উত্তরাখণ্ডে চলতি বছরের চারধাম যাত্রায় রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে যাত্রা শুরু হওয়ার পর ১৮ জুন পর্যন্ত চারধামের বিভিন্ন তীর্থস্থানে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৩৭ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়েছে।
আরও পড়ুন – রাজনীতির ‘আন্ডা’ এবার মিষ্টির ট্রেতে জামাইষষ্ঠীতে এবার ‘ডিম সন্দেশ’!
তবে একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়িয়েছে পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর ঘটনা। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে চারধাম যাত্রার সময় মোট ১৯৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। উত্তরাখণ্ড স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চারধাম যাত্রায় মোট ৩৭.৩৫ লক্ষ পুণ্যার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছে কেদারনাথে। ২২ এপ্রিল মন্দিরের দরজা খোলার পর থেকে সেখানে গিয়েছেন প্রায় ১২.৬১ লক্ষ ভক্ত। ২৩ এপ্রিল থেকে বদ্রীনাথ দর্শন করেছেন প্রায় ১১.৬৭ লক্ষ পুণ্যার্থী। গঙ্গোত্রীতে গিয়েছেন ৬.১৭ লক্ষ এবং যমুনোত্রীতে প্রায় ৫.৮৩ লক্ষ মানুষ। পাশাপাশি, শিখদের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হেমকুণ্ড সাহিবে গিয়েছেন ১.০৫ লক্ষেরও বেশি ভক্ত।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চারধাম যাত্রা শুরুর পর থেকে মোট ৩.৫৪ লক্ষ যানবাহন যাত্রাপথ ব্যবহার করেছে। শুধু বৃহস্পতিবারই চারধামের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছেছেন ৪২,৯২১ জন পুণ্যার্থী এবং ৪,৯৮৪টি যানবাহন। তবে বিপুল ভিড়ের মাঝেই বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ১৯ এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১৯৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে। বাকি তিন জনের মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

চারধামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কেদারনাথে। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৫ জন পুণ্যার্থী। বদ্রীনাথে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের, যমুনোত্রীতে ২৬ জনের এবং গঙ্গোত্রীতে ১৮ জনের। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দীর্ঘ ও দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে অনেকেরই হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেই কারণেই চারধাম যাত্রায় অংশ নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষত হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই যাত্রায় অংশগ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন – ‘অল ইজ ওয়েল’ এবার মাঝবয়সে! অবশেষে ফিরছে ‘৩ ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর এপ্রিল বা মে মাসে চারধামের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং শীতের শুরুতে, সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে যাত্রা শেষ হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, যমুনোত্রী থেকে শুরু হয়ে গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ এবং শেষে বদ্রীনাথ দর্শনের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হয় চারধাম যাত্রা।


