দেশে জাঁকিয়ে বসেছে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino) । আর তার প্রভাব পড়তে পারে আগামী শীতেও। ঠান্ডা পড়তে দেরি হওয়ার পাশাপাশি শীতের স্থায়িত্বও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব কর। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে তেমন জোরালো ঠান্ডার সম্ভাবনা নেই। তবে শীত এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি, কলকাতাসহ ১৫ জেলায় হলুদ সতর্কতা
‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino)-র প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. সুজীব কর জানিয়েছেন, এর প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে উষ্ণ মহাসাগরীয় স্রোত বঙ্গোপসাগর, আরবসাগর এবং ভারত মহাসাগরের দিকে প্রবেশ করলে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে বাষ্পীভবনের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। এর জেরে জলভাগের উপর একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আবহাওয়াবিদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জলভাগ থেকে ভূমিভাগে বায়ুর স্বাভাবিক প্রবেশ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে ভূমিভাগে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ কম হলে বৃষ্টির পরিমাণও কমতে পারে। ফলে দিনের বেলা ভূমিভাগ যে তাপ গ্রহণ করে, তা পর্যাপ্ত ভাবে বিকিরণ হয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না। সেই তাপ ভূমিভাগে জমে থাকায় তাপমাত্রা কমতে সময় লাগে।আর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শীতের উপর। ড. সুজীব করের ব্যাখ্যা, ভূমিভাগের তাপ দ্রুত বেরিয়ে যেতে না পারলে শীতের আগমন পিছিয়ে যায়। এমনকি শীতকালেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino) সক্রিয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সেপ্টেম্বর নাগাদ তা সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছতে পারে। ফলে শীতের সময় উত্তর ভারত থেকে স্বাভাবিক ঠান্ডা বায়ুপ্রবাহ দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের দিকে আসার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে।ড. সুজীব করের মতে, ভূমিভাগের তাপমাত্রা বেশি থাকলে জেট বায়ুও প্রত্যাশিত ভাবে সক্রিয় হতে নাও পারে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের উপস্থিতির কারণে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়ার স্বাভাবিক প্রবেশও বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শীত একেবারেই হবে না, এমনটা নয়। আবহাওয়াবিদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে শক্তিশালী ঠান্ডা বায়ু প্রবেশ করতে পারে। তার ফলেই ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।কিন্তু সেই ঠান্ডা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই আশঙ্কা। কয়েকদিন ভাল ঠান্ডা পড়ার পর দ্রুতই তা কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, এ বছর শীতকাল ছোট হতে পারে এবং ১৫ থেকে ২০ দিনের মতো সময়ের জন্য জোরালো ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: জল খেলেই Skin Glow? নাকি এটা শুধুই ধারণা!
এর আগে ১৯৯৭ সালে ভারতে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino)–র প্রভাব দেখা গিয়েছিল, যা ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ড. সুজীব কর। সেই সময় ওড়িশায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগও হয়েছিল। এবারও দীর্ঘস্থায়ী ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। তাঁর মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino)–র প্রভাব ভারত আগে কখনও পায়নি। পরিস্থিতি একই রকম থাকলে চলতি বছরে শীত দেরিতে আসার পাশাপাশি খুব অল্প সময় স্থায়ী হতে পারে। তারপর দ্রুতই গরমের আবহ ফিরে আসার আশঙ্কাও রয়েছে।
