বাঙালির কাছে বারান্দা (Balcony) মানে নিছক একটা কংক্রিটের ব্যালকনি নয়, বারান্দা (Balcony) মানে একরাশ নস্টালজিয়া। ছুটির দিনের সকালের রোদ মাখা চায়ের কাপ, বিকেলবেলার জমজমাট আড্ডা, কিংবা বর্ষার দিনে গ্রিল ধরে বৃষ্টি দেখার এক অদ্ভুত রোমান্টিসিজম লুকিয়ে থাকে এই ছোট্ট জায়গাটায়। কিন্তু বাস্তবটা কী? আজকাল শহরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বারান্দার (Balcony) দিকে তাকালে প্রায়শই দেখা যায় এক করুণ চিত্র। হয় সেখানে দড়িতে ঝুলছে ভেজা জামাকাপড়, নয়তো এক কোণে পড়ে আছে বাতিল বালতি আর গত গরমে শুকিয়ে যাওয়া একখানা টব। বসার ঘরের সাজসজ্জায় আমরা যতটা সময় দিই, বারান্দার ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই অবহেলা করি।
অথচ সামান্য একটু সৃজনশীলতা আর বুদ্ধির ছোঁয়ায় আপনার ওই চিলতে বারান্দাই (Balcony) হয়ে উঠতে পারে বাড়ির সবচেয়ে প্রিয় আর আরামদায়ক কোণ। আসুন, জেনে নিই কীভাবে খুব সহজে আপনার বারান্দাকে এক মায়াবী রূপ দেবেন।

আরও পড়ুন: কেবলের গায়ে ত্রিশূলের রহস্য! না জানলে বড় ক্ষতি হতে পারে আপনার ফোনের
ভিত্তি হোক মজবুত ও নিরাপদ
বারান্দা (Balcony) সাজানোর প্রথম শর্তই হলো সঠিক মেঝের নির্বাচন। আমাদের দেশে যখন-তখন বৃষ্টির হানা লেগেই থাকে। সাধারণ চকচকে টাইলস ভিজে গেলে যেকোনো সময় বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই প্রাথমিক খরচ একটু বেশি হলেও অ্যান্টি-স্কিড বা পিছলে যাওয়া রোধক আউটডোর টাইলস বসানোটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আর আপনি যদি ভাড়া বাড়িতে থাকেন? চিন্তা নেই! সিমেন্ট বা ড্রিলিংয়ের ঝামেলা ছাড়াই এখন ইন্টারলকিং উডেন ডেক টাইলস পাওয়া যায়। এগুলো সরাসরি মেঝের ওপর বসিয়ে দেওয়া যায় এবং বাড়ি বদলানোর সময় সহজেই খুলেও নেওয়া যায়।

আড্ডার নতুন ঠিকানা
বেশিরভাগ ফ্ল্যাটের বারান্দাই (Balcony) খুব একটা চওড়া হয় না, ফলে বড় চেয়ার রাখলে হাঁটাচলার জায়গা থাকে না। এর এক দারুণ সমাধান হলো ‘ফ্লোর-লেভেল সিটিং’ বা মেঝেতে বসার ব্যবস্থা। একটি কাঠের প্যালেটের ওপর গদি বা রঙিন কুশন ফেলে অনায়াসেই তৈরি করে ফেলতে পারেন আপনার নিজস্ব রিডিং কর্নার। আর যদি ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা বা কফি খাওয়ার শখ থাকে, তবে দেয়াল ঘেঁষে একটি ছোট ‘বিস্ট্রো টেবিল’ রাখতে পারেন। এতে জায়গা বাঁচে, আবার ছুটির সকালে আলস্য কাটানোর দারুণ একটা জায়গাও তৈরি হয়।
সবুজের ছোঁয়া, তবে একটু অন্যভাবে
গাছ ছাড়া বারান্দা (Balcony) বড্ড বেমানান। বাঙালি আর গাছ ভালোবাসবে না, তা কি হয়! কিন্তু মেঝেতে টব রাখলে হাঁটার জায়গা কমে যায়। এর বদলে রেলিং বক্স, ঝুলন্ত প্ল্যান্টার বা ম্যাক্রামে স্লিং ব্যবহার করুন। এতে বৃষ্টির জল জমে কাদা হওয়ার ভয়ও থাকে না। ফলে মেঝেও ফাঁকা থাকবে, অথচ বারান্দাও হয়ে উঠবে সবুজ। আর যদি একটু কাজের জিনিস চান, তবে দেয়ালে একটি ‘ভার্টিকাল হার্ব প্ল্যান্টার’ বা লম্বালম্বি বাগান বানাতে পারেন। সেখানে পুদিনা, ধনেপাতা বা লঙ্কা গাছ লাগান—দেখতেও সুন্দর লাগবে, আবার রান্নাঘরের কাজেও আসবে।

আলো আর ছায়ার মায়াবী খেলা
বারান্দার (Balcony) আসল সৌন্দর্য খোলে সন্ধেবেলায়। ছাদ থেকে আলো না ঝুলিয়ে রেলিংয়ের গাছের টবে জড়িয়ে দিন ফেয়ারি লাইট। এক পাশে রাখুন একটি সোলার লণ্ঠন, কিছু সুগন্ধি মোমবাতি বা মাটির প্রদীপ। দেখবেন, রাতের বারান্দা (Balcony) কেমন মায়াবী হয়ে উঠেছে! দিনের বেলা রোদের তেজ বা বৃষ্টির ছাট থেকে বাঁচতে ফোল্ডিং ছাউনি বা বাঁশের তৈরি রোল-আপ ব্লাইন্ড ব্যবহার করতে পারেন। বাঁশের ব্লাইন্ড এক নিমিষেই আপনার আধুনিক ফ্ল্যাটে এক অদ্ভুত পুরনো দিনের নস্টালজিয়া এনে দেবে।

শেষ স্পর্শে থাকুক নিজস্বতা
আপনার বসার ঘরের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বারান্দার (Balcony) মেঝে বা দেওয়ালের রং করুন। এতে বারান্দাটিকে (Balcony) আলাদা কোনো অংশ মনে হবে না। মেঝের একঘেয়েমি কাটাতে বিছিয়ে দিন ব্লক-প্রিন্ট বা ডোরাকাটা শতরঞ্জি। আবহাওয়া খারাপ হলে এগুলো গুটিয়ে ফেলা এক মিনিটেরও কম সময়ের কাজ।
সবশেষে, বারান্দায় (Balcony) একটু শৈল্পিক ছোঁয়া দিতে একটি পোড়ামাটির পাত্র বা ছোট টেরাকোটার দেয়ালসজ্জা ঝুলিয়ে দিন। মাটির এই জিনিসগুলো যেকোনো আবহাওয়ায় টিকে থাকে এবং আপনার বারান্দায় (Balcony) এক অদ্ভুত গ্রামীণ ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করে।
আরও পড়ুন: পুরনো জিমেল আইডি নিয়ে লজ্জা? নতুন অ্যাকাউন্ট ছাড়াই বদলে ফেলুন এইভাবে!
বারান্দা (Balcony) শুধু বাড়ির বাইরের একটা অংশ নয়; এটি আপনার বাড়ির ফুসফুস। একটু সৃজনশীলতা আর ভালোবাসার ছোঁয়া দিলেই আপনার এই সাধারণ বারান্দাটি (Balcony) হয়ে উঠবে আপনার সকালের চা, বিকেলের বই পড়া আর ছুটির দিনের আড্ডার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। তাহলে আর দেরি নয়, আজই শুরু করে দিন আপনার বারান্দার (Balcony) ম্যাজিক মেকওভার!



