প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পোশাক বরাবরই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করে Modi Turban। কোট থেকে পাগড়ি—বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানে তাঁর সাজসজ্জা নিয়ে চর্চা নতুন নয় Modi Turban। স্বাধীনতা দিবসেও তার ব্যতিক্রম হল না। এ বার লালকেল্লায় তাঁর সাজে বিশেষ নজর কাড়ল পাগড়ি।
এ দিন মোদির পরনে ছিল দুধসাদা কুর্তা-পায়জামা। তার সঙ্গে বাদামি রঙের হাতকাটা জ্যাকেট। জ্যাকেটের পকেটে গোঁজা ছিল তেরঙ্গা রঙের স্কয়ার। তবে সব ছাপিয়ে নজর কেড়েছে তাঁর মাথার পাগড়ি Modi Turban। লাল ও মেরুন রঙের এই পাগড়িতে ছিল সাদা, হলদে ও সবুজ বিন্দুর নকশা। উজ্জ্বল এই পাগড়িতে ফুটে উঠেছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের ছোঁয়া।
আরও পড়ুন – ক্যালেন্ডারে লাল দাগ! আপনার কাছে ১৫ই আগস্ট মানে কী শুধুই ছুটির আমেজ ?


মোদির পাগড়িটি Modi Turban তৈরি হয়েছে ‘বাঁধনি’ শিল্পকৌশলে। ‘বাঁধনি’ শব্দটির উৎস সংস্কৃত ‘বান্ধি’। সাধারণত সুতি বা রেশমের কাপড়ে এই কাজ করা হয়। কাপড়ের ছোট ছোট অংশ টেনে তুলে সুতো দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর সেটিকে রঙের মধ্যে ডোবানো হয়। বাঁধা অংশে রং ঢুকতে না পারায় তৈরি হয় ছোট ছোট বিন্দু ও নকশা। টাই-অ্যান্ড-ডাই পদ্ধতির এই শিল্পই পরিচিত ‘বাঁধনি’ নামে।
রাজস্থান ও গুজরাটে বাঁধনির কাজের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই ধরনের হস্তশিল্পের পাগড়ি বেছে নেওয়ার মধ্যে দেশের ঐতিহ্য ও কারুশিল্পকে তুলে ধরার বার্তা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে স্বাধীনতা দিবসে মোদির পাগড়ি নিয়ে চর্চা এই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লাল পাগড়ি পরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই পাগড়িতে ছিল সোনালি রঙের নকশা। পরবর্তী বছরগুলিতেও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর পাগড়িতে বারবার উঠে এসেছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ।

আরও পড়ুন – দ্বিতীয়বার মা হলেন পূজা, জন্মের পরেই দেখালেন সদ্যোজাতের মুখ
এ বারও ব্যতিক্রম হল না। ‘বিকশিত ভারত’, যুব প্রজন্ম ও জেন জি-কে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ ভাষণের পাশাপাশি লালকেল্লার মঞ্চে তাঁর উজ্জ্বল বাঁধনি পাগড়িও হয়ে উঠল আলোচনার অন্যতম বিষয়।



