মোবাইলটা নামিয়ে হঠাৎ দূরের দিকে তাকালেন, আর মনে হল—“আরে, সবকিছু এত ঝাপসা লাগছে কেন?(Digital Eye Strain)” একটু চোখ কচলালেন, কয়েকবার পলক ফেললেন, তারপর আবার ঠিক! পরিচিত লাগছে? তাহলে আপনি একা নন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল, ল্যাপটপ বা ট্যাবের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে এমন অস্বস্তি হতে পারে। একেই বলা হয় ডিজিটাল আই স্ট্রেন (Digital Eye Strain) বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম।
আজকাল কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন—সবই তো স্ক্রিনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল, ল্যাপটপ বা ট্যাবের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে অনেকেরই দেখা দেয় ডিজিটাল আই স্ট্রেন (Digital Eye Strain) বা স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত চোখের অস্বস্তি।
আরও পড়ুন – সবসময় ব্যস্ত থাকলেই কি আপনি প্রোডাক্টিভ ?
কিন্তু প্রশ্ন হল, স্ক্রিনের দিকে তাকালেই চোখ ঝাপসা লাগে কেন?
আসলে স্ক্রিনের দিকে টানা তাকিয়ে থাকলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলি। ফলে চোখের উপরিভাগ শুকিয়ে যেতে পারে। তখন চোখে জ্বালা, শুষ্ক ভাব, জল পড়া, লালচে ভাব, চোখ ক্লান্ত লাগা, বা ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা, এমনকি ঘাড় ও কাঁধে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে একটা কথা পরিষ্কার—ডিজিটাল আই স্ট্রেন (Digital Eye Strain) মানেই যে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, তা নয়। সাধারণত বিশ্রাম নিলে অস্বস্তি কমে। কিন্তু সমস্যা বারবার হলে বা দীর্ঘদিন থাকলে সেটিকে শুধু “মোবাইল বেশি দেখেছি” বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ ড্রাই আই বা চশমার পাওয়ারের মতো অন্য কোনও চোখের সমস্যাও এর পিছনে থাকতে পারে।

তাহলে কী করবেন? খুব কঠিন কিছু নয়। ২০-২০-২০ নিয়ম মনে রাখুন—প্রতি ২০ মিনিটে অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনও কিছুর দিকে তাকান। স্ক্রিন খুব কাছে ধরে না দেখা, ঘরের আলো ও স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আরামদায়ক রাখা এবং প্রয়োজনমতো বিরতি নেওয়াও জরুরি। চোখ শুকনো লাগলে বা বারবার অস্বস্তি হলে নিজে থেকে দীর্ঘদিন আই ড্রপ ব্যবহার না করে চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
কিন্তু ঝাপসা দেখা যদি বিশ্রামের পরও না কমে, চোখে ব্যথা বা দীর্ঘদিনের লালভাব থাকে, তাহলে দেরি না করে চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ সব ঝাপসা দেখার কারণ যে শুধু মোবাইল, তা কিন্তু নয়।
আরও পড়ুন – ইস্টবেঙ্গলে আসছেন না রাউল, এএফসিতে নেই নাচো
তাই মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, এমন নয়। আসল কথা হল—একটানা স্ক্রিনে ডুবে না থেকে চোখকেও একটু বিরতি দিন। কারণ, ফোনের নোটিফিকেশন পরে দেখলেও চলবে, কিন্তু চোখের বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা এড়িয়ে গেলে চলবে তো?



