Homeসুস্থ থাকুনKnow the risks of hair styling: চুলের ফ্যাশন! বিপদ ডেকে আনছেন না...

Know the risks of hair styling: চুলের ফ্যাশন! বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

পুজোর আর বেশি দেরি নেই। নতুন শাড়ি, নতুন জামা, মেকআপের সঙ্গে চুলেও চাই একেবারে পারফেক্ট স্টাইলিং (Hair styling)। তাই স্যালনে ভিড় বাড়ছে—স্ট্রেটনিং, স্মুথনিং, রিবন্ডিং, হেয়ার কালার, কেরাটিন ট্রিটমেন্ট, সঙ্গে হরেক রকম হিট স্টাইলিং। কিন্তু আয়নার সামনে চকচকে, ঝকঝকে চুল দেখে যে সিদ্ধান্তটা নেওয়া হচ্ছে, তার দামটা কি পরে চুলকেই দিতে হবে? পুজোর সাজে চুল সুন্দর করার এই দৌড় আসলে কতটা নিরাপদ?

Know the risks of hair styling

চুলের স্বাভাবিক গঠন বারবার রাসায়নিক বা অতিরিক্ত তাপ দিয়ে বদলানোর চেষ্টা করলে(Hair styling) ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে। ডার্মাটোলজিস্ট ডাঃ কৌশিক লাহিড়ীর কথায়, “প্রকৃতি আপনাকে যে ধরনের চুল দিয়েছে, সেটাকেই ভালোবাসুন। চুলের স্বাভাবিক গঠনকে জোর করে বদলাতে গেলে তার মূল্য অনেক সময় চুলকেই দিতে হয়।”

আরও পড়ুন – বয়সের কাঁটাকে বুড়ো আঙুল! ২৫ বছরের তরুণ ক্রীড়াবিদ হতে ঘাম ঝরাচ্ছেন ৬১-র আমির

স্ট্রেটনিং-রিবন্ডিংয়ে আসল সমস্যা কোথায়?

চুলের আকৃতি অনেকটাই নির্ভর করে কেরাটিন প্রোটিনের গঠন এবং তার রাসায়নিক বন্ধনের উপর। রিবন্ডিং বা স্থায়ী স্ট্রেটনিংয়ে রাসায়নিক ব্যবহার করে চুলের স্বাভাবিক গঠন বদলানো হয়। চুলের কেরাটিনের মধ্যে থাকা ডাইসালফাইড বন্ড ভেঙে ও পুনর্গঠন করে চুলকে নির্দিষ্ট আকারে রাখা হয়। ফলে চুল সাময়িকভাবে দেখতে অনেক মসৃণ ও সোজা হলেও চুলের শ্যাফ্ট দুর্বল, শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। বারবার এই ধরনের রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট(Hair styling) করলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

আর এখানেই একটা মজার ব্যাপার। স্ট্রেটনিং করানোর পর যে চুলটা সোজা দেখছেন, সেটা সারাজীবনের জন্য বদলে যাচ্ছে না। নতুন চুল গজালে সেটি আবার আপনার স্বাভাবিক টেক্সচার নিয়েই বেরোবে। একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি—এতে(Hair styling) সাধারণত চুলের গোড়ার তুলনায় চুলের বাইরের অংশই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে অনেক সময় মনে হয় চুল পড়ছে, অথচ আসলে চুল ভেঙে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের টান, রাসায়নিকের অপব্যবহার বা স্ক্যাল্পে সমস্যা হলে চুলের ফলিকলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্মুথনিং কি তাহলে নিরাপদ?

‘স্মুথনিং’ বা ‘কেরাটিন’ (Hair styling) নাম শুনেই সেটিকে ক্ষতিহীন ভাবার কারণ নেই। কিছু হেয়ার-স্মুথনিং প্রোডাক্টে ফর্মালডিহাইড বা উত্তাপে ফর্মালডিহাইড ছাড়ে এমন উপাদান থাকতে পারে। FDA জানিয়েছে, এমন প্রোডাক্ট গরম করার সময় নির্গত ফর্মালডিহাইড চোখ, নাক, গলা ও ফুসফুসে জ্বালা তৈরি করতে পারে এবং ত্বকে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

তাই পুজোর আগে স্যালনে গিয়ে শুধু “কী করলে(Hair styling) চুল সবচেয়ে সোজা হবে?” না ভেবে “কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার হচ্ছে, তার উপাদান কী?”—সেটাও জানা দরকার।

পুজোর আগে কালার? করুন, তবে বুঝে

চুলে রং করা(Hair styling) মানেই চুল নষ্ট—এমন নয়। কিন্তু ঘনঘন কালার করা বা ব্লিচ করে চুলের রং অনেকটা হালকা করার চেষ্টা করলে চুল বেশি শুষ্ক ও ভঙ্গুর হতে পারে। তার সঙ্গে কারও কারও হেয়ার ডাই থেকে চুলকানি, জ্বালা, লালচে ভাব বা ফোলা বা অ্যালার্জিও হতে পারে।তাই নতুন রং করার আগে শুধু “কোন শেডটা আমাকে বেশি মানাবে?” নয়, “এই প্রোডাক্টটা আমার স্ক্যাল্প ও চুলের জন্য ঠিক আছে তো?”—এই প্রশ্নটাও জরুরি।

একদিনের স্টাইলিং আর সারাবছরের অভ্যাস এক নয়

পুজোর অষ্টমীর দিন একটু কার্ল, নবমীর দিন স্ট্রেট—এমন মাঝেমধ্যে হিট স্টাইলিং(Hair styling) আর প্রতিদিন উচ্চ তাপে চুল সাজানো এক কথা নয়। স্ট্রেটনার, কার্লিং আয়রন বা অতিরিক্ত তাপ নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।

ডাঃ লাহিড়ীর বক্তব্যও পরিষ্কার—“ফ্যাশন করুন, কিন্তু বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে নয়।”তাই পুজোর আগে একসঙ্গে ব্লিচ, কালার, স্ট্রেটনিং বা একাধিক কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট না করাই ভালো। চুলে বা স্ক্যাল্পে আগে থেকেই সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন – ‘স্পিরিট’–এ দীপিকার ‘না’-এর নেপথ্যে অন্য কারণ!

সবশেষে কথাটা খুব সহজ। পুজোর সাজে চুল সুন্দর লাগুক, সেটা নিশ্চয়ই চাই। কিন্তু দু’সপ্তাহের চকচকে লুকের জন্য যদি চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করতে হয়, তাহলে একটু থামা দরকার। কারণ চুলের স্টাইল বদলানো যায় বারবার, কিন্তু অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত চুল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সবসময় সম্ভব নয়। পুজোর সাজ তাই হোক—সুন্দরও, বুদ্ধিমানও।

Stay Connected
Must Read