HomeদেশTraffic Pollution :দুর্ঘটনার থেকেও নীরব ঘাতক! যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় কাঁপছে দেশ, মুক্তির...

Traffic Pollution :দুর্ঘটনার থেকেও নীরব ঘাতক! যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়ায় কাঁপছে দেশ, মুক্তির উপায় কী?

- Advertisement -spot_img

যানবাহন দূষণ (Traffic Pollution) ও অকালমৃত্যু— শব্দদুটি আজ আর নিছক কোনও খবরের শিরোনাম নয়, বরং প্রতিটি ভারতবাসীর দৈনন্দিন জীবনের এক মারাত্মক আতঙ্ক। প্রতিদিন সকালে উঠে বাসে বাদুড়ঝোলা হয়ে অফিস যাওয়া, কিংবা অটো-ট্যাক্সি চেপে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া—এটাই ভারতের আপামর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অতি চেনা একটি ছবি। স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত—সবারই যাতায়াতের মূল ভরসা এই গণপরিবহণ ব্যবস্থা। এই চাকার উপর ভর করেই প্রতিদিন বেঁচে থাকে অসংখ্য ব্যবসা, হাজারো মানুষের রুটিরুজি। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে রাস্তা দিয়ে আপনি প্রতিদিন নিশ্চিন্তে যাতায়াত করছেন, সেখানেই ওত পেতে আছে এক অদৃশ্য যমদূত?

হ্যাঁ, যানবাহনের ধোঁয়ায় দূষণ (Traffic Pollution) আজ আর কেবল পরিবেশের ক্ষতি করছে না, বরং নীরবে কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার তরতাজা প্রাণ। ভয়ংকর এক পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের রাজপথে প্রতি ৬ মিনিটে একজন মানুষ অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন! আর এর জন্য কোনো মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা বা বেপরোয়া ড্রাইভিং দায়ী নয়, সম্পূর্ণভাবে দায়ী ওই ইঞ্জিন থেকে বেরোনো ঘাতক কালো ধোঁয়া।

আরও পড়ুন – পহেলগাঁও হাম.লার পর মোদীর প্রথম প্রশ্ন কী ছিল?

দুর্ঘটনার চেয়েও ভয়ংকর এক ‘নীরব ঘাতক’

ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন (ICCT)-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো কিছু তথ্য। ‘হেল্‌থ বেনিফিটস অফ জ়িরো-এমিশন ট্রান্সপোর্ট থ্রু ২০৫০’ শীর্ষক ওই রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে যত অকালমৃত্যু ঘটে, তার ১৩ শতাংশই হয় আমাদের এই ভারতে। হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিদিন দেশে ২০০-রও বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে স্রেফ এই দূষিত বাতাসে (Traffic Pollution) শ্বাস নেওয়ার কারণে। আমাদের খেয়েপড়ে বাঁচার তাগিদে যে গণপরিবহণগুলো অপরিহার্য, সেগুলোই আজ নিঃশব্দে আমাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বিপদে আমাদের ভবিষ্যৎ

বড়দের পাশাপাশি এই বিষাক্ত ধোঁয়ার সবচেয়ে অসহায় শিকার হচ্ছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ৩৪ মিনিটে ভারতের একটি শিশু নতুন করে হাঁপানি বা অ্যাজমার মতো শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাত্যহিক কাজ বা স্কুলে যাওয়ার পথেই এই বিষাক্ত কণাগুলো তাদের নরম ফুসফুসে প্রবেশ করছে।

traffic pollution

শুধুমাত্র ২০২৪ সালের দিল্লির একটি পরিসংখ্যান দেখলেই গোটা দেশের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তার আঁচ পাওয়া যায়। ICCT-র প্রবীণ গবেষক লিংঝি জিন জানিয়েছেন, শুধু রাজধানী দিল্লিতেই গত বছর সড়ক পরিবহণের ধোঁয়ায় ২৮০০ জনের অকালমৃত্যু হয়েছে এবং ১৫০০ শিশু চিরস্থায়ী হাঁপানির শিকার হয়েছে।

আসল ‘খুনি’ কে? ধোঁয়ার আড়ালে লুকানো সত্য

দূষণের (Traffic Pollution) মূলে কোন যানবাহনগুলো রয়েছে? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে গবেষকরা আঙুল তুলেছেন মূলত ভারী যানবাহনের দিকে— অর্থাৎ বাস, ট্রাক বা লরির মতো বড় গাড়িগুলো। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, সড়ক পরিবহণ থেকে নির্গত ক্ষতিকারক নাইট্রোজেন অক্সাইডের ৭৯ শতাংশ এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণার (PM2.5) ৬৪ শতাংশের জন্যই দায়ী এই দানবাকৃতির ভারী গাড়িগুলি।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, গবেষণাগারে পরীক্ষার সময় এই গাড়িগুলোর ধোঁয়ার যে মাত্রা পাওয়া যায়, বাস্তবে রাস্তায় চলার সময় তার চেয়ে বহু গুণ বেশি বিষাক্ত পদার্থ এরা বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, খাতার হিসেবের চেয়ে বাস্তবের মৃত্যুর হিসেবটা আরও অনেক বেশি মারাত্মক।

অর্থনীতি বনাম জীবন বাঁচানোর লড়াই

জীবনযাপনের চাকা সচল রাখতে গণপরিবহণ অপরিহার্য ঠিকই। সবজি বাজার থেকে অফিস-কাছারি—সড়কপথে যান চলাচল ছাড়া এ দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে বাস-অটো ছাড়া যাতায়াতের সস্তা বিকল্প নেই। কিন্তু এই ‘খেয়েপড়ে বাঁচার তাগিদ’ই যখন মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে, তখন বিকল্প ভাবার সময় এসে গিয়েছে।

মুক্তির উপায় কী?

তবে এই চরম হতাশার মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থা। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যদি ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের সমস্ত পরিবহণ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ব্যাটারিচালিত (Electric Vehicles) বা সম্পূর্ণ দূষণহীন (Traffic Pollution) প্রযুক্তিতে (Zero-Emission Transport) রূপান্তর করা যায়, তবে অন্তত ১৭ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন – ক্যালেন্ডারে লাল দাগ! আপনার কাছে ১৫ই আগস্ট মানে কী শুধুই ছুটির আমেজ ?

শুধু তাই নয়, দূষণহীন (Traffic Pollution) প্রযুক্তির ব্যবহারে শিশুদের হাঁপানি বা অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকেও অনেকাংশে মুক্তি মিলবে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমরা কি সময় থাকতে সচেতন হবো? নাকি প্রতিদিন ৬ মিনিটের এই মৃত্যুঘণ্টা এভাবেই বাজতে থাকবে? সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের আজই পরিবেশবান্ধব যানবাহনের দিকে ঝুঁকতে হবে, তা না হলে আগামী দিনে এই কালো ধোঁয়াই আমাদের অস্তিত্ব গ্রাস করবে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
f
2,614
Facebook Followers
Follow
Must Read
Related News
spot_img