Bohurupi: The Golden Daku– টলিউডে উৎসবের আমেজ এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে, আর এই উন্মাদনা দ্বিগুণ করতে ২০২৬ সালের পুজোয় বড়পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে “বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু” (Bohurupi: The Golden Daku) । বহু প্রতীক্ষিত ‘বহুরূপী ২’-এর প্রথম ঝলক ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছে। রাখি পূর্ণিমার দিনে প্রকাশ্যে এল এই ছবির প্রথম গান ‘ফুল ফুটেছে’, আর সেই সঙ্গে মুক্তি পেল শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য প্রেমের এক নতুন দৃশ্যপট।

আরও পড়ুন: এআই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে মোটা অঙ্কের বাজি কেন্দ্রের!
কারাগারের অন্ধকারে ভালোবাসার আলো
গল্পের বুননে আবেগ আর বাস্তবতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন পরিচালক নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। জিনিয়া সেনের অসাধারণ চিত্রনাট্যে ‘ফুল ফুটেছে’ গানটি যেন বন্দি জীবনের মাঝে এক টুকরো মুক্তির আকাশ। গানের দৃশ্যে দেখা যায়, সংশোধনাগারে বন্দি বিক্রম (শিবপ্রসাদ)। জেলের চার দেওয়ালের মাঝেও তার মন পড়ে আছে স্ত্রী ঝিমলির (কৌশানী) কাছে। রুক্ষ মাটিতে যখন সে নতুন ফুলগাছ পোঁতে, তখন তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঝিমলির হাসিমুখ। কখনও মনে হয়, জেলের থালায় খাবার নয়, বরং স্ত্রী নিজের হাতে তাকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, জেলের বাইরে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে ঝিমলি। দুজনের এই দূরত্ব, বিরহ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা গানটিকে এক অদ্ভুত গভীরতা দিয়েছে।

সুরে সুরে মাটির টান
এই অসামান্য গানটির কথা, সুর এবং কম্পোজিশন করেছেন ননী চোরা দাস বাউল এবং বনি চক্রবর্তী। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অর্পিতা চক্রবর্তী, ননী চোরা দাস বাউল ও স্বয়ং বনি চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গান রিলিজ হওয়া মাত্রই তা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। গানের সুরে পা মেলাতে দেখা গিয়েছে খোদ শিবপ্রসাদ ও কৌশানীকেও। তাঁদের এই অনস্ক্রিন রসায়ন যেন ফের একবার প্রমাণ করল, খাঁটি ভালোবাসা কোনো পরিস্থিতি বা দূরত্বের বাধা মানে না।

কী থাকছে এবারের চমকে?
প্রথম কিস্তির আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর, সিক্যুয়েল নিয়ে প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। “বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু” (Bohurupi: The Golden Daku)–তে পুলিশ অফিসারের এক দাপুটে চরিত্রে দেখা যাবে যিশু সেনগুপ্তকে, এবং তাঁর বিপরীতে থাকছেন শক্তিশালী অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত। সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোয় উইন্ডোজ প্রোডাকশনের এই ছবিটি যে বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
আরও পড়ুন: আলফার নতুন ইনিংস, এবার সোজা ওটিটিতে
প্রেম, বিরহ এবং অন্ধকারের বুক চিরে আলোর পথে ঘুরে দাঁড়ানোর এই গল্প দর্শককে এক অদ্ভুত মানসিক শক্তি দেয়। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতেও যে মনের জোর এবং ভালোবাসা টিকিয়ে রাখা যায়, বিক্রম ও ঝিমলির এই ছোট্ট দৃশ্যটি তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। জীবন যতবার আমাদের মাটিতে আছড়ে ফেলে, ভালোবাসার শেকড় ঠিক ততবারই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। এখন কেবল পুজোয় থিয়েটারের সিটে বসে “বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু” (Bohurupi: The Golden Daku)-র এই ম্যাজিক বড়পর্দায় দেখার অপেক্ষায় সিনেপ্রেমীরা।
