বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত থেকেই বাংলা দিবসের প্রচলনের চিন্তাভাবনা। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন প্রথম ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাকে ভাগ করা হবে। ২০ জুন তা নিয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটির দিন নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন বঙ্গ পরিষদ সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়ে দোলাচলে ছিলেন। সমগ্র পরিষদের ভোটাভুটিতে খারিজ হয়ে যায় বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন – চারধাম যাত্রায় রেকর্ড ভিড়, তিন মাসে ৩৭ লক্ষ পুণ্যার্থী!
সেই সময় ব্রিটিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিকে পাকিস্তানের ও হিন্দু অধ্যুষিত জেলাগুলিকে ভারতের অন্তর্গত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সামগ্রিক ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত না হলে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলির পারিষদরা এবং হিন্দু জেলাগুলির পারিষদরা আলাদাভাবে ভোটাভুটি করেন।
হিন্দু পারিষদরা ৫৮-২১ ভোটে বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের সিলমোহর দেন। এই পারিষদদের নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু মহাসভার সদস্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তবে তৎকালীন কংগ্রেস সদস্যরা, এমনকি কমিউনিস্টদের মধ্যে জ্যোতি বসুও বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন – রাজনীতির ‘আন্ডা’ এবার মিষ্টির ট্রেতে জামাইষষ্ঠীতে এবার ‘ডিম সন্দেশ’!
তবে মুসলিম জেলাগুলির পারিষদরা বাংলাকে ভাগ করার বিপক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন। যদিও ব্রিটিশ সরকার হিন্দু জেলাগুলির পক্ষেই রায় দিয়ে বাংলাকে ভাগ করেছিল। ২০ জুন এই ভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছিল বলে, এই দিনটিকেই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিল।

যদিও এই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। এমনকি ২০ জুন যে জেলাগুলির হিসাবে সেই সময় বঙ্গ ভঙ্গ হয়েছিল, তা ভারতের স্বাধীনতার পরেও অনেকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও অনেক জেলা। যার ফলস্বরূপ আজকের পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন, করিমপুর থেকে অযোধ্যার বর্তমান রূপ পেয়েছে।


