Homeবিনোদনটলিউডে নতুন অরাজনৈতিক মঞ্চ 'পারফরমার্স অব বেঙ্গল'

টলিউডে নতুন অরাজনৈতিক মঞ্চ ‘পারফরমার্স অব বেঙ্গল’

- Advertisement -spot_img

বুধবার টলিউডের সঙ্গীতজগতে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিনোদন দুনিয়ায় সুস্থ, স্বচ্ছ এবং পক্ষপাতহীন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করল নতুন এক অরাজনৈতিক ফোরাম— ‘পারফরমার্স অব বেঙ্গল’। শিল্পী প্রবীর দাসের উদ্যোগে এবং ‘শহর’ ব্যান্ডের অনিন্দ্য বসুর মুখপাত্রত্বে গঠিত এই মঞ্চে শামিল হয়েছেন রাঘব চট্টোপাধ্যায়, শিলাজিৎ মজুমদার, সিধু, পটা ও দেব চৌধুরীর মতো বাংলার প্রথম সারির জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীরা।

নবগঠিত এই ফোরামের প্রথম সভাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ ন্যায্য দাবি সংবলিত একটি স্মারকপত্র তৈরি করা হয়। আর শিল্পীদের এই জরুরি বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক রঙ না দেখে কেবল শিল্পীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে শিল্পীদের স্পষ্ট দাবি টলিউডের সঙ্গীত জগতে দীর্ঘদিনের চেনা বৃত্ত ও পক্ষপাতিত্ব ভেঙে প্রতিটি যোগ্য শিল্পীকে কাজের সুযোগ দিতে হবে।
বিগত দিনে বিভিন্ন শো করতে গিয়ে বিশেষ করে নারী শিল্পীরা যেভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন, তার স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা। বর্তমান সরকারের নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত কড়া অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়ে শিল্পীদের কর্মক্ষেত্রেও সেই সুরক্ষা দাবি করা হয়েছে।
এফএম রেডিও চ্যানেলগুলোতে ইদানীং মৌলিক বাংলা গান প্রায় শোনাই যায় না। তাই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলা অরিজিনাল গান বাজানোর জন্য নির্দিষ্ট এফএম চ্যানেলের দাবি তুলেছেন অনিন্দ্য বসুরা।
লোকসঙ্গীত, বাউল শিল্পী এবং পর্দার পেছনের বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের পারিশ্রমিক এখনো তলানিতে। তাঁদের আর্থিক সুরাহা, বার্ধক্যভাতা এবং চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত করার আর্জি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : ‘গুনগুন করে মহুয়া’: উত্তম কুমার থেকে তরুণ মজুমদার, মহুয়ার বায়োপিকে চাঁদের হাট!

জনপ্রিয় গায়ক রাঘব চট্টোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “বাংলায় এত গুণী ও প্রতিভাবান শিল্পী থাকতেও কেন মুম্বইয়ের গায়কদের দিয়ে বাংলা গান গাওয়ানো হবে?”

শিল্পীদের এই সভায় বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি এই মঞ্চের দাবিগুলোকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিগত এক-দেড় দশকের শাসনব্যবস্থাকে তীব্র কটাক্ষ করেন। রুদ্রনীল বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে ফতোয়া জারি করে ঠিক করা হতো কে টিকে থাকবে আর কে নয়। সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্তে সেই স্বৈরাচারী সিস্টেমের পরাজয় হয়েছে।”


তিনি নিজেকে শিল্পীদের ‘বার্তাবাহক’ হিসেবে উল্লেখ করে আশ্বাস দেন, এই সমস্ত দাবি তিনি অতি দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পৌঁছে দেবেন। পাশাপাশি, এই আবেদনকে আরও জোরালো করতে কীর্তন ও শ্রীখোলবাদকদের মতো লোকশিল্পীদের সমস্যাগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

সব মিলিয়ে, রাজনীতির রঙ দূরে সরিয়ে টলিউডের এই নতুন জোট বাংলা সঙ্গীত দুনিয়ায় এক সুস্থ ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাংলা গানের এই নতুন লড়াই কতটা সফল হয়।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
f
2,479
Facebook Followers
Follow
Must Read
Related News
spot_img