HomeসফরOoty: পাহাড়ের কোলে মিষ্টি সুবাস! চেনেন কি ভারতের চকলেট শহরকে? ঘুরে আসুন...

Ooty: পাহাড়ের কোলে মিষ্টি সুবাস! চেনেন কি ভারতের চকলেট শহরকে? ঘুরে আসুন সস্তায়!

পাহাড়ি নীল মেঘের চাদর আর তাজা কোকোর মিষ্টি সুবাস—এই দুই জাদু যেখানে একসাথে মিশে যায়, সেই রূপকথার স্থানটিই হলো ভারতের চকোলেট শহর উটি (Ooty) । তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা এই মনোরম পাহাড়ি শহর ‘উদগমণ্ডলম’ বা উটি (Ooty) পর্যটকদের কাছে শুধু এক স্বপ্নময় গন্তব্যই নয়, এটি আক্ষরিক অর্থেই এক মিষ্টির স্বর্গরাজ্য।

Ooty

আরও পড়ুন: শপিং মলে এবার উমাবরণ! হবে অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে দশমীর সিঁদুরখেলা

নীলগিরির কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা চকোলেটের স্বর্গরাজ্য

পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ইউক্যালিপটাসের সতেজ গন্ধ, পাইন বনের শীতল ছায়া, আর তার মাঝেই নাকে ভেসে আসে তাজা গলে যাওয়া চকোলেটের সুবাস। ছোটবেলায় ‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরি’র সেই মায়াবী পৃথিবীর কথা মনে আছে? ঠিক তেমনই এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি বাস্তবে পেতে চাইলে আপনাকে পা রাখতেই হবে দক্ষিণ ভারতের এই হিল স্টেশনে। ব্রিটিশ আমল থেকেই উটিতে (Ooty) ঘরোয়া উপায়ে চকোলেট তৈরির ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল। আজ সেই ঐতিহ্যে ভর করে শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে ১০০-রও বেশি ছোট-বড় ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প।

Ooty

কেন উটিকে বলা হয় চকোলেটের রাজধানী?

তামিলনাড়ুর বিখ্যাত শৈলশহর উটি (Ooty) বহু বছর ধরেই পর্যটকদের প্রিয়। তবে একে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে এর সুস্বাদু হোমমেড চকলেট। উটির (Ooty) এই অনন্য পরিচিতির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এখানকার মনোরম আবহাওয়ার। সারা বছর ধরে শহরের তাপমাত্রা সাধারণতঃ ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। এমন চমৎকার ঠান্ডা আবহাওয়ায় চকোলেটের প্রধান উপাদান ‘কোকো বাটার’ সহজে গলে যায় না। ফলে কৃত্রিম ফ্রিজিং বা অতিরিক্ত রাসায়নিক ছাড়াই চকোলেটের স্বাভাবিক মোলায়েম ভাব ও উজ্জ্বলতা চমৎকার বজায় থাকে।

Ooty

এছাড়া, নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলের খাঁটি তাজা দুধ, ক্রিম এবং স্থানীয়ভাবে ভাজা বাদামের নিখুঁত মিশ্রণ এখানকার চকোলেটকে দেয় অতুলনীয় স্বাদ। বাজারচলতি ব্র্যান্ডের রাসায়নিকযুক্ত চকোলেটের ভিড়ে উটির (Ooty) প্রিজারভেটিভ-মুক্ত হ্যান্ডমেড চকোলেট যেন এক খাঁটি উপহার।

Ooty

উটির অজানা ৫টি বিস্ময়কর তথ্য:

  • হিমালয়ের চেয়েও প্রাচীন: নীলগিরি পর্বতমালা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার অংশ, যা প্রায় ১৫ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো-অর্থাৎ ভৌগোলিক বয়সের বিচারে এটি হিমালয় পর্বতের চেয়েও প্রাচীন!
Ooty
  • ১২ বছরে একবার ফোটা ফুল: এখানকার পাহাড়ে ফোটে বিরল ‘কুরিঞ্জি’ ফুল। এটি প্রতি ১২ বছর পর পর মাত্র একবার ফুটে পুরো পাহাড়কে এক অদ্ভুত নীল-বেগুনি রঙে রাঙিয়ে তোলে।
  • ঔষধিতে ভরা বাতাস: উটির (Ooty) ঘন ইউক্যালিপটাস বন থেকে বাতাসে মিশে যায় ‘সিনেওল’ নামক এক প্রাকৃতিক উপাদান, যা ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
Ooty
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর চা: উটির (Ooty) উঁচু পাহাড়ের কড়া অতিবেগুনি রশ্মি ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে এখানকার চা-পাতায় সাধারণ চায়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।
  • গ্রীষ্মকালীন রাজধানী: ১৮১৯ সালে জন সুলিভান নামক এক ব্রিটিশ কালেক্টরের পরিদর্শনের পর থেকেই উটির (Ooty) আধুনিক বিকাশ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে এটি মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হয়ে ওঠে।
Ooty

কোথায় পাবেন শহরের সেরা স্বাদের চকোলেট?

উটির (Ooty) সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র ‘চ্যারিং ক্রস’ (Charing Cross) এবং ‘কমার্শিয়াল রোড’ (Commercial Road)-এ পা রাখলেই চোখে পড়বে সারি সারি চকোলেটের দোকান। ডার্ক চকোলেট, ফ্রুট অ্যান্ড নাট, ক্রাঞ্চি প্রালিন কিংবা ট্রাফেলস—প্রতিটি কাচের কাউন্টারে সাজানো থাকে জিভে জল আনা সব উপহার। অনেক দোকানে আবার পর্যটকরা নিজেদের চোখে সরাসরি দেখতে পান কীভাবে কারিগররা পরম যত্নে তৈরি করছেন এই মিষ্টি শিল্প।

Ooty

ভ্রমণের সেরা সময়

সারা বছর জুড়েই উটির (Ooty) আবহাওয়া মনোরম থাকে, তবে অক্টোবর থেকে জুন মাসের মধ্যকার সময়টা সফরের জন্য সবচেয়ে সেরা। শীতকালের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে পাহাড়ি নীলগিরি চা আর হাতে তৈরি গরম চকলেটের আমেজ এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়।

কীভাবে পৌঁছাবেন উটি ?

পশ্চিমবঙ্গ কিংবা ভারতের যেকোনো প্রান্ত থেকেই খুব সহজে পৌঁছে যেতে পারেন এই চকলেট শহরে:

  • বিমানপথে: আপনার নিকটবর্তী বিমানবন্দর থেকে বিমানে কোয়েম্বাটুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে ট্যাক্সি বা বাসে চেপে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই উটি (Ooty)
Ooty
  • রেলপথে: ট্রেন সফর পছন্দ হলে কোয়েম্বাটুর বা ব্যাঙ্গালোরগামী ট্রেনে আসতে পারেন। এরপর মেত্তুপালায়ম এসে বিখ্যাত ‘নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে’র হেরিটেজ টয় ট্রেনে চেপে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উটি (Ooty) পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা হবে সারাজীবনের সম্পদ।
  • সড়কপথে: ব্যাঙ্গালোর, মহীশূর কিংবা কোয়েম্বাটুর থেকে সুদৃশ্য সবুজ পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে বাস বা প্রাইভেট কারে উটি (Ooty) পৌঁছানো বেশ রোমাঞ্চকর।

আরও পড়ুন: আদালত থেকে ব়্যাম্পে! মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া খেতাব জিতে রেকর্ড কাজিয়া লিজ মেজোর

পাহাড়ের ঠান্ডা হাওয়ায় তাজা ঘরে তৈরি চকোলেটের কামড় আর পাইন বনের নীরবতা—এই অভিজ্ঞতা শুধু ভ্রমণ নয়, হৃদয়ে জমে থাকা এক চিরসবুজ স্মৃতি। জীবনের ব্যস্ততা থেকে একটু ছুটি নিয়ে নিজের ভেতরের শৈশবকে আবার জাগিয়ে তুলতে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতেই পারে ভারতের এই অপূর্ব চকোলেট শহর!

Stay Connected
Must Read