বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোর নিচে যে কতটা নির্মম অন্ধকার লুকিয়ে থাকে, তা আরও একবার প্রমাণ করল ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলের আকস্মিক প্রয়াণ। ‘কুমকুম ভাগ্য’, ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকের এই পরিচিত মুখকে গত ১৪ জুন তাঁর নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। কাকতালীয়ভাবে, ওই দিনটি ছিল অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী।

সঞ্চিতার এই অকালমৃত্যু বিনোদন জগতের ভেতরের কদর্য রূপটাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। অথচ মৃত্যুর মাত্র ১৮ ঘণ্টা আগেও সমাজমাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত নাচের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন ২২ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী। সেই হাসিমুখের আড়ালে যে এমন গভীর অবসাদ লুকিয়ে ছিল, তা আঁচ করতে পারেনি কেউ। সঞ্চিতার ভাই অবিনাশের দাবি, গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের তীব্র মানসিক চাপ, কাজের অভাব এবং প্রতিনিয়ত সিনিয়ারদের কাছ থেকে পাওয়া অপমান সহ্য করতে না পেরেই তাঁর বোন এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সহ-অভিনেত্রী মেঘা শর্মাও জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি মাস থেকে সঞ্চিতা মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, যদিও দিন দশেক আগেও তিনি নতুন কাজের জন্য আশাবাদী হয়ে অডিশন দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন – NEET পরীক্ষাকে ঘিরে কড়া পদক্ষেপ, ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ Telegram
সঞ্চিতার এই রহস্যমৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সোশ্যালে বোমা ফাটিয়েছেন আরেক অভিনেত্রী আঁচল খুরানা। তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে আঁচল স্পষ্ট জানান, এই গ্ল্যামার দুনিয়ায় একজন শিল্পীর জীবনের কোনও মূল্য নেই। এখানে টিকে থাকার শর্ত কেবল অনৈতিক আপস অথবা মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করা। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “কারও শয্যাসঙ্গিনী হতে অস্বীকার করলে বা আত্মসম্মান বাঁচাতে রুখে দাঁড়ালে মুহূর্তের মধ্যে কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়।” প্রতিদিনের অডিশন আর প্রত্যাখ্যানের তীব্র যন্ত্রণা তরুণ শিল্পীদের আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
টেলিভিশন থেকে শুরু করে বড়পর্দায় ভিকি কৌশলের ‘ছাওয়া’ ছবির তারাবাই চরিত্র— সঞ্চিতার ক্যারিয়ারের গ্রাফ যখন নতুন দিশা পাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ট্র্যাজেডি রূপোলী পর্দার ভেতরের নোংরা বাস্তবকে নগ্ন করে দিল। সাফল্য আর প্রত্যাখ্যানের এই নির্মম ইঁদুরদৌড়ে আর কত প্রাণ ঝরবে, এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বিনোদন মহলে।


