Healthy Food: খাবার টেবিলে প্লেটে সবজি দেখলেই ছোটদের মুখ ভার? মা-বাবা হিসেবে একটি দৃশ্য আমাদের সবার কাছেই খুব পরিচিত— সযত্নে বানানো ফ্রায়েড রাইস বা চাউমিন থেকে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে গাজর, বিনস বা ক্যাপসিকামের কুচিগুলো বেছে বেছে থালার একপাশে সরিয়ে রাখছে খুদে! শত বকাঝকা, রাগ বা অভিমান, কিছুতেই যেন কাজ হয় না। সবজি দেখলেই তাদের জ্বর আসে। কিন্তু একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি জানেন, এই বয়সে স্বাস্থ্যকর খাবার (Healthy Food) ও শাকসবজি না খেলে তাদের শরীরের অপরিহার্য ভিটামিন, ফাইবার ও খনিজের অভাব কিছুতেই পূরণ হবে না।

আরও পড়ুন: তিন পদেই জমজমাট ওনামের ভোজ
কেন শিশুদের সবজি খাওয়া এতটা জরুরি?
বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার (Healthy Food) ও সবুজ শাকসবজি হলো জাদুকরী ওষুধের মতো। সবজিতে থাকা আয়রন, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন ভিটামিন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, চোখের জ্যোতি তীক্ষ্ণ করে এবং মস্তিষ্কের সঠিক গঠনে সাহায্য করে। সবজি না খেলে শিশুদের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

কিন্তু ছোটদের তো আর পুষ্টিগুণের হিসেব বুঝিয়ে লাভ নেই! তারা বোঝে স্বাদ আর চোখের সৌন্দর্য। তাই জোর করে বা বকাঝকা করে নয়, এবার তাদের মন জয় করুন একটু বুদ্ধির জোরে। রন্ধনশিল্পীরা বলছেন, খাবার নিয়ে একটু কৌশল করলেই এই যুদ্ধে জেতা সম্ভব। আসুন জেনে নিই সেই জাদুকরী ৩টি কৌশল, যেখানে সবজি থাকবে, কিন্তু খুদেরা টেরই পাবে না!

১. ম্যাজিক মিক্সড ভেজ কাটলেট:
আপনার সন্তান কি বাইরের ফাস্ট ফুড ভালোবাসে? তবে তাকে স্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুডই বানিয়ে দিন! সেদ্ধ আলু, লাল টুকটুকে বিট এবং গাজর মিহি করে গ্রেট করে নিন। এর সঙ্গে মেশান স্বাদমতো নুন, সামান্য কাঁচালঙ্কা কুচি (বাচ্চা ঝাল না খেলে দেবেন না), ধনেপাতার কুচি, একটু ভাজা মশলা এবং বাইন্ডিংয়ের জন্য পরিমাণমতো বিস্কুটের গুঁড়ো। সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে সুন্দর কাটলেট বা বার্গার প্যাটির আকার দিন। তাওয়ায় সামান্য তেল ব্রাশ করে উল্টেপাল্টে লালচে করে সেঁকে নিন। টিফিন বাক্সে টম্যাটো কেচাপ বা মেয়নিজের সঙ্গে এই কাটলেট দিলে, নিমেষেই তা সাবাড় হয়ে যাবে।

২. সুপারহিরো লাল পরোটা:
বাচ্চারা রংচঙে জিনিস খুব ভালোবাসে। সাধারণ রুটি বা পরোটা তাদের কাছে একঘেয়ে মনে হতে পারে। তাই লাল শাক ভালো করে ভাপিয়ে, জল ঝরিয়ে মিক্সার গ্রাইন্ডারে পেস্ট করে নিন। এবার আটার সঙ্গে সামান্য তেল (ময়ান), নুন এবং ওই লাল শাকের পেস্ট দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। তৈরি হয়ে গেল সুন্দর লাল রঙের ডো!
স্বাদ বাড়াতে এর ভেতরে গ্রেট করা পনির, সামান্য ভাজা মশলা ও ধনেপাতার পুর ভরে গোল করে বেলে নিন। সাদা তেলে বা ঘিয়ে সেঁকে নিন এই লাল পরোটা। অদ্ভুত সুন্দর রঙের কারণে বাচ্চারা নিজেরাই আগ্রহী হয়ে খাবে, আর এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা পনির ও শাকের পুষ্টি সোজা পৌঁছবে তাদের শরীরে।

৩. রেনবো অমলেট রোল:
ডিম খেতে বেশিরভাগ বাচ্চাই ভালোবাসে। এই সুযোগটাই কাজে লাগান। গাজর, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ বা ক্যাপসিকাম একদম মিহি করে কুচিয়ে বা গ্রেট করে নিন। এবার ডিমের সঙ্গে সেই সবজি, নুন এবং গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। প্যানে বড় করে গোল অমলেট বানিয়ে, সেটি প্যানের মধ্যেই রোল করে নিন। এবার পিস পিস করে কেটে শসা ও সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন। ডিমের স্বাদে সবজির উপস্থিতি খুদেরা টেরই পাবে না!
আরও পড়ুন: ট্রোলারদের মুখে কুলুপ! ২ সন্তানকে পাশে রেখে কার হাত ধরলেন অর্জুন?
সন্তানকে খাওয়ানো কোনো শাস্তির বিষয় নয়, বরং এটি একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত। খাবারের স্বাদ ও চেহারায় একটু নতুনত্ব আনলে, আর পরিবেশন করার সময় একটু গল্প জুড়ে দিলে, দেখবেন সবজি খাওয়ার এই নিত্যদিনের যুদ্ধটা আপনি সহজেই জয় করে ফেলেছেন। আজই এই কৌশলগুলো প্রয়োগ করে দেখুন, আর সন্তানের মুখে হাসি ফোটান!
