Bengal Youth Film Festival 2026: বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জেন-জি প্রজন্ম। নতুন প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা একাধিক বার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই কলকাতায় আয়োজন করা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের নিয়ে বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসব-‘বেঙ্গল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ (Bengal Youth Film Festival 2026) । আগামী ২৮ অগস্ট থেকে শুরু হবে এই চলচ্চিত্র উৎসব। চলবে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত। কলকাতার নন্দনে আয়োজিত এই উৎসবে মূলত ৪০ বছরের কম বয়সি পরিচালকদের তৈরি ছবি প্রদর্শিত হবে। নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে সামনে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর ‘সাদা চাদর’! অ্যালবেডো হ্রাসের ধাক্কায় মহাবিপদে মানবজাতি?
দিল্লিতে জেন-জি আন্দোলন শুরু হওয়ার ঠিক আগে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, নতুন প্রজন্মকে চলচ্চিত্র জগতে আরও বেশি করে উৎসাহিত করা এবং তাঁদের কাজের সুযোগ তৈরি করাও সেই আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল।
এই ‘বেঙ্গল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ (Bengal Youth Film Festival 2026)-এর কমিটির পেট্রন করা হয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের পরিচালক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও ভিডিও বার্তায় নতুন প্রতিভাদের উৎসাহিত করে বলেন, ভালো কাজ করছেন এমন শিল্পীদের সুযোগ করে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এ বিষয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বহু প্রতিভাবান পরিচালক রয়েছেন, যাঁদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে তাঁরা যথাযথ সুযোগ পান না। তাঁদের জন্যই এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন। নন্দনে এসে ভালো ভালো ছবি দেখার জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই ‘বেঙ্গল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ (Bengal Youth Film Festival 2026)-এর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রয়াত চিত্রপরিচালক দেবকীকুমার বসুকে সম্মান জানানো। চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির সভাপতি প্রীতম সরকার জানিয়েছেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে দেবকীকুমার বসুর অবদান নতুন করে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। আয়োজকদের দাবি, ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির পরিকল্পনা প্রথমে দেবকীকুমার বসুরই ছিল। এই বিষয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর কথাবার্তা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত সত্যজিৎ রায় ছবিটি নির্মাণ করেন। সময়ের সঙ্গে দেবকীকুমার বসুর অবদান নতুন প্রজন্মের স্মৃতি থেকে অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা। তাই চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে তাঁকে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হবে।
আরও পড়ুন: মন্ত্রীদের সরকারি বাংলো সংস্কারে ৯২ কোটি, প্রকাশ্যে আরটিআই রিপোর্ট
উল্লেখ্য, ২৬ অগস্ট ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তি পেয়েছিল। সেই সময়ের কাছাকাছি দিনেই নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নিয়ে এই ‘বেঙ্গল ইউথ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ (Bengal Youth Film Festival 2026) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এক দিকে জেন-জি পরিচালকদের জন্য নতুন মঞ্চ, অন্য দিকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা—দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটছে এই উৎসবে।
