জনগণনার (Census) গৃহ তালিকাভুক্তিকরণ পর্বে কোনও বাড়ি যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। বাড়ি বা ফ্ল্যাট বন্ধ থাকলে কিংবা গণনাকর্মীরা যাওয়ার সময় গৃহস্থকে বাড়িতে না পাওয়া গেলেও ফের সেখানে যাবেন কর্মীরা। নাগরিকরা যাতে গণনাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সে জন্য বাড়ির দরজায় স্টিকার লাগিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সোমবার সল্টলেকে পশ্চিমবঙ্গের জনগণনা (Census) কার্য নির্দেশক নিখিল পবন কল্যাণ জানান, গণনাকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেলে দরজায় একটি স্টিকার দিয়ে আসবেন। ওই স্টিকারে থাকা তথ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গণনাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বাড়ির বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন: ‘দুগ্গা দুগ্গা’বলে সমুদ্রপথে পাড়ি! শিলিগুড়ি থেকে সোজা দক্ষিণ কোরিয়ায় মা দুর্গা
প্রথম ধাপে স্ব-গণনায় উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে ৫৩ লক্ষেরও বেশি পরিবার অনলাইনে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। গণনা আধিকারিকের দাবি, দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সর্বাধিক সংখ্যক পরিবার স্ব-গণনায় অংশ নিয়েছে। রাজ্যের আনুমানিক মোট পরিবারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারী উত্তরদাতাদের মধ্যে ৯৩.৮৪ শতাংশ সফল ভাবে অনলাইনে গণনা সম্পন্ন করেছেন।
এ বার শুরু হয়েছে জনগণনার (Census) দ্বিতীয় ধাপ। ১৬ অগস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহ তালিকাভুক্তিকরণ বা ‘হাউস লিস্টিং’-এর কাজ শুরু হয়েছে। এই পর্ব চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আবাসিক বাড়ির পাশাপাশি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত ঘরগুলিকেও গণনার আওতায় আনা হবে। সে জন্য পৃথক প্রশ্নাবলি তৈরি করা হয়েছে।
গণনার কাজে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার এনুমারেটর এবং ৩০ হাজার সুপারভাইজার। প্রত্যেক এনুমারেটরকে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। গণনাকর্মীদের কাজে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।
একই সঙ্গে তথ্য নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগও থাকছে। কোনও বাড়িতে আলাদা ভাবে বসবাসকারী একাধিক পরিবারকে ভুল করে একটি মাত্র ‘হাউসহোল্ড’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হলে পরে সংশোধন করা যাবে।
আরও পড়ুন: জন্মাষ্টমীতে গোপালকে সন্তুষ্ট করতে চান? নিজের হাতে বানিয়ে ফেলুন তালের এই ৩টি বিশেষ ভোগ!
জনগণনা (Census) সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা তথ্য জানার জন্য চালু করা হয়েছে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮৫৫। প্রশাসনের লক্ষ্য, বাড়ি বন্ধ থাকা, গৃহস্থের অনুপস্থিতি বা তথ্য নথিভুক্তির ভুল—কোনও কারণেই যেন কোনও পরিবার গণনার আওতা থেকে বাদ না পড়ে।


