দিহিং পাটকাই (Dehing Patkai) , দূর থেকে দেখলে শুধুই ঘন সবুজ। গাছের পর গাছ, লতাপাতা আর অন্ধকারে ঢাকা জঙ্গল। কিন্তু সেই সবুজের আড়ালেই যে এমন এক রঙিন দুনিয়া লুকিয়ে রয়েছে, তা জানলে সত্যিই অবাক হতে হয়! দিহিং পাটকাইয়ের জঙ্গলে এবার সামনে এল প্রজাপতির এমন বৈচিত্র্য, যা নতুন করে নজর কাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। সমীক্ষায় নথিভুক্ত হয়েছে ১৬৫টি প্রজাপতি প্রজাতি। আর তার মধ্যে ৩৭টি বিপন্ন প্রজাতি।

অসমের দিহিং পাটকাই (Dehing Patkai) যেন তাই শুধু জঙ্গল নয়, প্রজাপতিদেরও এক বিশাল ঠিকানা। ২৫ আগস্ট এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এর পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই রেনফরেস্টের জীববৈচিত্র্য।
আরও পড়ুন – লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন ছেড়ে কৃষিকাজে! কেন বলিউড ছাড়লেন ‘রাজ’ খ্যাত এই নায়িকা?
এই হিসাব অবশ্য হঠাৎ করে পাওয়া নয়। ২৮ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দিহিং পাটকাই (Dehing Patkai) ন্যাশনাল পার্ক ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে বসেছিল চতুর্থ Biodiversity and Butterfly Trail। প্রজাপতি দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জীববৈচিত্র্যও পর্যবেক্ষণ করা হয় এই অভিযানে। জয়পুর, লাখীপাথার ও সোরাইপুংয়ের মতো বনাঞ্চলের পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশের দেওমালিতেও পর্যবেক্ষণ চালানোর কথা জানানো হয়েছে।

শুনতে হয়তো মনে হতে পারে, প্রজাপতি গুনে আবার এত আলোচনা কেন?
আসলে ব্যাপারটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রজাপতি শুধু দেখতে সুন্দর কোনও পোকা নয়। একটি এলাকার পরিবেশ কতটা সুস্থ, সেই ছবিটাও অনেকটা বুঝিয়ে দিতে পারে এই ছোট্ট প্রাণী। কোথায় গাছপালা ভালো আছে, কোথায় খাবারের জোগান রয়েছে, কোথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনও টিকে আছে—প্রজাপতির বৈচিত্র্য সেই ছবির অনেকটাই সামনে আনতে পারে। ফলে ১৬৫টি প্রজাতির সন্ধান দিহিং পাটকাইয়ের বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বকেই আরও স্পষ্ট করে।

আর দিহিং পাটকাইয়ের ক্ষেত্রে সেই ছবিটাই বেশ চমকপ্রদ।
আরও মজার বিষয় হল, এই জঙ্গল (Dehing Patkai) নিয়ে আগের গবেষণাগুলিও কম চমকপ্রদ নয়। সোরাইপুং রেঞ্জে করা একটি গবেষণায় ৯২টি প্রজাপতি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। আবার জেয়পুর-দিহিং অরণ্য নিয়ে দীর্ঘ সময়ের পর্যবেক্ষণে ২৯২টি প্রজাতির রেকর্ডও রয়েছে। অর্থাৎ দিহিং পাটকাইয়ের রঙিন ডানার গল্প আজকের নয়, বহুদিনের।
আসলে আমরা জঙ্গল বলতেই সাধারণত বাঘ, হাতি বা বিরল পাখির কথা ভাবি। কিন্তু জঙ্গলের আসল গল্পটা আরও অনেক বড়। বিশাল গাছের নিচে যে ছোট্ট ফুল ফুটে আছে, তার উপর বসে থাকা কয়েক সেন্টিমিটারের একটি প্রজাপতিও সেই অরণ্যের স্বাস্থ্যের খবর দিতে পারে।
আরও পড়ুন – কেজিএফের রেকর্ড কি ভাঙবে ‘টক্সিক’?

তাই দিহিং পাটকাইয়ের (Dehing Patkai) ১৬৫ প্রজাতির হিসাব শুধু একটি সংখ্যা নয়। এটি যেন ঘন সবুজ অরণ্যের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা এক রঙিন বার্তা—এই জঙ্গলের গল্প এখনও অনেকটাই অজানা। আর সেই গল্পের কিছুটা লুকিয়ে আছে পাতার ফাঁকে, ফুলের উপর আর হাজার রঙের ছোট ছোট ডানায়। অর্থাৎ দিহিং পাটকাইয়ের (Dehing Patkai) রঙিন ডানাগুলি শুধু সৌন্দর্যের বার্তা দিচ্ছে না, তারা যেন চুপচাপ বলে যাচ্ছে—এই জঙ্গল এখনও বেঁচে আছে, আর তাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের।
