তৃতীয় সন্তানের জন্মের পরও মহিলা সরকারি কর্মীরা এক বছর মাতৃত্বকালীন ছুটি (maternity leave) পাবেন। এত দিন তামিলনাড়ুতে প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ৩৬৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি (maternity leave) দেওয়া হলেও তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ছুটির মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ সপ্তাহ। এবার সেই নিয়মে বদল আনার ঘোষণা করল তামিলনাড়ু সরকার।

সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ডি শরৎকুমার। তিনি বলেন, মহিলা সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি (maternity leave) ১২ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ৩৬৫ দিন করা হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে মাতৃত্বকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হবে এবং কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম এবং দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রে মহিলা সরকারি কর্মীদের জন্য ৩৬৫ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি (maternity leave) বরাদ্দ ছিল। কিন্তু তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ছুটির মেয়াদ কমিয়ে ১২ সপ্তাহ করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণার ফলে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও প্রথম দুই সন্তানের মতোই এক বছরের ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হল।
আরও পড়ুন – ভিমল ইলাইচি বিজ্ঞাপনে দোষটা কার?
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্যের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর মোট প্রজনন হার ১.৪-এর নীচে নেমে গিয়েছে। যেখানে জনসংখ্যার স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রজনন হার ২.১। অর্থাৎ, রাজ্যে জন্মহার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে।
একই সঙ্গে বাড়ছে প্রবীণ জনসংখ্যার হারও। তামিলনাড়ুর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। ফলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনসংখ্যার হার এবং জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আসন পুনর্বিন্যাস নিয়েও দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস হলে তুলনামূলক ভাবে কম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা দক্ষিণের রাজ্যগুলি রাজনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণের একাধিক মুখ্যমন্ত্রী জনসংখ্যা হ্রাসের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন এবং বেশি সন্তানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন – জনগণনায় বাদ যাবে না কোনও বাড়ি, বন্ধ দরজাতেও ফের যাবেন গণনাকর্মীরা
তামিলনাড়ু সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকেও সেই বৃহত্তর জনসংখ্যাগত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এখনও এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। তবে মহিলা সরকারি কর্মীদের তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি (maternity leave) র ঘোষণা রাজ্যের নারীকল্যাণ এবং জনসংখ্যা নীতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
