ভাবুন তো, যে কণ্ঠ পরে হিন্দি সিনেমার সমার্থক হয়ে উঠবে, সেই কিশোর কুমারকেই (Kishore kumar) একসময় নিয়মিত প্রথম সারির প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে ভাবা হত না! কিন্তু ১৯৬৯ সালে একটা ছবি, ব্যাস বদলে গেল সব হিসেব। সেই ছবির একটি গান কিশোরের কেরিয়ারে এমন ছাপ ফেলল, যে তারপর তাঁকে ফিরে তাকাতে হয়নি। গানটির নাম—‘রূপ তেরা মস্তানা’।

ছবির নাম আরাধনা। পরিচালক শক্তি সামন্তের এই ছবি মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। ছবিতে ছিলেন রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুর। আর সুরের দায়িত্বে ছিলেন শচীন দেব বর্মন।
আরও পড়ুন – ১৫ আগস্টে কেমন ছিল ভারতের মানচিত্র?
তখন প্লেব্যাক জগতে মহম্মদ রফির দাপট তুঙ্গে। কিশোর কুমার (Kishore kumar) ও গান গাইছিলেন, কিন্তু তাঁর মূল পরিচয় তখনও অভিনেতা-গায়ক হিসেবেই বেশি। আরাধনার আগে তাঁর প্লেব্যাক কেরিয়ার একেবারে মসৃণ ছিল না। এমন সময় পরিচালক শক্তি সামন্তের ছবিতে সুরকার শচীন দেব বর্মন কিশোরের কণ্ঠকে বেছে নিলেন।
আরাধনায় কিশোর কুমারের (Kishore kumar) কণ্ঠে ছিল একাধিক গান—‘মেরে সপ্নোঁ কি রানি’, ‘কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা’ এবং ‘রূপ তেরা মস্তানা’। তিনটিই জনপ্রিয় হয়ে যায়। বিশেষ করে ‘মেরে সপ্নোঁ কি রানি’ রাজেশ খান্নার পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কিশোরের কণ্ঠের এমন এক জুটি তৈরি করল, যা পরবর্তীতে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সফল গায়ক-অভিনেতা জুটি হয়ে ওঠে।
কিন্তু ‘রূপ তেরা মস্তানা’র গল্পটা একটু অন্যরকম
এই জায়গাতেই গল্পটা আরও আকর্ষণীয়।

আর গানটির শুটিং ? সেটাও তো ইতিহাস। রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরকে নিয়ে ‘রূপ তেরা মস্তানা’ একটি দীর্ঘ একটানা শটে ধারণ করা হয়েছিল—সেই সময়ের জন্য যা ছিল যথেষ্ট অভিনব। ১৯৬৯ সালে আরাধনা মুক্তির পর পরিস্থিতিটাই বদলে গেল। রাজেশ খান্না হয়ে উঠলেন সুপারস্টার, আর কিশোর কুমার উঠে এলেন হিন্দি সিনেমার প্লেব্যাক কণ্ঠগুলির একেবারে শীর্ষ তালিকায়। ‘রূপ তেরা মস্তানা’র জন্য তিনি পান তাঁর প্রথম Filmfare Award for Best Male Playback Singer।
কেন এত বড় পরিবর্তন এল?
কিশোরের (Kishore kumar) গলায় ছিল গভীরতা, প্রাণবন্ততা আর স্বাভাবিক আবেগ। তাঁর গায়কিতে এমন একটা সহজ ভঙ্গি ছিল, যা শ্রোতার কাছে খুব দ্রুত আপন হয়ে যেত।
প্রেম, আনন্দ, দুঃখ কিংবা বিরহ—গানের পরিস্থিতি অনুযায়ী কণ্ঠের ওঠানামা বদলে ফেলতে পারতেন তিনি। ফলে গান শুনলে শুধু সুর নয়, গানের চরিত্রটাকেও যেন অনুভব করা যেত।
আর আরাধনা-র পর সুযোগও আসতে শুরু করল একের পর এক। কিশোর-রাজেশ জুটি পরবর্তীকালে কাটি পতঙ্গ, মেরে জীবন সাথীসহ বহু জনপ্রিয় গান উপহার দেয়। পরে অমিতাভ বচ্চন, সুনীল দত্ত -সহ বহু নায়কের জন্যও তিনি কণ্ঠ দেন।
সবচেয়ে বড় কথা—তিনি ছিলেন বহুমুখী শিল্পী
কিশোর কুমার (Kishore kumar) শুধু playback singer ছিলেন না; অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর অভিনয়ের হাস্যরস এবং গানের সুর তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন – ২০০ বছরের শিকল ভাঙার রাত! স্বাধীনতার পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল সেদিন?
‘আরাধনা’র ‘রূপ তেরা মস্তানা’ যেন তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিল। আর সেই আবিষ্কারের পরই হিন্দি সিনেমা পেল এমন এক কণ্ঠ, যাঁর গান শুনে আজও প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রেমে পড়ে, মন খারাপ করে, আবার কখনও নিঃশব্দে গুনগুন করে ওঠে। হয়তো এটাই ছিল কিশোরের (Kishore kumar) আসল টার্নিং পয়েন্ট—একটা গান, যা বদলে দিয়েছিল তাঁর পরিচয়টাই।



