একটা ছবি, অথচ মতামত যেন দু’দিকে ভাগ! কেউ সিনেমাহল থেকে বেরিয়ে বলছেন, ‘টক্সিক’(Toxic) দেখা নাকি ধৈর্যের পরীক্ষা, আবার কেউ যশের পর্দার উপস্থিতি দেখে বলছেন, অপেক্ষাটা সার্থক। ছবিটি নিয়ে যে আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা ছিল,সিনেমাহল থেকে বেরিয়ে দর্শকদের মুখে সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না সব কথা। তাই যশের ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সবচেয়ে মজার বিষয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় যতই সমালোচনা হোক, টিকিট কাউন্টারে আপাতত ছবির দাপট কমেনি।

চার বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছেন যশ। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর তাঁর নতুন ছবি (Toxic) নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। তার উপর পরিচালক গীতু মোহানদাসের সঙ্গে যশের এই নতুন জুটি শুরু থেকেই তৈরি করেছিল আলাদা কৌতূহল। ২৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার পর সেই কৌতূহলের উত্তর মিলতে শুরু করেছে। তবে উত্তরটা মোটেই একরকম নয়।
আরও পড়ুন – আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন? মহাকাশ গবেষণায় কেরিয়ার গড়তে মাধ্যমিকের পরই নিন এই মাস্টারপ্ল্যান
সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে অনেক দর্শক গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ছবির (Toxic) গল্প ঠিকমতো জমেনি, কোথাও কোথাও গতি এতটাই ধীর যে দেখার সময় বিরক্তি তৈরি হয়েছে। কেউ ছবিটিকে ‘টর্চার’ বলেছেন, কেউ আবার ‘সম্পূর্ণ দুঃস্বপ্ন’ বলে কটাক্ষ করেছেন। ছবির সঙ্গে ‘কেজিএফ’-এর তুলনাও টেনে এনেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, স্টাইল ও অ্যাকশনের উপর বেশি জোর দেওয়া হলেও গল্প সেই জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। অনেকে বলেছেন, আগের ছবির ছায়া থেকে ‘টক্সিক’ পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি।

কিন্তু এখানেই গল্পটা ঘুরে যায়। কারণ ছবির (Toxic) সমালোচনার মাঝেও যশকে নিয়ে দর্শকদের একটা বড় অংশের উচ্ছ্বাস রয়েছে। তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্স , অ্যাকশন এবং অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে। ছবির ভিজ্যুয়াল (দৃশ্যায়ন) নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে। অর্থাৎ গল্প নিয়ে আপত্তি থাকলেও যশকে দেখার আগ্রহ যে এখনও প্রবল, তা স্পষ্ট।

আর সেই আগ্রহের সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলছে বক্স অফিসে। নেতিবাচক রিভিউ (সমালোচনা) ছড়িয়ে পড়ার পরেও মুক্তির প্রথম দিন দুপুরের মধ্যেই ছবিটি (Toxic) ভারতীয় বাজারে ৩১ কোটির বেশি নেট আয় করেছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি সকালের শোগুলির হিসাবেও ‘টক্সিক’ এগিয়ে ছিল ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম দিনের আয়ের তুলনায়। অর্থাৎ রিভিউ যতই নেতিবাচক হোক, প্রথম দিনের টিকিট বিক্রিতে তার ছাপ এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন – দিহিং পাটকাই -তে রঙিন ডানার চমক!
ছবিতে (Toxic) যশের সঙ্গে রয়েছেন কিয়ারা আডবানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত। এখন আসল পরীক্ষা অবশ্য সামনে। প্রথম দিনের উত্তেজনা কেটে যাওয়ার পর দর্শকের মুখের কথা কি ছবির ব্যবসা ধরে রাখতে পারবে? নাকি সমালোচনার চাপ ধীরে ধীরে বক্স অফিসে পড়বে? আপাতত ‘টক্সিক’ নিয়ে আলোচনা যতটা তীব্র, উত্তরটা ততটাই অনিশ্চিত।
