষণাটিতে ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৫২টি এলাকার তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। গবেষকদের নজরে ছিল তিনটি প্রধান বায়ুদূষক—PM2.5, ওজোন এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড বা NO₂। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার (cancer) কেসের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে PM2.5-এর ক্ষেত্রে।
PM2.5 হল ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে ছোট অতিক্ষুদ্র কণা। শ্বাসের সঙ্গে এই কণা শরীরের গভীরে পৌঁছতে পারে। গবেষণার হিসাবে, দীর্ঘমেয়াদি PM2.5 সংস্পর্শের সঙ্গে প্রায় ৮৮.২ লাখ ক্যানসার কেস সম্পর্কিত ছিল। বাতাসে PM2.5-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম বাড়ার সঙ্গে সব ধরনের ক্যান্সারের (cancer) ঝুঁকি গড়ে ১৬ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্পর্কও পাওয়া গিয়েছে।
NO₂ এবং ওজোনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সম্পর্ক দেখা গিয়েছে। প্রতি ঘনমিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম ঘনত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে NO₂-এর ক্ষেত্রে ক্যান্সারের (cancer) ঝুঁকি ১১.৭ শতাংশ এবং ওজোনের ক্ষেত্রে ৪.২৩ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়। গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, NO₂-এর সঙ্গে প্রায় ৬৬.৭ লাখ এবং ওজোনের সঙ্গে প্রায় ২৫.৯ লাখ ক্যানসার কেস সম্পর্কিত ছিল।

গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, PM2.5-এর সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ফুসফুস বা শ্বাসযন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শ্বাসযন্ত্রের পাশাপাশি প্রজনন ও অন্তঃস্রাবী ব্যবস্থার ক্যানসারের ক্ষেত্রেও দূষণের সম্ভাব্য প্রতিরোধযোগ্য অংশ তুলনামূলক বেশি ছিল।
তবে গবেষণার ফলকে ঘিরে আতঙ্কিত হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। এই গবেষণা সরাসরি প্রমাণ করেনি যে PM2.5-এর কারণেই ৮৮.২ লাখ মানুষের ক্যান্সার (cancer) হয়েছে। গবেষণাটি বিভিন্ন এলাকার বায়ুদূষণ ও ক্যানসারের তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির ক্যানসারের কারণ হিসেবে শুধু বায়ুদূষণকে দায়ী করা যায় না। বয়স, জিনগত কারণ, তামাক, জীবনযাপনসহ একাধিক বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন – পাবলিসিটি নয়, নিয়ম মেনে তারকাদের নোটিস! – মুন্ধে
তবু গবেষণার পরিসর যে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। প্রতিদিন যে বাতাসে শ্বাস নিচ্ছি, তার দূষণকে এতদিন মূলত শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা হিসেবেই দেখা হয়েছে। নতুন এই বিশ্লেষণ সেই ধারণার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাতাসে দূষণ কতটা, দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব কত দূর যেতে পারে, সেই আলোচনাই এবার আরও জোরালো হচ্ছে।
