“সারাদিন তো ভীষণ ব্যস্ত (Busy) ছিলাম!”—এই কথাটা আমরা কমবেশি সবাই বলি। কিন্তু একটা কথা ভেবে দেখেছেন? সারাদিন ব্যস্ত থেকেও যদি দিনের শেষে মনে হয়, ‘আসলে করলামটা কী?’—তাহলে কি সত্যিই আপনি Productive?
ধরুন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন। মেসেজের উত্তর, মেল চেক, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটু চোখ রাখা, তারপর কাজ। কাজ করতে করতেই ফোন বেজে উঠল। একটা মেসেজের উত্তর দিতে গিয়ে আরেকটা কাজ শুরু। এর মধ্যে মিটিং, ফোনকল, ছোটখাটো নানা কাজ। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা!
তারপর মনে হল—“আজ তো কিছুতেই সময় পেলাম না!” আসলে এখানেই রয়েছে Busy আর Productive হওয়ার পার্থক্য। কেমন পার্থক্য ?
আরও পড়ুন – মৃত্যুকে হারিয়ে অবিশ্বাস্য জয়!
সারাক্ষণ কিছু না কিছু করলেই Productivity বাড়ে না। সহজ করে বললে, সারাদিন কতক্ষণ ব্যস্ত ছিলেন সেটা Productivity নয়; বরং সেই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কতটা কাজ করতে পেরেছেন, সেটাই Productivity। যেমনঃ

৫ ঘণ্টা ফোন, মেসেজ ও ছোটখাটো কাজে ব্যস্ত থাকা → Busy
২ ঘণ্টা মন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করা → Productive
তাই “বেশি কাজ” আর “ভালোভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা”—এক জিনিস নয়।
আর একটা বড় সমস্যা হল Multitasking। একসঙ্গে অনেক কাজ করতে পারলে নিজেকে বেশ efficient মনে হতে পারে। কিন্তু মস্তিষ্ক যখন বারবার এক কাজ থেকে অন্য কাজে যায়, তখন মনোযোগ নষ্ট হয় এবং কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগতে পারে।
ধরুন, আপনি পড়তে বসেছেন। তার মধ্যেই ফোনে নোটিফিকেশন, বন্ধুর মেসেজ, ই-মেল—প্রতিবার মন অন্যদিকে গেল। কাজ বন্ধ হয়নি ঠিকই, কিন্তু মনোযোগটা বারবার ভেঙেছে। ফলে একই কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগতে পারে।
আবার সবসময় মিটিং, চ্যাট বা মেসেজে ব্যস্ত থাকাও যে Productive হওয়ার প্রমাণ, তা নয়। আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি যদি পিছিয়েই থাকে, তাহলে সেই ব্যস্ততার লাভ কতটা? Microsoft-এর Work Trend Index-এর তথ্যেও দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের চাপ এবং মিটিংয়ের আধিক্য অনেকের মনোযোগের সময় কমিয়ে দিচ্ছে। ২০২৩ সালের সমীক্ষায় ৬৮% মানুষ জানিয়েছিলেন, কাজের দিনে তাঁদের পর্যাপ্ত uninterrupted focus time নেই। আমেরিকান Psychological Association-ও multitasking-এর এই ‘switching cost’-এর কথা উল্লেখ করেছে।
তার মানে কি একসঙ্গে দুটো কাজ করলেই বিপদ? একেবারেই নয়। কিছু সহজ কাজ পাশাপাশি করা সম্ভব। কিন্তু যে কাজের জন্য গভীর মনোযোগ দরকার, সেখানে বারবার মন বদলানো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তাই দিনের শুরুতেই ঠিক করে নিন — আজ কোন ১–২টি কাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? আগে সেগুলো শেষ করার চেষ্টা করুন। কাজের সময় ফোনের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার বদলে একটা কাজ শেষ করে পরের কাজে যান। আর মাঝেমধ্যে ছোট বিরতিও নিন।
আরও পড়ুন – ইস্টবেঙ্গলে আসছেন না রাউল, এএফসিতে নেই নাচো
তাই আজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে নিজেকেই একটা প্রশ্ন করুন— “আজ আমি শুধু ব্যস্ত ছিলাম, নাকি সত্যিই কিছু এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি?”



