নতুন আইফোন, ম্যাক কিংবা আইপ্যাড কেনার পরিকল্পনা থাকলে এবার বাড়তি খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে গ্রাহকদের। কারণ, দীর্ঘদিন দাম স্থির রাখার পর অবশেষে মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছে অ্যাপল।
সংস্থার সিইও টিম কুক নিজেই জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই চাপ আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অ্যাপল সূত্রে খবর, প্রথম ধাপে ম্যাক ও আইপ্যাডের দাম বাড়ানো হতে পারে। পরে আইফোন-সহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও কোন পণ্যের দাম কতটা বাড়বে বা কবে থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি সংস্থা।
আরও পড়ুন – বিনামূল্যে রিলসের দিন শেষ? সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু ‘পেইড জমানা’

‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিম কুক বলেন, “মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। গ্রাহকদের উপর চাপ কমানোর চেষ্টা করা হলেও উৎপাদন ব্যয়ের লাগামছাড়া বৃদ্ধি সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। AI সার্ভার ও ডেটা সেন্টারগুলির জন্য বিপুল পরিমাণ চিপ বরাদ্দ হওয়ায় সাধারণ ইলেকট্রনিক্স নির্মাতারা সরবরাহ সংকটে পড়ছেন। এর জেরেই বাজারে ডির্যারম (DRAM) মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী।
আরও পড়ুন – খেলা ২০ দিন এগোচ্ছে আইপিএল! ইঙ্গিত বোর্ড সচিবের!
এদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ড ‘ওয়ানপ্লাস’ ও ‘নাথিং’ ইতিমধ্যেই তাদের একাধিক পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। অ্যাপল এতদিন সেই পথে না হাঁটলেও এবার পরিস্থিতির চাপে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে বাজারে আসতে চলেছে আইফোন ১৮ সিরিজ। এই সিরিজেই সংস্থার প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। যদিও অ্যাপল এখনও নতুন সিরিজের সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি কোনও সম্পর্কের কথা স্বীকার করেনি। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যন্ত্রাংশের খরচ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের আইফোন মডেলগুলির দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
গবেষণা সংস্থা টেকইনসাইটসের অনুমান, বর্তমান মুনাফার হার বজায় রাখতে গেলে ভবিষ্যতের আইফোন প্রো মডেলের দামে প্রায় ২৭০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। ফলে আগামী দিনে অ্যাপলের প্রিমিয়াম ডিভাইস কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


