Arjun Rampal: বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় প্রেমের সংজ্ঞা বারবার বদলায়, কিন্তু ভালোবাসার টান যদি খাঁটি হয়, তবে সামাজিক ট্রোলিং কিংবা নিয়মের বেড়াজাল ফিকে হয়ে যায়। বহু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সম্পন্ন হলো অর্জুন রামপালের (Arjun Rampal) বিয়ে। দীর্ঘ আট বছরের লাইভ-ইন সম্পর্কের পর প্রেমিকা গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেসের সঙ্গেই জীবনের এক নতুন ও সুন্দর অধ্যায় শুরু করলেন বলিউডের এই ড্যাশিং তারকা।

আরও পড়ুন: চার্জ ফুরোনোর দিন শেষ! দুর্দান্ত ক্যামেরা ও বিশাল ব্যাটারি নিয়ে হাজির vivo-এর নতুন ফোন
বলিপাড়ার তথাকথিত জমকালো বা কোটি টাকার বিয়ের প্রদর্শনীর ট্রেন্ড ভেঙে একদম নিরিবিলিতেই কাজটা সেরে ফেললেন এই তারকা যুগল। মুম্বইয়ের চেনা জাঁকজমক থেকে দূরে, গোয়ার সৈকত শহরে গিয়ে আইনি মতে রেজিস্ট্রি বিয়ে করেছেন তাঁরা। সেখানকার বারদেজ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে খুব সাধারণ পোশাকে, একেবারেই নিকট কিছু মানুষের উপস্থিতিতে সই-সাবুদ সেরে এক হলেন অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলা।

২০১৮ সালে প্রথম স্ত্রী মেহর জেসিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার পর থেকে গ্যাব্রিয়েলার হাত ধরেছিলেন অর্জুন (Arjun Rampal) । দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে আট-আটটি বছর। এই দীর্ঘ পথচলায় শুধুই ভালোবাসা গভীর হয়নি, তাঁদের কোল আলো করে এসেছে দুই ফুটফুটে সন্তান— বড় ছেলে অরিক এবং ছোট ছেলে আরিভ। কিন্তু সমাজ কি সবটা সহজে মেনে নেয়? বিয়ের আগেই মা হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত তীব্র কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকান মডেল গ্যাব্রিয়েলাকে। এমনকী “দেশের যুবসমাজকে নষ্ট করার” অপবাদও শুনতে হয়েছিল তাঁকে।

তবে কোনো বিষাক্ত ট্রোলকেই নিজেদের সম্পর্কের মাঝে আসতে দেননি এই কাপল। এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন (Arjun Rampal) বলেছিলেন, “বিয়ে তো শুধুই একটা কাগজের টুকরো, মনে মনে তো আমরা বহু আগেই বিবাহিত”। অবশেষে সঠিক সময়ে সেই মানসিক বন্ধনকেই আইনি স্বীকৃতি দিয়ে সমস্ত সমালোচনার যোগ্য জবাব দিলেন অর্জুন-গ্যাব্রিয়েলা। কিছুদিন আগেই এক পডকাস্টে অর্জুন (Arjun Rampal) নিজের বাগদানের কথা বললেও বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছিলেন চূড়ান্ত গোপনীয়তা।

আরও পড়ুন: কড়াইয়ের স্বাদ, কুকারে আসে না কেন?
অর্জুন (Arjun Rampal) ও গ্যাব্রিয়েলার এই প্রেমের পথচলা শেখায়— সম্পর্কের আসল শক্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা। সমাজের হাজারো প্রশ্ন আর কটাক্ষকে জয় করে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই নতুন জীবনের আইনি পথচলা শুরু করলেন তাঁরা। নদীর মতো বয়ে চলা তাঁদের এই মিষ্টি প্রেমে সিলমোহর পড়ে প্রমাণ হলো— লোকলজ্জা নয়, দিনশেষে জয় হয় খাঁটি অনুভূতিরই।
