HomeবিনোদনBigg Boss Bangla: ‘দুর্গ জয়, সহজ নয়’! ‘বিগ বস বাংলা’র সেই দুর্গযাত্রা...

Bigg Boss Bangla: ‘দুর্গ জয়, সহজ নয়’! ‘বিগ বস বাংলা’র সেই দুর্গযাত্রা কি সত্যিই দুর্গম?

‘দুর্গ জয়, সহজ নয়’—প্রচার শুরুর দিন থেকেই ‘বিগ বস বাংলা’র Bigg Boss Bangla এই ক্যাপশন কৌতূহল বাড়িয়েছে দর্শকের। গোরেগাঁও ফিল্ম সিটিতে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট কার্পেট এরিয়া জুড়ে তৈরি হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’র Bigg Boss Bangla সুবিশাল বাড়ি। লিভিং এরিয়া থেকে কিচেন, সুসজ্জিত বেডরুম, একাধিক ওয়াশরুম, ব্যালকনি, সুইমিং পুল, প্লে জোন, জিম—সব মিলিয়ে যেন বিলাসবহুল এক বাড়ি। বাইরে থেকে দেখলে আরামের ঠিকানা মনে হলেও, এই বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে ৯০ দিন কাটানো যে মোটেই সহজ নয়, সেটাই ‘বিগ বস’-এর আসল পরীক্ষা।

এই সেটের নেপথ্যে রয়েছেন ‘বিগ বস’-এর Bigg Boss Bangla বরাবরের সেট ডিজাইনার শ্যাম ভাটিয়া। তাঁর কথায়, এ বার সেটটিকে কিছুটা আলাদা ভাবে সাজানোর চেষ্টা হয়েছে। বাংলার দর্শকের পছন্দ এবং কলকাতার বাড়ির আদল মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে অন্দরসজ্জা। সবুজ বাগান, ব্যালকনি এবং ঘরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ঢোকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রতিযোগীরা যাতে জায়গাটিকে একেবারে নিজের বাড়ির মতো মনে করেন।

তবে বাড়িটি যতই আরামদায়ক হোক, নজরদারির ক্ষেত্রে কোনও ফাঁক নেই। প্রায় ৮০টি ক্যামেরা দিন-রাত প্রতিযোগীদের উপর নজর রাখবে। কে কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, কার সঙ্গে কী কথা বলছেন—সবটাই থাকবে ক্যামেরার নজরে। তার সঙ্গে রয়েছে ‘বিগ বস’-এর Bigg Boss Bangla কণ্ঠস্বর, যা প্রয়োজনমতো নির্দেশ দেবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে।

আরও পড়ুন – ডেঙ্গি মানেই শুধু জ্বর নয়! শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখলে আর দেরি নয়

এই সেটে প্রবেশের অভিজ্ঞতাও যেন প্রতিযোগীদের মতোই। ভিতরে ঢোকার আগে ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, ঘড়ি-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সরিয়ে রাখা হয়েছে। বদলে দেওয়া হয়েছে বিশেষ মাইক্রোফোন, যা সেটের ক্যামেরার সঙ্গে সংযুক্ত। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিসর এখানে প্রায় নেই বললেই চলে।

এ বার ‘বিগ বস বাংলা’র Bigg Boss Bangla ঘরে দেখা যাবে বিভিন্ন পেশার ১৫ জন প্রতিযোগীকে। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে গায়ক, ফুটবলার, ব্যবসায়ী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার—তালিকায় রয়েছে নানা ক্ষেত্রের পরিচিত মুখ। রয়েছেন মনামী ঘোষ, ভরত কল, দুর্নিবার সাহা, সোহিনী পাল, নন্দিনী দত্ত, দীপেন্দু বিশ্বাস, তনুশ্রী রায় দাস, নিরঞ্জন মণ্ডল, অনিন্দ্য সেনগুপ্ত, সায়ক চক্রবর্তী, জয়িতা চট্টোপাধ্যায়, আলেকজান্দ্রা টেলর, সোনামণি সাহা, সৃজলা গুহ এবং ঝিলম গুপ্ত। তালিকায় শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ছিল এবং গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের প্রোমোতে তাঁকে এক ঝলক দেখেও দর্শকের কৌতূহল বেড়েছিল।

‘যাহা বলিব জোরে বলিব, ফিসফিস করে কিছুই বলিব না’—‘বিগ বস’-এর Bigg Boss Bangla ঘরের এই নিয়ম নতুন নয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, টেলিভিশনের পর্দায় যা দেখা যায়, তার সবটাই কি বাস্তব? ক্যামেরার সামনে প্রতিযোগীরা কি সত্যিই নিজেদের মতো করে থাকেন? নাকি শুটিংয়ের ফাঁকে বা ক্যামেরার ‘কাট’-এর মধ্যে নিয়মের কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটে? এই প্রশ্নগুলিই দীর্ঘদিন ধরে ‘বিগ বস’-এর Bigg Boss Bangla ফর্ম্যাট নিয়ে দর্শকের মনে ঘুরপাক খায়।

একটি ঘরের মধ্যে প্রায় তিন মাস পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব এবং বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা সহজ নয়। মোবাইল নেই, ব্যক্তিগত যোগাযোগ নেই, নিজের মতো করে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই। ফলে মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং প্রতিযোগিতার উত্তেজনা—সবকিছুর মধ্যেই নিজেদের সামলে রাখাটাই প্রতিযোগীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

এই চ্যালেঞ্জ সামলানোর দায়িত্ব অনেকটাই সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাঁধে। কালো কুর্তা-পায়জামায় রাজকীয় এন্ট্রি নিয়েছেন ‘মহারাজ’। সবুজ মাঠের বাইরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত সৌরভ। ফলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তাঁর কাছে নতুন নয়। কিন্তু ‘বিগ বস বাংলা’র সঞ্চালকের ভূমিকা তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে আলাদা অভিজ্ঞতা।

সৌরভের কথাতেও উঠে এসেছে এই শোর কঠিন দিক। তাঁর মতে, মোবাইল ছাড়া এবং সূর্যের আলো না দেখে এতগুলি দিন একটি ঘরের মধ্যে কাটানো সহজ ব্যাপার নয়। শো শুরুর আগে অন্যান্য ভাষার ‘বিগ বস’-ও দেখেছেন তিনি। নতুন কোনও কাজ শুরুর আগে নিজের মতো করে প্রস্তুতি নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে তাঁর। তবে সঞ্চালনার পাশাপাশি প্রতিযোগীদের লড়াই দেখার জন্যও তিনি যথেষ্ট উৎসাহিত।

আরও পড়ুন –আধার জেরক্সের দিন শেষ! হোটেল চেক-ইনে আসছে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন

আর এই ‘বিগ বস’-এর ঘরেই প্রতিযোগীদের মেনে চলতে হবে একাধিক নিয়ম। প্রত্যেককে নিজের ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে হবে। প্রতিযোগিতার উত্তেজনা যতই বাড়ুক, কাউকে শারীরিক ভাবে আঘাত করা যাবে না। এমন কোনও ঘটনা ঘটলে তার বিচার করবেন ‘বিগ বস’ Bigg Boss Bangla। ঘরের কোনও জিনিস ভাঙলেও দিতে হবে জবাবদিহি। সবচেয়ে বড় নিয়ম—প্রতিযোগিতা থেকে বাদ না পড়া পর্যন্ত ঘরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অর্থাৎ বাইরে থেকে যতই ঝলমলে, আরামদায়ক এবং বিলাসবহুল মনে হোক, ‘বিগ বস বাংলা’র এই বাড়ি আসলে ১৫ জন প্রতিযোগীর জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। ক্যামেরার সামনে নিজেদের আবেগ, রাগ, সম্পর্ক এবং প্রতিযোগিতার চাপ সামলে টিকে থাকাই হবে আসল লড়াই। তাই ‘দুর্গ জয়, সহজ নয়’—এ শুধু প্রচারের লাইন, নাকি সত্যিই এই দুর্গের প্রতিটি ধাপ পেরোনো কঠিন, তার উত্তর দেবে আগামী দিনের ‘বিগ বস বাংলা’।

Stay Connected
Must Read