বলিউডের মেলোডি কিং আদনান সামি (Adnan Sami)—তাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়ে থেকেছে কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু একসময় সুরের জগতের এই নক্ষত্রই দাঁড়িয়েছিলেন চরম অন্ধকার মৃত্যুর মুখোমুখি। গানের সুর যতই হালকা ও মিষ্টি হোক না কেন, আদনানের Adnan Sami নিজের শারীরিক ওজন তখন পৌঁছে গিয়েছিল এক ভয়াবহ চূড়ায়—পুরোপুরি ২৩০ কেজি! কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার গল্পটি কোনো জাদুকরী রূপকথার চেয়ে কম নয়। এটি কেবল ওজন কমানোর কোনো রুটিন ইতিহাস নয়, এটি মৃত্যুভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক নতুন জীবন জয়ের অবিশ্বাস্য মহাকাব্য।
মৃত্যুর পরোয়ানা ও বাবার চোখের জল

সময়টা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ওজনের কাঁটা ছুঁয়েছিল রেকর্ড ২৩০ কেজি Adnan Sami! সাধারণ হাঁটাচলা তো দূরের কথা, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াও যাঁর জন্য হয়ে উঠেছিল এক কঠিন লড়াই। ঠিক সেই কঠিন মুহূর্তেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন এক মর্মান্তিক সত্য— হাতে সময় আছে মাত্র ছ’মাস!
এই আল্টিমেটাম আদনানের Adnan Sami জন্য যতটা না ধাক্কা ছিল, তার চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক ছিল পাশে বসে থাকা বাবার চোখের জল। আদনানের ভাষায়, চিকিৎসকের মুখে নিজের মৃত্যুর খবর শুনেও তিনি যতটা শক্ত ছিলেন, বাবার চোখ ভরা জল দেখে এক মুহূর্তে ভেঙে পড়েছিলেন। একজন সন্তানের সামনে বাবার কান্না যে কতটা বেদনার, তা অনুভব করেই সেদিন বাবার হাত ধরে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিজ্ঞাটি করেছিলেন আদনান— “আমি এই পরিস্থিতি থেকে ফিরবই, আমি হার মানব না।”
আরও পড়ুন: দিঘার মৎস্যবাজারে ইলিশের জোয়ার, এবার কি কমবে দাম?
এর পরেই শুরু হয় এক ঐতিহাসিক ও অলৌকিক লড়াই। অনেকেই মনে করেন, এত দ্রুত ও বিশাল পরিমাণ ওজন কমানো হয়তো কোনো সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের কামাল। কিন্তু সব গুজব একপাশে সরিয়ে আদনান Adnan Sami স্পষ্ট জানিয়েছেন, এতে কোনো জাদুকরী ‘অস্ত্রোপচার’ ছিল না; ছিল কেবল হাড়ভাঙা খাটুনি আর জীবনযাপনের কড়া শৃঙ্খলা।
খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন এবং নিয়মিত কঠোর শরীরচর্চা—এই দুটি সাধারণ অস্ত্রকে সম্বল করেই যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েন তিনি। তবে লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। দিনের পর দিন রক্ত জল করা পরিশ্রমের পর যখন স্কেলে মেপে দেখা যেত মাত্র ৫০০ গ্রাম ওজন কমেছে, তখন চরম হতাশা গ্রাস করত। কিন্তু প্রতিবারই মনের ক্যানভাসে ভেসে উঠত বাবার সেই ভেজা চোখের মুখ। সেই স্মৃতিই আদনানের Adnan Sami ভিতরের নিভে আসা আগুনকে বারবার দ্বিগুণ জোরে জ্বালিয়ে তুলত।
আরও পড়ুন:জানুন নিজের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাসের গোপন রহস্য

অবশেষে সেই অদম্য জেদ আর মানসিক শক্তির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় মরণব্যাধি স্থূলতা। দেখতে দেখতে নিজের শরীর থেকে পুরো ১২০ কেজির বিশাল বোঝা খসিয়ে ফেলেন আদনান সামি Adnan Sami। ২৩০ কেজির এক অসুস্থ শরীর থেকে বেরিয়ে আসেন এক নতুন, ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত মানুষ।

আজকের দিনে আদনান সামির Adnan Sami এই চোখধাঁধানো রূপান্তর কেবল ফিটনেস ভালোবাসাদের জন্যই প্রেরণা নয়, বরং যারা জীবনে চরম হতাশায় ডুবে গেছেন, তাঁদের জন্য এক আলোর দিশারী। আদনানের এই জয়যাত্রা প্রমাণ করে দেয়—ইচ্ছাশক্তি যদি পাহাড়সম দৃঢ় হয়, আর সাথে যদি থাকে প্রিয়জনকে দেওয়া এক খাঁটি অঙ্গীকার, তবে মৃত্যুর মুখ থেকেও নতুন জীবন ছিনিয়ে আনা সম্ভব!



