কাশি কমানোর সিরাপ বা কাফ সিরাপ কেনার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও ধরনের কাফ সিরাপ কেনা যাবে না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রকাশিত নতুন গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন – NEET পরীক্ষাকে ঘিরে কড়া পদক্ষেপ, ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ Telegram
গত ৯ জুন কেন্দ্রীয় সরকার ‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’-এ সংশোধন এনে ‘শিডিউল কে’ তালিকা থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দিয়েছে। ‘শিডিউল কে’-তে সাধারণত এমন কিছু ওষুধের উল্লেখ থাকে, যেগুলি নির্দিষ্ট কিছু শর্তে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধের দোকান থেকে বিক্রি করা যায় এবং যেগুলির ক্ষেত্রে কিছু নিয়মে ছাড় দেওয়া থাকে। নতুন সংশোধনের ফলে কাফ সিরাপ আর সেই সুবিধার আওতায় থাকবে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড’-এর সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০’-এর ১২ ও ৩৩ নম্বর ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিবর্তন কার্যকর করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই সংশোধনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও আপত্তি না আসায় তা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল।

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক উদ্বেগজনক ঘটনা। ২০২৫ সালে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে দূষিত কাশি কমানোর সিরাপ সেবনের ফলে প্রায় ২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে উঠে আসে, ওই সিরাপগুলিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোলের উপস্থিতি ছিল। এর আগে উজবেকিস্তান-সহ একাধিক দেশে ভারতে উৎপাদিত ত্রুটিপূর্ণ বা দূষিত সিরাপ সেবনের পর শিশু মৃত্যুর ঘটনাও আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আরও পড়ুন – হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে ছিল অবসাদ, সঞ্চিতার অকালমৃত্যুতে কাঠগড়ায় গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড!
সরকারের মতে, প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করার ফলে ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমবে এবং রোগীদের নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে। বিশেষজ্ঞদেরও মত, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কাফ সিরাপ সেবনের প্রবণতা রোধে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


