লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে তখন টানটান উত্তেজনা। মাঠের বাইরে রাজনৈতিক সংঘাত, কড়া ভিসানীতি আর বিক্ষোভকারীদের স্লোগান—সব কিছুকে এক পাশে সরিয়ে রেখে সবুজ গালিচায় কেবল ফুটবলের জয়গান গাইল ইরান।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-র ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। নাটকীয়তায় ঠাসা এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ হলো। কিউয়ি তারকা এলাইজা জাস্টের চোখ ধাঁধানো জোড়া গোল সত্ত্বেও জয় হাতছাড়া হলো নিউজিল্যান্ডের; অন্যদিকে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিল ইরান।
আরও পড়ুন – হুইলচেয়ারেও পরিচ্ছন্নতার নজির জাপানিদের
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় নিউজিল্যান্ড। খেলার মাত্র ৭ মিনিটে মাদারওয়েল ফরোয়ার্ড এলাইজা জাস্ট, ক্রিস উডের দুর্দান্ত এক পাস থেকে হাফ-ভলিতে বল জালে জড়িয়ে কিউয়িদের এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের ফিরে পায় ইরান। ৩১ মিনিটে ডান দিক থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণ ধরে গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রোকোম্বেকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান ইরানের রামিন রেজাইয়ান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
আরও পড়ুন – যুদ্ধাবস্থা পেরিয়ে শান্তির বার্তা: মুক্ত হচ্ছে হরমুজ, হাত মেলাচ্ছে ওয়াশিংটন-তেহরান
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও দেখা যায় একই রোমাঞ্চ। ৫৪ মিনিটে আবারও ক্লিক করে উড-জাস্ট জুটি। ক্রিস উডের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে নিউজিল্যান্ডকে আবারও চালকের আসনে বসান এলাইজা জাস্ট। তবে ইরানের ফুটবলাররা যে সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নন, তা তারা প্রমাণ করেন ৬৩ মিনিটে। রামিন রেজাইয়ানের এক নিখুঁত ক্রস থেকে মোহাম্মদ মোহেব্বির চমৎকার হেডার পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ২-২ গোলে সমতায় ফেরে ম্যাচ। শেষ মুহূর্তে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও আর কোনো গোল আসেনি। পুরো ম্যাচে ইরান ১৭টি এবং নিউজিল্যান্ড ১৪টি শট নেয়, যা ম্যাচটির তীব্র গতিশীলতার প্রমাণ দেয়। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘জি’-এর সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। কারণ অন্য ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশরও ১-১ গোলে ড্র করেছে, যার ফলে গ্রুপের চারটি দলেরই ঝুলিতে এখন ১ পয়েন্ট।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইরানের এই ম্যাচটি ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। সমস্ত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে তাদের এই লড়াকু ড্র যেন কেবল ফুটবল ম্যাচ নয়, এক অনন্য প্রত্যাঘাতের গল্প।



