আর মাত্র চার মাস! তারপরই মহাকাশের পথে পাড়ি দিতে পারে ভারতের গগনযান (Gaganyaan)। তবে এবারও কোনও মহাকাশচারী থাকছেন না। মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটাই সেরে নিতে চাইছে ইসরো (ISRO)। জাতীয় মহাকাশ দিবসের অনুষ্ঠানে ইসরো চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণনের ঘোষণায় তাই নতুন করে গতি পেল ভারতের বহু প্রতীক্ষিত মানব মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতি।

২০২৬ সালে এখনও সফল উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো/ISRO)। নারায়ণন জানিয়েছেন, গগনযান (Gaganyaan) প্রকল্পের প্রথম মানবহীন অভিযান (Un-crewed Mission) আগামী চার মাসের মধ্যেই করার লক্ষ্য রয়েছে। এই অভিযানে কোনও মানুষ থাকবেন না। আসলে মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর আগে রকেট ও মহাকাশযানের গোটা ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, সেটাই যাচাই করা হবে। এতদিনের প্রস্তুতি যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইসরো চেয়ারম্যান। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন – বুকিংয়েই ঝড়, ৪৮ ঘণ্টায় ১৮ কোটির ঘরে ‘Toxic’!

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মহাকাশচারীদের নিয়ে গগনযান (Gaganyaan) পাঠানোর আগে মোট তিনটি মানবহীন অভিযান করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। অর্থাৎ প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হলেও সামনে আরও পরীক্ষা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলেই তার পর আসবে মানুষকে নিয়ে মূল অভিযান। আর সেই কারণেই আগামী চার মাসের এই উৎক্ষেপণকে ঘিরে এতটা আগ্রহ।
এদিকে গগনযানকে (Gaganyaan) সামনে রেখেই চলতি অর্থবর্ষে ইসরোর ঝুলিতে রয়েছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। এই সময়ের মধ্যে ১২টি উপগ্রহ (Satellite) তৈরি করার পাশাপাশি আটটি উৎক্ষেপণযান অভিযান (Launch Vehicle Mission) চালানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে এর মধ্যেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পরপর দু’টি ব্যর্থতার পর পিএসএলভি (PSLV)-র উৎক্ষেপণ আপাতত বন্ধ রয়েছে। ফের উড়ানোর আগে মাটিতে একাধিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তবে ইসরোর চিন্তা শুধু আগামী চার মাস নিয়ে নয়। দেশের মহাকাশ-চাহিদা যে দ্রুত বাড়ছে, সেটাও স্পষ্ট করেছেন নারায়ণন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে ৫৬টি মহাকাশ সম্পদ। কিন্তু আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রয়োজন হতে পারে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি উপগ্রহ। শুধু সরকারি ব্যবস্থায় এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তিনি।
সেখানেই বেসরকারি সংস্থা ও স্টার্ট-আপগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২০ সালের মহাকাশ ক্ষেত্রের সংস্কারের পর দেশে প্রায় ৪৪০টি স্পেস স্টার্ট-আপ (Space Start-up) তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরো চেয়ারম্যান। স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের ‘বিক্রম-১’ রকেটের সফল কক্ষপথ অভিযানকেও তিনি বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
আর ভারতের নজর এখন শুধু পৃথিবীর কক্ষপথে আটকে নেই। চন্দ্রযান-৪ ও চন্দ্রযান-৫-এর প্রস্তুতি চলছে। রয়েছে শুক্রগ্রহ অভিযান এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে অবতরণের পরিকল্পনাও। ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজেদের মহাকাশ স্টেশন তৈরির লক্ষ্যও রয়েছে ভারতের। আগামী ছয়-সাত বছরে শিল্পক্ষেত্র ও স্টার্ট-আপের সাহায্যে ৩০০-র বেশি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে ইসরো।
আরও পড়ুন – চুলের ফ্যাশন! বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

তাই গগনযানের (Gaganyaan) আগামী চার মাসের পরীক্ষা শুধু আর একটি উৎক্ষেপণ নয়। এর সাফল্যের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে ভারত কবে সত্যিই নিজের মহাকাশযানে করে মহাকাশচারী পাঠানোর স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ করতে পারবে।
