হয়তো Spotify তে একটা গান (Songs) শুনেছেন সকালে। তারপর কাজ করতে করতে, খেতে বসে, এমনকী চুপচাপ থাকলেও—মাথার মধ্যে সেই একই লাইন ঘুরছে! এমনটা আপনার সঙ্গেও নিশ্চয়ই হয়েছে। কখনও কোনও গান একবার শুনেই মাথায় আটকে যায়, আবার কখনও বহু বছর আগে শোনা একটা পুরনো সুর হঠাৎ মনে পড়ে গিয়ে বারবার বাজতে থাকে। মজার ব্যাপার হল, তখন বাইরে কোথাও গান বাজছে না—মস্তিষ্কের ভিতরেই যেন নিজের একটা মিউজিক প্লেয়ার চালু হয়ে যায়!

বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে বলেন Involuntary Musical Imagery (INMI)। আর চলতি ভাষায় এর নাম ‘earworm’—মাথায় গান (Songs) আটকে যাওয়া। অর্থাৎ বাইরে কোনও গান বাজছে না, তবু মস্তিষ্কে নিজে থেকেই গানের কোনও অংশ বারবার বাজতে থাকে। গবেষণায় এটিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হয়।
আরও পড়ুন – স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশ্যে ‘দেশু ৭’-এর পোস্টার
কেন এমন হয়?
এর একটা বড় কারণ হল স্মৃতি এবং মস্তিষ্কের ‘ওয়ার্কিং মেমরি’। কোনও গান (Songs) যদি পরিচিত হয়, সহজে মনে থাকে এবং তার সুর বা ছন্দ বেশ catchy হয়, তাহলে সেটি মাথায় ধরে রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে গানের ছোট, পুনরাবৃত্ত অংশ বা ‘হুক’ মাথায় আটকে থাকার প্রবণতা বেশি।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পরিচিত গান, সহজে মনে থাকার মতো সুর এবং বিশেষ করে গানের কোরাস বা বারবার ফিরে আসা অংশ মাথায় আটকে যাওয়ার প্রবণতা বেশি।
শুধু প্রিয় গান হলেই এমন হবে, তা নয়। সদ্য শোনা কোনও গানও মাথায় আটকে যেতে পারে। এমনকী কোনও শব্দ, জায়গা, দৃশ্য বা পরিস্থিতি পুরনো কোনও গানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেও সেই সুরকে হঠাৎ মনে ফিরিয়ে আনতে পারে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক অনেক সময় আমাদের অজান্তেই একটা স্মৃতির সঙ্গে আরেকটা স্মৃতির যোগসূত্র খুঁজে নেয়।
যত ভুলতে চাইবেন, ততই?
এখানেই রয়েছে আসল মজাটা। ‘গানটা মাথা থেকে বের করতেই হবে’—এভাবে জোর করে সেটিকে ঠেলে সরানোর চেষ্টা সবসময় কাজে দেয় না। কারণ গানটি (Songs) মনে করার প্রক্রিয়াটাই আবার সেই সুরকে সক্রিয় করে রাখতে পারে। তবে গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ বিষয় উঠে এসেছে। নতুন কোনও গান (Songs) বারবার শোনার ফলে পরের দিন সেটি মাথায় ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। অর্থাৎ একই গান বারবার শোনার অভ্যাসই কখনও কখনও তাকে মাথায় ‘স্থায়ী অতিথি’ বানিয়ে দেয়।

কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনও অসুখ নয়, বরং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক স্মৃতি ও মানসিক কল্পনার অংশ। গবেষণায় এমনও দেখা গিয়েছে যে এই ধরনের ‘earworm’ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আরও পড়ুন – যে গান ছিল কিশোর কুমারের কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট!
তাই পরের বার কোনও গান (Songs) মাথায় ঘুরতেই থাকলে বুঝবেন আপনার মস্তিষ্ক বোধহয় গানটি ভুলে যায়নি—বরং স্মৃতির কোনও এক কোণে সেটাকে এত ভালো করে তুলে রেখেছে যে, সুযোগ পেলেই আবার ‘প্লে’ করে দিচ্ছে।



