নরেন্দর বেরওয়াল (Narender Berwal)– এই নামটা এখন ভারতীয় ক্রীড়ামহলে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ট্রেন্ডিং। বক্সিং রিংয়ে প্রতিপক্ষকে স্রেফ ঘুষি মেরে ধরাশায়ী করাই নয়, কখনও কখনও নিজের ‘নাম’ দিয়েও যে বিপক্ষকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দেওয়া যায়, তা কে জানত! আর সেই নামের দাপটে যদি খোদ এক পাকিস্তানি বক্সার বলতে বাধ্য হন, “আমার এই নামটাতেই ঘেন্না ধরে গেছে,” তবে বিষয়টা যে কতটা মজাদার হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। সম্প্রতি এমনই এক হাসির রোল ওঠা গল্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শোনালেন কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী ভারতীয় বক্সার নরেন্দ্র বেরওয়াল। আর সেই গল্প শুনে খোদ প্রধানমন্ত্রীও হাসিতে ফেটে পড়লেন!
রবিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (The Glasgow Commonwealth Games 2026) পদকজয়ী ভারতীয় অ্যাথলিটদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য এক বিশেষ আলাপচারিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই হালকা মেজাজে আড্ডা চলাকালীন নিজের জীবনের একটি রোমাঞ্চকর অথচ চূড়ান্ত হাসির ঘটনা শেয়ার করেন নরেন্দর (Narender Berwal)। গল্পটা ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড মিলিটারি গেমসের। সেখানে এক পাকিস্তানি বক্সারের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাঁর।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলে আসছেন না রাউল, এএফসিতে নেই নাচো
ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ মানেই তো টানটান উত্তেজনা, আর সেটা যদি হয় বক্সিং রিংয়ে, তবে তো পারদ চড়বেই! নরেন্দর (Narender Berwal) প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ওই ম্যাচের আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফ থেকে তাঁর কাছে কড়া নির্দেশ এসেছিল, “যাই হয়ে যাক না কেন, কোনওভাবেই একজন পাকিস্তানির কাছে হারা চলবে না!” নরেন্দর (Narender Berwal) রিংয়ে নেমে আক্ষরিক অর্থেই তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তিনি ওই পাক বক্সারকে হারিয়ে ম্যাচ জেতেন ঠিকই, কিন্তু দুজনেরই চোট লাগে এবং ম্যাচ শেষে সেলাইয়ের জন্য তাঁদের দু’জনকেই হাসপাতালে ছুটতে হয়।

আসল মজাটা শুরু হয় সেই হাসপাতালের বেডে। মেডিকেল রুমে পাশাপাশি বসে থাকার সময় সেই পাকিস্তানি বক্সার হঠাৎ এক অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করেন। তিনি আবিষ্কার করেন যে, তাঁকে যিনি হারিয়েছেন তাঁর নাম নরেন্দ্র, তাঁর কোচের নামও নরেন্দ্র, আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নামও নরেন্দ্র! এই অভাবনীয় কাকতালীয় বিষয়টিতে চরম বিরক্ত হয়ে সেই পাক বক্সার বলে ওঠেন, “ভাইজান, আপকা নাম নরেন্দ্র হ্যায়, আপকে কোচ কা নাম নরেন্দ্র হ্যায়, আপকে প্রধানমন্ত্রী কা নাম নরেন্দ্র হ্যায়… মুঝে নরেন্দ্র নাম সে নফরত হো গয়ি হ্যায়!” (ভাইজান, আপনার নাম নরেন্দ্র, আপনার কোচের নাম নরেন্দ্র, আপনার প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র… আমার এই নরেন্দ্র নামটাতেই ঘেন্না ধরে গেছে!)।
এই কথা শোনা মাত্রই হাসির রোল ওঠে গোটা ঘরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই অভাবনীয় এবং মজার ঘটনা শুনে নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি, হো হো করে হেসে ওঠেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ইউটিউব চ্যানেলে এই মজাদার আড্ডার ভিডিওটি প্রকাশ পেতেই তা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরাও পাক বক্সারের এই অসহায় আক্ষেপ শুনে মজার মজার মন্তব্য করছেন।
বক্সিংয়ে ভারতের ঐতিহাসিক দাপট
নরেন্দরের (Narender Berwal) এই সাফল্য কিন্তু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সিং দল যে দাপট দেখিয়েছে, তা ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বক্সিং রিং থেকে ভারত এবার সর্বকালের সেরা ফল করে ১০টি পদক (৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো) ছিনিয়ে এনেছে। যার মধ্যে অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন নরেন্দ্র (Narender Berwal) নিজেও, তাঁর অসাধারণ দক্ষতায় তিনি জিতে নিয়েছেন রুপোর পদক। প্রধানমন্ত্রী এদিন এই অসামান্য সাফল্যের জন্য সমস্ত বক্সার ও অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের প্রশংসা করেন। তাঁদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও দেশের প্রতি আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ঘর সাজানোর এক্সক্লুসিভ গাইড! স্টাইলিশ ড্রয়িংরুম পেতে আজই জানুন এই সেরা ডিজাইন
সব মিলিয়ে এবারের গ্লাসগো গেমসে ভারতের সার্বিক পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৯টি পদক ঝুলিতে পুরে পদক তালিকার চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে টিম ইন্ডিয়া—যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ পদক। ১১ দিনের এই মেগা স্পোর্টিং ইভেন্ট শেষ হওয়ার পর স্কটল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও ব্যাটন তুলে দেয়। কারণ, ২০৩০ সালের পরবর্তী এবং শতবর্ষের ঐতিহাসিক কমনওয়েলথ গেমস আয়োজিত হতে চলেছে ভারতেরই মাটিতে, আহমেদাবাদে!
গ্লাসগোর রিং থেকে মোদীর বাসভবন—ভারতীয় বক্সারদের দাপট আর ‘নরেন্দ্র’ নামের ম্যাজিকেই এখন মশগুল গোটা দেশ!



