শরীরটা দিব্যি চলছে। জ্বর নেই, ব্যথা নেই, বড় কোনও অসুখও ধরা পড়েনি। তবু সকাল থেকেই মনটা কেমন খারাপ (Mood Off)! কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, ছোটখাটো কথাতেই বিরক্তি, আবার একা থাকলেও ভালো লাগছে না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার? নিজেকেই বোঝাতে পারছেন না—‘আসলে মন খারাপটা কেন?’
এই অনুভূতি একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। জীবনে এমন সময় আসতেই পারে যখন কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মন ভার লাগে। প্রতিদিনের চাপ, কাজ বা পড়াশোনার টেনশন, সম্পর্কের সমস্যা, কোনও ঘটনা নিয়ে দুশ্চিন্তা কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক ক্লান্তি—সবই মেজাজে প্রভাব ফেলতে পারে।
আর এখানে একটা বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ—ঘুম। নিয়মিত ঠিকমতো ঘুম না হলে শুধু শরীর ক্লান্ত হয় না, মেজাজও খিটখিটে হতে পারে। উল্টো দিকে, মন খারাপ থাকলেও ঘুমের ছন্দ নষ্ট হতে পারে। অর্থাৎ, ঘুম আর মনের অবস্থার মধ্যে সম্পর্কটা অনেকটাই দু’দিকের।

আরও পড়ুন – অপ্রতিরোধ্য ভারত! ‘অগ্নি-৪’-এর গর্জনে আরও মজবুত দেশের সুরক্ষাবলয়
তবে সবসময় কারণটা শুধুই মানসিক হবে, এমনও নয়। কিছু শারীরিক সমস্যাতেও মেজাজ খারাপ বা অবসন্ন লাগতে পারে। যেমন, থাইরয়েড কম সক্রিয় হলে ক্লান্তি, মনোযোগে সমস্যা এবং লো মুড দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যা (Mood Off) চললে নিজে থেকে কারণ ধরে নেওয়ার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
তবে দু’দিন মন খারাপ হলেই সেটাকে ডিপ্রেশন ভাবারও কারণ নেই। সাধারণত জীবনের ওঠাপড়ায় সাময়িক মন খারাপ হতে পারে এবং তা কয়েক দিন বা কিছু সময়ের মধ্যে কমেও যায়। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন, দিনের বেশিরভাগ সময়, অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে মন খারাপ থাকা বা আগে ভালো লাগত এমন কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, সঙ্গে ঘুম, খাওয়া, মনোযোগ বা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
আরও পড়ুন – এক রাতে সূর্যগ্রহণ-উল্কাবৃষ্টির ডাবল সারপ্রাইজ!
তাই ‘কিছু হয়নি, তবু মন খারাপ (Mood Off)’ বলে বিষয়টা উড়িয়ে দেবেন না। নিজের ঘুম, দৈনন্দিন চাপ, সম্পর্ক ও মনের অবস্থার দিকে একটু খেয়াল করুন। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে পরিবারের বিশ্বাসযোগ্য কাউকে জানিয়ে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য-পেশাদারের সঙ্গে কথা বলাই বুদ্ধিমানের কাজ।মনও শরীরের মতোই যত্ন চায়—এটা দুর্বলতা নয়।



