Homeসুস্থ থাকুনDengue Symptoms: ডেঙ্গি মানেই শুধু জ্বর নয়! শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখলে আর...

Dengue Symptoms: ডেঙ্গি মানেই শুধু জ্বর নয়! শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখলে আর দেরি নয়

বর্ষার জমা জলে বাড়ছে ডেঙ্গির Dengue Symptoms বাহক এডিস মশার উপদ্রব। রাজ্যজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। হাসপাতালগুলিতেও বাড়ছে ডেঙ্গি Dengue Symptoms আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, অগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। ডেঙ্গিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ফলে রোগের প্রকোপ বাড়ার আগেই সতর্ক হওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, বৃষ্টির জল পাঁচ থেকে সাত দিন বা তার বেশি সময় জমে থাকলে সেখানেই এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে মশার সংখ্যা। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গির Dengue Symptoms প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে এ বছর আরও কয়েক মাস ডেঙ্গি ভোগাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কখন বেশি কামড়ায় ডেঙ্গির মশা?

ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশা মূলত দিনের বেলাতেই বেশি সক্রিয় থাকে। মেডিসিনের চিকিৎসক রণবীর ভৌমিকের মতে, সকাল ৮টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত এই মশার কামড়ানোর প্রবণতা বেশি।

তাঁর কথায়, সাধারণত পায়ের দিকেই এডিস মশার কামড় বেশি দেখা যায়। তাই মশার উৎপাত বেশি এমন এলাকায় সন্ধ্যার পর মশারি ব্যবহার করা ভাল। পাশাপাশি বাড়ির ভিতরে, ছাদে, বারান্দায় কিংবা আশপাশে কোথাও যাতে জল জমে না থাকে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার করাও জরুরি।

আরও পড়ুন – বেবি সানস্ক্রিনের ক্ষেত্রে এই ভুল একবারেই নয়

কী ভাবে ছড়ায় ডেঙ্গি?

ডেঙ্গি ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে এডিস মশাই প্রধান বাহক। কোনও ডেঙ্গি Dengue Symptoms আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত খাওয়ার পর মশার শরীরে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হতে পারে। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন পর সেই মশা কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে তাঁর শরীরে ডেঙ্গি ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে।

এ ছাড়াও ডেঙ্গি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত খাওয়ার পর মশা অন্য কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডেঙ্গি মানেই শুধু জ্বর বা প্লেটলেট কমে যাওয়া নয়

ডেঙ্গি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের একটি বড় ধারণা হল—জ্বর এবং প্লেটলেট কমে যাওয়া। কিন্তু রোগটি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসক রণবীর ভৌমিক জানাচ্ছেন, ডেঙ্গিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলির একটি হল লিভার।

শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ বা ভাইরাল লোড বেশি হলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। পেটে জল জমার পাশাপাশি প্লেটলেটের সংখ্যাও কমতে পারে। তবে শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দেখেই রোগের পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লিভার ফাংশন টেস্ট এবং পেটে জল জমছে কি না, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গি ভাইরাসের চরিত্রে পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। তবে রোগের উপসর্গে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বদলাচ্ছে স্থানীয় আবহাওয়ার চরিত্র। বৃষ্টির সময়ও আগের মতো নির্দিষ্ট থাকছে না। এই পরিবর্তিত আবহাওয়া এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

এর ফলে ডেঙ্গিতে একাধিক অঙ্গ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। জ্বরের পাশাপাশি খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, জন্ডিস কিংবা কিডনির সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জ্বর সেরে গেলেই কি বিপদ কেটে যায়?

ডেঙ্গির ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়া মানেই পুরোপুরি বিপদমুক্ত হওয়া নয়। বরং জ্বর সেরে যাওয়ার পরের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় রোগীকে বিশেষ নজরে রাখা প্রয়োজন।

ডেঙ্গিতে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। কোষগুলিতে পর্যাপ্ত জল না থাকলে বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র, লিভার-সহ একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

কোন কোন রক্তপরীক্ষা করা হয়?

জ্বর, পেট খারাপ কিংবা ডেঙ্গির মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

জ্বরের প্রথম দিকে সাধারণত NS1 অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়। অন্যদিকে, জ্বর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলে IgM অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হতে পারে।

এ ছাড়াও অনেক জায়গায় Nucleic Acid Amplification Test (NAAT) করা হয়। এটি আরটি-পিসিআর-এর মতো একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা সম্ভব।

শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

শিশুর জ্বর হলে শুধু তাপমাত্রার দিকে নজর রাখলেই হবে না। জ্বরের সঙ্গে গাঁটে ব্যথা, পেশিতে খিঁচুনি কিংবা শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, বাবা-মাকে খেয়াল রাখতে হবে। এমন কোনও লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গিতে শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে। জ্বরের সঙ্গে শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

আরও পড়ুন – সোমবার থেকেই বদলে যাবে আবহাওয়া! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা একাধিক জেলায়

ডেঙ্গি থেকে বাঁচতে কী করবেন?

  • বাড়ি ও আশপাশে কোথাও বৃষ্টির জল জমতে দেবেন না।
  • নিয়মিত ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য জল জমার জায়গা পরিষ্কার করুন।
  • মশার উৎপাত বেশি হলে মশারি ব্যবহার করুন।
  • পর্যাপ্ত জল পান করুন।
  • একসঙ্গে বেশি না খেয়ে বার বার অল্প করে খাবার খান।
  • সহজপাচ্য, ঘরে তৈরি হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডেঙ্গি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল মশার বংশবৃদ্ধির জায়গা তৈরি হতে না দেওয়া। তাই রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর নয়, বরং বর্ষার শুরু থেকেই জমা জল এবং মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

Stay Connected
Must Read