HomeবিনোদনVimal Elaichi Advertisement : ভিমল ইলাইচি বিজ্ঞাপনে দোষটা কার?

Vimal Elaichi Advertisement : ভিমল ইলাইচি বিজ্ঞাপনে দোষটা কার?

ইলাইচির বিজ্ঞাপন (Vimal Elaichi Advertisement), নাকি আড়ালে নিষিদ্ধ পানমশলার প্রচার? প্রশ্নটা উঠতেই এবার কাঠগড়ায় বলিউডের তিন বড় তারকা। ভিমল ইলাইচির বিজ্ঞাপনে যুক্ত থাকার কারণে শাহরুখ খান, অজয় দেবগণটাইগার শ্রফকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)। কিন্তু এখানেই আসল প্রশ্ন—দোষটা কি অভিনেতাদের, নাকি যে সংস্থা এই বিজ্ঞাপন তৈরি ও প্রচার করেছে তাদের?

vimal elaichi ad

বিষয়টির সূত্রপাত ‘ভিমল’ ব্র্যান্ডকে ঘিরেই। মহারাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ভিমল পানমশলার সঙ্গে একই ব্র্যান্ডের নাম জড়িয়ে রয়েছে ইলাইচির (Elaichi)ক্ষেত্রেও। ফলে FDA-এর সন্দেহ, ইলাইচির (Elaichi) বিজ্ঞাপনটি কি সত্যিই শুধু ইলাইচির প্রচার, নাকি এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ পানমশলাকেও পরোক্ষে মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এমন কৌশলকে বলা হয় ‘সারোগেট বিজ্ঞাপন’ (Surrogate Advertising)।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ১৬ অগস্ট শাহরুখ, অজয় ও টাইগারকে নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিজ্ঞাপনের সঙ্গে তাঁদের কী ধরনের চুক্তি ছিল এবং কীভাবে তাঁরা এই প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। জবাব দেওয়ার জন্য তাঁদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন – জনগণনায় বাদ যাবে না কোনও বাড়ি, বন্ধ দরজাতেও ফের যাবেন গণনাকর্মীরা

এখানেই অবশ্য বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। FDA এই পদক্ষেপের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন (FSS Act), ২০০৬-এর ২৪ ও ৫৩ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছে। ৫৩ নম্বর ধারায় বিভ্রান্তিকর খাদ্য বিজ্ঞাপনের প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

কিন্তু তার মানেই এই নয় যে তিন অভিনেতার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা হয়ে গিয়েছে। এখনও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত শাস্তি বা জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়নি। আইনজীবীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই জরিমানা সরাসরি FDA করতে পারে না। নির্দিষ্ট ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিচারকারী আধিকারিক (Adjudicating Officer) এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা আপিল ট্রাইব্যুনালেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আর এখানেই উঠছে অভিনেতাদের দায় নিয়ে বড় প্রশ্ন। খাদ্য নিরাপত্তা আইনে অভিনেতা বা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরকে আলাদা করে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে বিজ্ঞাপনের মুখ হিসেবে থাকা শাহরুখ, অজয় বা টাইগারকে ‘বিজ্ঞাপন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি’ হিসেবে আইনের আওতায় ধরা যাবে কি না, সেটি সরাসরি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আইনি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে।

FDA আবার বিজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট প্রচারমূলক বিষয়বস্তু সামাজিক মাধ্যম থেকে সরানোর কথাও জানিয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীরা। তাঁদের বক্তব্য, খাদ্য নিরাপত্তা আইনে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের জন্য জরিমানার ব্যবস্থা থাকলেও সামাজিক মাধ্যম থেকে পোস্ট সরানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা একইভাবে প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে।

তাহলে সংস্থার ভূমিকা কোথায়? এই প্রশ্নটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যদি FDA-এর মূল অভিযোগই হয়, ইলাইচির (Elaichi) বিজ্ঞাপন আসলে নিষিদ্ধ পানমশলার পরোক্ষ প্রচার, তাহলে বিজ্ঞাপনটি তৈরি ও প্রচারের নেপথ্যে থাকা সংস্থার কাছেও আগে ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত ছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। কারণ ইলাইচি (Elaichi) সত্যিই আলাদা পণ্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, নাকি নিষিদ্ধ পণ্যের ব্র্যান্ড-পরিচিতি ধরে রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—তার বিস্তারিত তথ্য সংস্থার কাছেই থাকার কথা।

তবে এখানেই শেষ নয়। আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় ভোক্তা সুরক্ষা আইন (Consumer Protection Act) এবং তামাকজাত পণ্য সংক্রান্ত আইনও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

আরও পড়ুন – ‘দুগ্গা দুগ্গা’বলে সমুদ্রপথে পাড়ি! শিলিগুড়ি থেকে সোজা দক্ষিণ কোরিয়ায় মা দুর্গা

তাই আপাতত ‘দোষী’ বলে কাউকেই চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। তিন তারকাকে দেওয়া নোটিস কোনও চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নয়। এখন তাঁদের জবাব, বিজ্ঞাপনের চুক্তি এবং পুরো প্রচারের ধরন খতিয়ে দেখার পরেই পরিষ্কার হবে—এটি সত্যিই একটি ইলাইচির বিজ্ঞাপন ছিল, নাকি নিষিদ্ধ পানমশলার পরোক্ষ প্রচারের অভিযোগের পিছনে আরও বড় প্রশ্ন রয়েছে।

Stay Connected
Must Read