HomeদেশISRO Rocket Launch Costs: বিশ্বের সবচেয়ে দামি রকেট এখন ভারতের! কেমব্রিজের রিপোর্টে...

ISRO Rocket Launch Costs: বিশ্বের সবচেয়ে দামি রকেট এখন ভারতের! কেমব্রিজের রিপোর্টে শোরগোল

ISRO Rocket Launch Costs: মহাকাশ গবেষণায় ভারত মানেই ‘কম খরচে বাজিমাত’—এটাই আমাদের দীর্ঘদিনের গর্ব। ২০১৪ সালে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, আহমেদাবাদে অটো ভাড়ার চেয়েও সস্তায় ভারত মঙ্গলগ্রহে পৌঁছেছে! কিন্তু সম্প্রতি ইউরোপের দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় ভারতের রকেট উৎক্ষেপণের খরচ নিয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ইসরোর (ISRO) চিরাচরিত ভাবমূর্তিকে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

তৃতীয় ‘জাতীয় মহাকাশ দিবস’ বা ন্যাশনাল স্পেস ডে-তে যখন গোটা দেশ চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্য এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উৎসবে মেতেছে, ঠিক তখনই ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Cambridge) এবং ইতালির পলিটেকনিকো ডি তোরিনো (Politecnico di Torino)-এর গবেষক আলেসিও তেরজি এবং ফ্রান্সেস্কো নিকোলির এক পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র দাবি করছে— মহাকাশে প্রতি কিলোগ্রাম পেলোড পাঠাতে ভারতের খরচ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি!

ISRO

আরও পড়ুন: বুকিংয়েই ঝড়, ৪৮ ঘণ্টায় ১৮ কোটির ঘরে ‘Toxic’!

মিথ ভাঙল কেমব্রিজ স্টাডি: সস্তার ইসরো কি এখন সবচেয়ে দামি?

বহু দশক ধরে বিশ্বজুড়ে ইসরো (ISRO) ‘ফ্রুগাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা মিতব্যয়ী প্রযুক্তির এক আদর্শ উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গর্ব করে বলেছিলেন, “আহমেদাবাদে অটো ভাড়া কিলোমিটারে ১০ টাকা, আর আমাদের মঙ্গলযান মঙ্গলে পৌঁছেছে কিলোমিটারে মাত্র ৭ টাকা খরচে!” কিন্তু ২০২৬ সালের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পলিটেকনিকো ডি তোরিনো-এর গবেষকদের রিপোর্ট বলছে অন্য কথা।

ISRO

প্রখ্যাত এলসেভিয়ার জার্নাল ‘ইকোনমিকস লেটার্স’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬,৭৪০টিরও বেশি রকেট লঞ্চের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি কিলোগ্রাম পেলোড মহাকাশে পাঠাতে ভারতের খরচ আমেরিকার চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি!

এক নজরে বিশ্বের রকেট লঞ্চের খরচ (প্রতি কিলোগ্রাম, ২০২৫ সালের হিসেবে):

  • বিশ্বের গড় খরচ: ৩,৮৬৮ ডলার
  • আমেরিকা: ৩,২২৫ ডলার (সবচেয়ে সস্তা)
  • জাপান: ৫,২৮৭ ডলার
  • চীন: ৫,৮০৯ ডলার
  • রাশিয়া: ৬,৬২২ ডলার
  • ইউরোপ: ৯,৮৯৭ ডলার
  • ভারত: ১৩,৩০২ ডলার (সবচেয়ে দামি!)

কেন ভারতের খরচ এত বেশি?

গবেষকদের মতে, এর মূল কারণ হলো রকেটের আকার, পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির অভাব এবং লঞ্চের সংখ্যা। ভারতের লঞ্চ ভেহিকেলগুলো মূলত ছোট আকারের পেলোড বহন করে, ফলে রকেট তৈরির বিপুল স্থায়ী খরচ খুব কম কিলোগ্রামের ওপর ভাগ হয়। এছাড়া আমেরিকা যেখানে এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX)-এর ফ্যালকন ৯ রকেটের সাহায্যে পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে বিপ্লব এনেছে, ভারত সেখানে এখনও পিছিয়ে।

ISRO

স্পেসএক্স ২০২৫ সালে একাই ১৬৫টির মতো লঞ্চ করেছে, যেখানে ইসরো তার ৫৭ বছরের ইতিহাসে মোট লঞ্চ করেছে মাত্র ১০৫টি! বারবার রকেট ব্যবহার করার ফলে আমেরিকার খরচ অভাবনীয়ভাবে কমে গিয়েছে, যার ফলে বর্তমানে বিশ্বের মোট পেলোডের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ একাই মহাকাশে পাঠাচ্ছে আমেরিকা।

ISRO

মহাকাশের নতুন ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’?

গবেষক আলেসিও তেরজি একটি চমকপ্রদ এবং ভীতিকর ভবিষ্যতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটিমাত্র প্রাইভেট কোম্পানি (SpaceX)-এর ওপর বিশ্বের এই নির্ভরশীলতা আগামী দিনে আমেরিকার হাতে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার বা দরকষাকষির অস্ত্র তুলে দিতে পারে। তেরজি স্পেসএক্স-কে মহাকাশ অর্থনীতির নতুন ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন। কৌশলগত দিক থেকে আত্মনির্ভর হতে চাওয়া ভারতের কাছে এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।

কী বলছে ইসরো?

ইসরোর (ISRO) বিজ্ঞানীরা অবশ্য এই দাবি পুরোপুরি মেনে নিতে নারাজ। ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ ভি নারায়ণন স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই গবেষণায় “ভুল ডেটা” ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে আরবিআই বোর্ডের সদস্য ডঃ এস সোমনাথ জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ‘প্রতি কিলোগ্রাম খরচ’ দিয়ে পুরো চিত্রটা বোঝা সম্ভব নয়।

ISRO

ডঃ সোমনাথের মতে, স্পেসএক্সের খরচ কম হওয়ার কারণ তাদের বিশাল স্কেল, তবে তারা সেই কম খরচের সুবিধা অন্য দেশকে দেয় না, নিজেদের কাজেই লাগায়। ভারতের ৪.৫ টনের মহাকাশযান লঞ্চ করতে আমেরিকার কাছে যা খরচ হতো, ভারতের নিজস্ব এলভিএম-৩ (LVM-3) রকেটেও খরচ প্রায় একই। ফলে গ্লোবাল মার্কেটে ভারত এখনও প্রতিযোগিতামূলক জায়গাতেই রয়েছে।

তাছাড়া, আন্তর্জাতিক স্তরে লঞ্চের খরচের তুলনা করা কঠিন, কারণ ভারতের মহাকাশ অভিযানের অর্থনৈতিক হিসেব বেশ জটিল। সরকারি রকেট লঞ্চের কোনো ইন্স্যুরেন্স থাকে না, এবং ভারতের বিজ্ঞানীরা একসাথে একাধিক প্রজেক্টে কাজ করেন বলে আলাদা করে কোনো একটি প্রজেক্টের সঠিক খরচ বের করা অত্যন্ত কঠিন।

ISRO

আগামীর দিশা: চাই নতুন উড়ান

এই রিপোর্টকে ইসরোর ওপর আক্রমণ হিসেবে না দেখে একটি সতর্কবার্তা বা ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে দেখা উচিত। আগামী এক দশকে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিকে ৮-৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে দেশ। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে গেলে শুধু বাজেট বাঁচিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করলে চলবে না, প্রয়োজন প্রযুক্তির আমূল পরিবর্তন।

ইতিমধ্যেই ভারতের প্রাইভেট স্পেস কোম্পানি স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) কমার্শিয়াল মার্কেটে জায়গা করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ইসরো তৈরি করছে ‘নেক্সট জেনারেশন লঞ্চ ভেহিকেল’ (NGLV), যা আগামী দিনে পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: বয়সের কাঁটাকে বুড়ো আঙুল! ২৫ বছরের তরুণ ক্রীড়াবিদ হতে ঘাম ঝরাচ্ছেন ৬১-র আমির

মহাকাশের লড়াইয়ে জিততে গেলে এখন আর শুধু আবেগ দিয়ে কাজ হবে না। চাই উদ্ভাবন, বিশাল স্কেল এবং রকেটের পুনর্ব্যবহার। ইসরো বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা সীমিত বাজেটেও অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। যেদিন ভারতের নিজস্ব পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট মহাকাশের বুক চিরে আবার পৃথিবীর মাটিতে ফিরে আসবে, সেদিন হয়তো মহাকাশ বাণিজ্যের হিসেবটাও পুরোপুরি বদলে যাবে!

Stay Connected
Must Read