“বাড়িতে তো ঠিকঠাকই মাপছি, তা হলে রিডিং (Reading) এতটা ওঠানামা করছে কেন?”—এই প্রশ্নটা অনেকেরই। আসলে হাতের কাছে ব্লাড প্রেসার (BP)/ (Blood Pressure) মাপার যন্ত্র থাকলেই যে মাপ একেবারে নির্ভুল হবে, তা নয়। যন্ত্রের পাশাপাশি আপনি কীভাবে বসছেন, কাফ (Cuff) কীভাবে লাগাচ্ছেন, এমনকি মাপার আগের আধঘণ্টায় কী করেছেন—সবকিছুরই প্রভাব পড়তে পারে রক্তচাপের সংখ্যায়।

বাড়িতে ব্লাড প্রেসার (রক্তচাপ)/ (BP) মাপা এখন অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। কিন্তু যন্ত্র থাকলেই যে মাপ ঠিক হবে, এমনটা নয়।, তা অনেকটাই নির্ভর করে মাপটি কীভাবে নেওয়া হচ্ছে তার উপর। কার্ডিয়োলজিস্টরা বাড়িতে রক্তচাপ মাপার সময় হওয়া পাঁচটি সাধারণ ভুলের কথা জানিয়েছেন।

আরও লিখুন – “তোর ভালোবাসাতেই আমার মুক্তি…” উইন্ডোজের নতুন গানে ঝিমলি-বিক্রমের কেমিস্ট্রি!
প্রথমেই আসছে কাফের মাপ। ২২–২৬ সেন্টিমিটার বাহুর মাপের জন্য সাধারণত ছোট কাফ প্রয়োজন। ২৭–৩৪ সেন্টিমিটার বাহুর জন্য সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের কাফ ব্যবহার করা হয়। ৩৫–৪৪ সেন্টিমিটার বাহুর জন্য প্রয়োজন হতে পারে বড় কাফ। বাহু আরও বড় হলে প্রাপ্তবয়স্কদের উরুর কাফও প্রয়োজন হতে পারে।তবে কাফের সঠিক মাপ যন্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থার উপরও নির্ভর করতে পারে। বাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়, যাচাই করা ওপরের-বাহুর যন্ত্রই সাধারণত বেশি পছন্দনীয়।

আরেকটি ভুল হল দৌড়ঝাঁপের পরেই রক্তচাপ (BP) মেপে ফেলা। সিঁড়ি দিয়ে উঠেই বা ব্যায়াম কিংবা বাড়ির কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই রক্তচাপ মেপে ফেললেন। সেক্ষেত্রে যে সংখ্যা উঠবে, সেটি বিশ্রাম অবস্থার রক্তচাপ নাও হতে পারে। কারণ রক্তচাপ স্থির কোনও সংখ্যা নয়, নানা পরিস্থিতিতে তা বদলাতে পারে।
ব্যায়াম, ক্যাফিন, ধূমপান এমনকি মূত্রথলি ভর্তি থাকাও রক্তচাপের (BP) মাপে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মাপার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বসার ধরনও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পা ক্রস করে নয়, দু’পা মাটিতে রেখে , সোজা হয়ে বসতে হবে। কাফ খালি বাহুর উপরে থাকবে এবং বাহুটিকে হৃদপিণ্ডের সমতলে ভর দিয়ে রাখতে হবে। কাফের নিচের দিকটি কনুইয়ের ভাঁজের ঠিক উপরে থাকা উচিত।
আর ব্লাড প্রেসার (BP)মাপার সময় ফোনে মেসেজ দেখা, কথা বলা বা হাত নাড়াচাড়া? এগুলিও বাদ দিতে হবে। মাপ চলাকালীন শরীরকে স্থির ও শান্ত রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে, তাই একটি মাত্র রিডিংকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
আরও লিখুন – এআই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে মোটা অঙ্কের বাজি কেন্দ্রের!

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রায় এক মিনিট ব্যবধানে অন্তত দু’বার মাপ (BP) নেওয়া যেতে পারে। রক্তচাপের মাপ নিয়মিত লিখে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এই নথি চিকিৎসককে রক্তচাপের ধরণ বুঝতে সাহায্য করতে পারে। এতে চিকিৎসকের কাছে ‘হোয়াইট-কোট হাইপারটেনশন’-এর মতো পরিস্থিতিও ধরা পড়তে পারে। তাই নিয়ম মেনে মাপ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে একাধিক রিডিং (Reading) নথিভুক্ত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাড়িতে রক্তচাপ মাপার আসল বিষয় শুধু যন্ত্র নয়—যন্ত্রটা কীভাবে ব্যবহার করছেন, সেটাই আসল।
