গতকালের বেঙ্গালুরুর সন্ধ্যাটা যেন হঠাৎ করেই একটু বেশি ‘বিষাক্ত’ বা ‘টক্সিক’ (Toxic) হয়ে উঠেছিল! তবে এই বিষে কোনো ভয় নেই, বরং আছে এক অদ্ভুত উন্মাদনা ও মাদকতা। হ্যাঁ, গতকাল মুক্তি পেয়েছে গীতু মোহনদাস পরিচালিত এবং সুপারস্টার যশ অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ (Toxic)-এর ট্রেলার। ৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের এই দীর্ঘ ট্রেলার যেন এক নিমেষে দর্শকদের এক অন্ধকার, রহস্যময় এবং ভয়ংকর সুন্দর রূপকথার জগতে টেনে নিয়ে গেছে। “আমাকে দেখে কি তোমার সভ্য মনে হয়?”— ট্রেলারে যশের এই একটি সংলাপই বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবার বক্স অফিসে আক্ষরিক অর্থেই এক নতুন ‘তান্ডব’ হতে চলেছে।
বিতর্কের ছাই থেকে ফিনিক্সের উড়ান
মনে পড়ে ‘লেডিস অ্যান্ড লেডিস’ ইন্ট্রোডাকশন ভিডিও বা ‘তাবাহি’ গানের কথা? যশের সঙ্গে নায়িকাদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। ‘অশ্লীলতা’র অভিযোগ তুলেছিলেন অনেকেই। কিন্তু গতকালের ট্রেলার যেন সমালোচকদের মুখে কুলুপ পরিয়ে দিল। সমস্ত বিতর্ক সরিয়ে রেখে ‘টক্সিক’-এর ট্রেলার বুঝিয়ে দিল, এটি সস্তা রোম্যান্স বা গ্ল্যামারের গল্প নয়; এটি ক্ষমতা, লোভ, চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং এক ভয়ংকর মানসিক লড়াইয়ের গল্প।
আরও পড়ুন: বর্ষায় পাহাড়? যাওয়ার আগে জানুন ৭ জরুরি কথা
কেমন হল নতুন ট্রেলার?
এককথায় বললে— এটি একটি ‘শিউরে ওঠার মতো সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স’! পুরো ট্রেলার জুড়ে ১৯৪০ থেকে ১৯৭০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে গোয়ার এক অদ্ভুত অন্ধকার ড্রাগ মাফিয়া আর ক্রাইম সিন্ডিকেটের জাল বিছানো।

ছবির সবচেয়ে বড় চমক যশের দ্বৈত চরিত্র— বাবা ‘রায়া’ এবং ছেলে ‘রুমি’ (যাকে অপরাধ জগতে ‘টিকিট’ বলা হয়)। রায়া এক লাগামছাড়া, উদ্ধত ডন, যার কাছে আনুগত্য বা সম্পর্কের কোনও দাম নেই। সে নারীসঙ্গ ভালোবাসে, আবার নির্দয়ভাবে খুনও করে। অন্যদিকে তারই যমজ চেহারার ছেলে রুমি যেন ধ্বংসের খেলায় আরও এক ধাপ এগিয়ে। ট্রেলারের শেষে বরফে ঢাকা ল্যান্ডস্কেপে বাবা-ছেলের এই হাড়হিম করা রক্তক্ষয়ী লড়াই দর্শকদের গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য।
নায়িকাদের দিক থেকেও ‘টক্সিক’ (Toxic) রীতিমতো তারকায় ঠাসা। সার্কাস আর্টিস্টের লুকে কিয়ারা আডবাণী (নাদিয়া) অনবদ্য। তাঁর আবেগঘন অভিনয় দেখে এক নেটিজেনের তো দাবি— কিয়ারার এবার ‘জাতীয় পুরস্কার’ পাওয়া উচিত! এছাড়া লেডি সুপারস্টার নয়নতারা (গঙ্গা), হুমা কুরেশি (এলিজাবেথ), তারা সুতারিয়া (রেবেকা) ও রুক্মিণী বসন্তের (মেলিসা) মেকওভার ট্রেলারে বেশ রহস্যময় এবং নজরকাড়া।
ট্রেলারের ইতিবাচক দিক (Positives):
- আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন: ‘জন উইক’ খ্যাত হলিউড অ্যাকশন ডিরেক্টর জেজে পেরি এবং ভারতীয় স্টান্ট মাস্টার আনবারিবের জোড়া ধামাকায় মারপিটের দৃশ্যগুলো অসাধারণ ও ধারালো হয়েছে।
- ভিজুয়াল ও আবহসঙ্গীত: রাজীব রবির সিনেমাটোগ্রাফি ট্রেলারে ১৯৪০ থেকে ৭০-এর দশকের অন্ধকার গোয়ার মাদক সাম্রাজ্যের পরিবেশটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। রবি বাসবুরের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের কম্পন গায়ে কাঁটা দেয়।
- মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন: এটি শুধুই গোলাগুলির ছবি নয়, সম্পর্কের বিষাক্ততা এবং আবেগের এক গভীর স্তর ট্রেলারে স্পষ্ট।

ত্রুটি কোথায়?
- অতিরিক্ত হিংসা ও জটিলতা: ট্রেলারে এত বেশি চরিত্র, ফ্ল্যাশব্যাক আর রক্তপাত দেখানো হয়েছে যে সাধারণ দর্শকের কাছে মূল গল্পটা বেশ গুলিয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত স্টাইলাইজড করতে গিয়ে গল্পের ইমোশনাল কোর বা আবেগ হারিয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি রয়েছে।
- ‘কেজিএফ’ ও ‘অ্যানিম্যাল’ হ্যাংওভার: সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই কেউ কেউ একে ‘KGF on Steroids’ বা ‘অ্যানিম্যাল’ এবং ‘কবীর সিং’-এর মিশ্রণ বলে কটাক্ষ করেছেন। নতুনত্বের মোড়কে সেই পুরনো ছকের আলফা-মেল গ্যাংস্টার ড্রামাই দেখানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- নায়িকাদের ভিড়: এত বড় কাস্টিংয়ে কিয়ারা ছাড়া বাকি চারজন হেভিওয়েট নায়িকা মূল গল্পে ঠিক কতটা স্ক্রিনটাইম বা গুরুত্ব পাবেন, নাকি তাঁরা শুধুই গ্ল্যামার বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
আরও পড়ুন: শরীর ভালো, তবু মুড অফ কেন?
গীতু মোহনদাসের তৈরি এই ‘টক্সিক’ (Toxic) নিশ্চিতভাবেই ছোটদের ঘুম পাড়ানোর গল্প নয়, বরং বড়দের ঘুম কাড়ানোর মতো এক নারকীয় রূপকথা। যশ নিজে জানিয়েছেন যে, এটি শুধুমাত্র একটি মারপিটের ছবি নয়, বরং মানব মনস্তত্ত্বের এক অন্ধকার দিক তুলে ধরা হয়েছে এখানে। কিছু নেতিবাচক দিক এবং টিজারের বিতর্ক থাকলেও, কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় শ্যুট হওয়া এই ছবির ট্রেলার কিন্তু হলিউড মেটেরিয়ালের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। বড় পর্দায় যশের এই আনকাট ‘ম্যাডনেস’ চাক্ষুষ করার জন্য আগামী ২৬ আগস্ট বক্স অফিসে যে লম্বা লাইন পড়তে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!



