জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা—শুনলে প্রথমে খুব সাধারণই মনে হয়। কিন্তু এই চেনা উপসর্গগুলির আড়ালেই যদি থাকে এইচ১এন১ (H1N1) ? দিল্লি-এনসিআরে বর্ষার ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে এখন সেই প্রশ্নই নতুন করে উঠছে। কারণ গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজধানীতে এইচ১এন১ (H1N1) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ছ’গুণ।
চলতি বছরে দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত ১,৩৪৯টি (H1N1) আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২৯। শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, চিকিৎসকদের মধ্যেও কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে বাড়ছে অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণও।

কিন্তু H1N1 আসলে কী?
সহজ করে বললে, এটি (H1N1)এক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza) ভাইরাস। সাধারণভাবে যাকে সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu) বলা হয়। মূলত শ্বাসযন্ত্রেই সংক্রমণ ঘটায় এই ভাইরাস। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বেরিয়ে আসা ক্ষুদ্র কণার থেকেও অন্যের শরীরে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

আর শুরুটাও অনেক সময় এমনভাবে হয় যে বোঝাই কঠিন। হঠাৎ জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, কাঁপুনি কিংবা প্রবল ক্লান্তি—সবই হতে পারে। তাই অনেকেই প্রথমে একে সাধারণ ফ্লু (Flu) বা ভাইরাল জ্বর ভেবে বসেন।
আরও পড়ুন – বক্স অফিসে ছক্কা হাঁকালেন সুপারস্টার! প্রথম সপ্তাহে কত কোটির ব্যবসা করল জিতের নতুন ছবি?
তবে এখানেই একটু সতর্ক হওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকেরা। কারণ কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হয়ে শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও কমে যেতে পারে। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা সামনে এসেছে।
শ্বাস নিতে কষ্ট, বুকে ব্যথা, দীর্ঘক্ষণ বেশি জ্বর কিংবা হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাই আর দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিভ্রান্তি বা ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।
তবে (H1N1) শুনেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। অনেক সুস্থ মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে সেরে ওঠেন। কিন্তু বয়স্ক মানুষ, ছোট শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং ডায়াবেটিস, হৃদ্যন্ত্র বা ফুসফুসের দীর্ঘদিনের সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নিজের মতো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। (H1N1)-এর ক্ষেত্রে ওসেল্টামিভির (Oseltamivir) উপসর্গ শুরুর প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। আবার H1N1 হলেই অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) খেতে হবে, এমনটাও নয়। অন্য কোনও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুন – নেল আর্টে সৌন্দর্যের আড়ালে অচেনা বিপদ?

তাই আপাতত বার্তা একটাই—ভয় নয়, সতর্কতা। হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি-হাঁচির সময় শিষ্টাচার মেনে চলা এবং অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের থেকে দূরে থাকাই সংক্রমণ ছড়ানো কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আর জ্বর-কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বিষয়টিকে সাধারণ ভাইরাল ভেবে ফেলে রাখা একেবারেই ঠিক হবে না।
