Homeসুস্থ থাকুনDengue: জ্বর নয়, পেটের ব্যথাতেই লুকিয়ে মৃত্যুফাঁদ! টিকা আসার আগেই ঘনাচ্ছে কালো...

Dengue: জ্বর নয়, পেটের ব্যথাতেই লুকিয়ে মৃত্যুফাঁদ! টিকা আসার আগেই ঘনাচ্ছে কালো মেঘ

- Advertisement -spot_img

টিকার জন্য যখন গোটা দেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ঠিক তখনই নিঃশব্দে সারা দেশে নতুন করে জাল বিস্তার করছে ডেঙ্গি (Dengue)। প্রতিষেধকের অনুমোদন মিললেও তা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছতে এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি। আর এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়েই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। দেশ জুড়ে ডেঙ্গি (Dengue) ভাইরাসের ‘সেরোটাইপ ম্যাপিং’ বা প্রজাতির গতিবিধি নিরীক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দেশের অন্তত আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একই সঙ্গে তাণ্ডব চালাচ্ছে ডেঙ্গির চারটি ভিন্ন প্রজাতি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, গবেষকরা এই অবস্থাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

চার মারণ-রূপ: কতটা ভয়ংকর?

করোনার সময় ভাইরাসের রূপ বুঝতে যেমন জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হত, ঠিক তেমনই ডেঙ্গির (Dengue) গতিপ্রকৃতি বুঝতে আইসিএমআর (ICMR) এই ‘ডেঙ্গি-সেরোটাইপিং’ (Dengue Serotyping) করেছে। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের চারটি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন— ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪।

ডেন-১ ও ডেন-৩: এই দুই প্রজাতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ক্ষতিকারক। এতে আক্রান্ত হলে রোগীর অবস্থা চট করে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায় না।

ডেন-২ ও ডেন-৪: এই দুই প্রজাতিই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। আইসিএমআর (ICMR)-এর রিপোর্ট বলছে, এই প্রজাতিগুলি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করেছে। এমনকি কিছু দুর্ভাগ্যবান রোগীর শরীরে একই সঙ্গে একাধিক প্রজাতির যুগপৎ সংক্রমণও ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

আরও পড়ুন: Cervical Cancer রুখতে আশার আলো দেখছে ভারত !

বদলেছে লক্ষণ: সাধারণ পেটখারাপ ভেবে ভুল করছেন না তো?

আগে ডেঙ্গির (Dengue) চেনা লক্ষণ বলতে আমরা বুঝতাম— ধুম জ্বর, গায়ে র‍্যাশ, চোখের পিছনে ব্যথা বা জলশূন্যতা। কিন্তু বর্তমানের ডেঙ্গি (Dengue) যেন এক বহুরূপী ঘাতক!
এখন জ্বর আসার অনেক আগে থেকেই শুরু হচ্ছে পেটে তীব্র যন্ত্রণা, পেট ফাঁপা, খিদে কমে যাওয়া, বারে বারে বমি বা ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা। অনেকেই একে সাধারণ ‘গ্যাস-অম্বল’ বা ফুড পয়জনিং ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে সময় নষ্ট করছেন। আর এই ভুলেই চিকিৎসায় মারাত্মক দেরি হয়ে যাচ্ছে। কারণ, সাধারণ জ্বরের আড়ালে থাকা এই ভাইরাস ততক্ষণে রোগীর লিভার, হার্ট, পিত্তথলি ও পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে।

দ্বিতীয় ধাক্কা ও মাল্টি-অরগ্যান ফেলিওর

চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি সতর্ক করছেন ডেঙ্গির (Dengue) ‘রি-ইনফেকশন’ বা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়া নিয়ে। একবার ডেঙ্গি থেকে সেরে ওঠার পর ফের যদি কেউ এই ভাইরাসের শিকার হন, তবে তার ‘মাল্টি-অরগ্যান ফেলিওর’ (Multiple organ failure) বা শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
এক্ষেত্রে রোগীর শরীরের ভিতরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। রক্তনালি ছিদ্র হয়ে রক্ত ও প্লাজমা বেরিয়ে চারপাশের কোষে গিয়ে জমা হতে থাকে। এর ফলে ফুসফুস ও পেটে দ্রুত জল জমে যায় এবং রোগীর প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এই পরিস্থিতি মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

সময় আর ঋতুর তোয়াক্কা নেই

ভুলে যান সেই পুরনো ধারণা যে, “কেবল বর্ষাকালেই মশা বাড়ে।” আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এডিস মশা (Aedes) এখন সারা বছরের এক স্থায়ী বিপদ। তাই কেবল বর্ষাকাল নয়, শীত বা গরম— যে কোনও সময়েই এর প্রকোপ বাড়তে পারে।

সচেতনতাই যখন একমাত্র ঢাল

যেহেতু টিকা আসতে এখনও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে, তাই সন্দেহজনক কোনও লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়।
জ্বর বা পেটের সমস্যার শুরুতে দ্রুত ‘এনএস১ অ্যান্টিজেন’ (NS1 Antigen) টেস্ট করান। ভাইরাসের প্রজাতি এবং সংক্রমণের অতীত ইতিহাস বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘আইজিএম’ (IgM) এবং ‘আইজিজি’ (IgG) অ্যান্টিবডি পরীক্ষাও করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: পাহাড়ি উপত্যকায় প্রেমের ঠিকানা: বাস্তবে কোথায় এই ‘মুসাফির ক্যাফে’?

সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। জ্বর বা পেটের গোলমালকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়াই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন এবং মশার বংশবিস্তার রুখে দিয়ে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
f
2,556
Facebook Followers
Follow
Must Read
Related News
spot_img