টলিউড সুপারস্টার জিৎ-এর দীর্ঘ দুই বছরের প্রতীক্ষিত কামব্যাক নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে (Keu Bole Biplobi Keu Bole Dakat) ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’। প্রথম সপ্তাহেই এই ছবি প্রমাণ করে দিল, দর্শকের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে জিৎ-এর জুড়ি মেলা ভার। স্বাধীনতা দিবসের আবহে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি শুধু দর্শকদের আবেগকেই ছুঁয়ে যায়নি, বরং হল মালিকদের মুখেও চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।

আরও পড়ুন: জীবন্ত ইতিহাসের দলিল! হারিয়ে যাওয়া জৈন সংস্কৃতির বুকে এক রূপকথার সফর
বক্স অফিসে টাকার বৃষ্টি: শো বাড়ছে দ্বিতীয় সপ্তাহে!
প্রথম ৭ দিনে অল-ইন্ডিয়া বক্স অফিসে জিৎ-এর এই ছবির নেট কালেকশন ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। ছুটির দিন তো বটেই, সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতেও আয়ের ডাবল-ডিজিট ধারা বজায় রেখেছে ছবিটি। বক্স অফিসে এই দুরন্ত পারফরম্যান্সের কারণে দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে (উইকএন্ডে) মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গল স্ক্রিনগুলোতে শো সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। সিনেমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খুব শীঘ্রই ২ কোটি টাকার মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে এই অ্যাকশন-ড্রামা।

গল্পের ছক: ইতিহাস বনাম বিনোদনের মেলবন্ধন
পরিচালক পথিকৃৎ বসু এক অভাবনীয় কাজ করেছেন। এটি নিছক কোনো ঐতিহাসিক বায়োপিক নয়, বরং এক বিপ্লবীর জীবনের ছায়ায় তৈরি এক নিখুঁত কমার্শিয়াল এন্টারটেইনার। গল্প আবর্তিত হয়েছে মাস্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সহযোদ্ধা অনন্ত সিংকে কেন্দ্র করে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই থেকে শুরু করে স্বাধীন ভারতের দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেমের বিরুদ্ধে তাঁর রুখে দাঁড়ানোর যে রোমহর্ষক যাত্রা, সেটাই এই ছবির মূল ইউএসপি। ছবির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে টানটান উত্তেজনা, যা আপনাকে সিট ছেড়ে উঠতে দেবে না।

চরিত্র বিশ্লেষণ: কে কেমন অভিনয় করলেন?
- জিৎ (অনন্ত সিং): এই ছবির প্রাণভোমরা হলেন জিৎ। তরুণ বয়সের বিপ্লবী থেকে শুরু করে পরিণত বয়সের এক লড়াকু মানুষ—চরিত্রের প্রতিটি শেডে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁর রক্ত গরম করা সংলাপ বলার ধরন, চোখের ধারালো দৃষ্টি এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দর্শকদের গায়ে কাঁটা দেয়। জিতের স্টারডম এবং অনন্ত সিংয়ের আদর্শ—এই দুয়ের এমন যুগলবন্দি বাংলা সিনেমায় বেশ বিরল।
- টোটা রায়চৌধুরী ও কৌশিক সেন: গল্পের দুই মজবুত স্তম্ভ। বিশেষ করে টোটা রায়চৌধুরীর স্ক্রিন প্রেজেন্স ছবির রাজনৈতিক ও আবেগময় দিকটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।
এছাড়াও চন্দন সেন, রজতাভ দত্ত থেকে শুরু করে সুপ্রভাত দাসের মতো অভিনেতারা প্রত্যেকেই নিজের জায়গায় অনবদ্য। এই শক্তিশালী সাপোর্টিং কাস্ট ছবির বিশাল ক্যানভাসকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

কেন হলে গিয়ে দেখবেন ছবিটি?
‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ (Keu Bole Biplobi Keu Bole Dakat) এককথায় একটি ‘পয়সা উসুল’ সিনেমা। ছবিতে দক্ষিণী সিনেমার ধাঁচে লার্জার-দ্যান-লাইফ অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে, যা সিঙ্গল স্ক্রিনের দর্শকদের সিটিতে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে তা কখনোই মূল গল্পের দেশাত্মবোধক আবেগকে ক্ষুণ্ণ করেনি।
শান্তনু মৈত্রের জাদুকরী আবহসংগীত ছবির মেজাজকে একেবারে চড়া পর্দায় বেঁধে রাখে। বিশেষ করে অদৃজ ঘোষের কণ্ঠে ‘ভোর’ গানটি সিনেমা হল থেকে বেরোনোর পরও আপনার কানে বাজবে। চিত্রগ্রাহক সৌমিক হালদার সমকালীন বাংলাকে ক্যামেরায় যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

হ্যাঁ, খামতি যে একেবারেই নেই তা নয়। ছবির শেষের দিকের কোর্টরুম ড্রামা আরও একটু টানটান হতে পারত। কিছু জায়গায় মেকআপ এবং ঐতিহাসিক সময়কালের নির্মাণে সামান্য অসঙ্গতি চোখে পড়ে। কিন্তু পর্দার সামনে যখন জিৎ এসে দাঁড়ান, তখন তাঁর দুর্দান্ত স্ক্রিন প্রেজেন্সের দাপটে এই ছোটখাটো ত্রুটিগুলো অনায়াসেই ঢাকা পড়ে যায়।
আরও পড়ুন: নেল আর্টে সৌন্দর্যের আড়ালে অচেনা বিপদ?
যাঁরা ইতিহাস ভালোবাসেন, অথচ টানটান অ্যাকশন আর মাস-এন্টারটেইনমেন্ট মিস করতে চান না—তাঁদের জন্য এই ছবি এক পারফেক্ট ট্রিট। সমকালীন প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনন্ত সিংয়ের এই লড়াই আজকের দিনেও ভীষণ প্রাসঙ্গিক। এই উইকএন্ডে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে ইতিহাস আর আবেগের এই যুগলবন্দী মিস করবেন না!
