শাহরুখ খান, অজয় দেবগণ—বলিউডের বড় নাম। কিন্তু মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)তাঁদেরকে নোটিস পাঠানোর পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে কি প্রচারের জন্যই তাঁদেরকে আলাদা করে নিশানা করা হচ্ছে? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য হিসাব? এবার সেই প্রশ্নেরই জবাব দিলেন মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (FDA) কমিশনার তুকারাম মুন্ধে। তাঁর বক্তব্য, প্রচারের জন্য কোনও তারকাকে আলাদা করে নিশানা করা হয়নি। যা করা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই।

পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভিমল এলাইচির একটি বিজ্ঞাপন। ওই বিজ্ঞাপনে শাহরুখ, অজয় ও টাইগারকে দেখা যায়। কিন্তু মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)-র বক্তব্য, এই বিজ্ঞাপন শুধুমাত্র এলাইচির প্রচার নয়, এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ পান মশলার পরোক্ষ বিজ্ঞাপন বা সারোগেট অ্যাডভার্টাইজিং (Surrogate Advertising) হতে পারে। কারণ একই ব্র্যান্ড পান মশলাও তৈরি করে।
এই কারণেই তিন অভিনেতাকে শো-কজ নোটিস (Show-cause Notice) পাঠিয়েছে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)। তুকারাম মুন্ধে জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এই পদক্ষেপ হয়নি। ২০১৮ সালের খাদ্য সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ও দাবি সংক্রান্ত নিয়মে বিজ্ঞাপনদাতা এবং প্রচারক—দু’পক্ষেরই দায়িত্বের কথা বলা রয়েছে। বিজ্ঞাপনে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা সত্য ও বিভ্রান্তিহীন হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন – কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে বড় বদল! গর্ভগৃহে প্রবেশে জারি নিষেধাজ্ঞা

মুন্ধের দাবি, ভিমল এলাইচির বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তিকর সংযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁর যুক্তি, কোনও পণ্য মহারাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলে সেটিকে অন্য কোনও পণ্যের আড়ালে প্রচার করার সুযোগ নেই।রাজ্যের বাইরে তৈরি হলেও মহারাষ্ট্রে তার প্রচার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুন্ধে। শুধু নির্মাতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধেই নয়, সেই প্রচারে যুক্ত থাকা প্রচারকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় নির্মাতা ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও FDA ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। তারকারা সেই ব্যবস্থার পরবর্তী পর্যায়ের অংশ। তাই শুধু নামী অভিনেতাদের বেছে নিয়ে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তিনি মানছেন না।
নোটিসে তিন অভিনেতাকে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের প্রচার বন্ধ করা এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম থেকে প্রচারমূলক বিষয় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত চুক্তি, প্রচারাভিযানের নথি, পণ্যের তথ্য, পারিশ্রমিকের বিবরণ এবং বিজ্ঞাপন সংস্থা ও ব্র্যান্ড মালিকের তথ্যও চেয়েছে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)।
মুন্ধে আরও জানিয়েছেন, নিয়ম না মানলে প্রচারকের সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে এবং বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার-সহ আরও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে এখনও বিষয়টি নোটিস ও জবাবের পর্যায়েই রয়েছে।
এই বিতর্কে শাহরুখ খানের আগের মন্তব্যও ফের সামনে এসেছে। ক্ষতিকর বলে মনে হলে কোনও পণ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে অক্ষয় কুমার ও অমিতাভ বচ্চন অতীতে পান মশলা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সারোগেট বিজ্ঞাপনের আওতায় বিষয়টি পড়তে পারে তা তাঁরা জানতেন না।
আরও পড়ুন – টক্সিক নিয়ে শুরুতেই তোলপাড়
মুন্ধের বক্তব্য, নির্মাতা, বিক্রেতা ও প্রচারক—সকলের বিরুদ্ধেই নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা হতে পারে।ফলে এই নোটিসের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বিজ্ঞাপনে তারকাদের দায়িত্বের প্রশ্ন।
